“যিলহাজ্ব মাসের প্রথম দশদিন আমলের শ্রেষ্ঠ সুযোগ”

প্রকাশিত: ৯:৫৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৬, ২০২০

বার মাসে এক বছর, তার মধ্যে চারটি মাস অন্যান্ন মাস থেকে পবিত্র। তিনটি যথাক্রমে যিলকাদ, যিলহাজ্ব ও মুহাররম, আর চতুর্থটি হচ্ছে মুযার গোত্রের (কাছে অতি সম্মানিত) রজব মাস, যা জামাদিউস্‌সানী ও শাবান মাসের মাঝখানে রয়েছে। (বুখারী: ৪৬৬২)

মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের উল্লেখিত আয়াত থেকে বুঝা যায় যে, বছরের বারটি মাসের মধ্যে চারটি মাস হল বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। আর বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সা.) এর হাদীসের বিবরণী থেকে জানা যায় যে, মর্যাদাপূর্ণ চারটি মাসের মধ্য থেকে অন্যতম একটি মাস হল যিলহাজ্ব মাস। ইসলামী শরীয়তে যিলহাজ্ব মাসের প্রথম দশ দিনের গুরুত্ব ও ফজিলত অনেক। আল্লাহ তায়ালা আমাদের জন্য দৈনন্দিনের ইবাদত ছাড়াও ইবাদতের বিশেষ কিছু মৌসুম নির্ধারণ করে দিয়েছেন। বছরের কিছু দিনকে কিছু দিনের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।

যেমনিভাবে তিনি ফেরেশতাদের মধ্য থেকে কিছু ফেরেশতাকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন। মানব জাতির মধ্যে নবী-রাসূলদেরকে সকলের উর্ধ্বে স্থান দিয়েছেন। যমীনের মধ্যে মসজিদসমূহকে প্রাধান্য দিয়েছেন। দিনের মধ্যে শুক্রবারকে পছন্দ করেছেন এবং রাতের মধ্যে লায়লাতুল ক্বদরকে মনোনীত করেছেন। ঠিক তেমনিভাবে যিলহাজ্ব মাসের প্রথম দশ দিনকে বছরের অন্যান্য দিনের উপর অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এই দশ দিনের ইবাদত আল্লাহর নিকট অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক প্রিয়।

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, যিলহাজ্ব মাসের (প্রথম) দশ দিন ছাড়া এমন অন্য কোন দিন নেই, যেদিনের নেক আমল আল্লাহর নিকট অধিক পছন্দনীয়। (বুখারী: ৯২৬)

রাসূল (সা.) এর এই হাদীসের মাধ্যমে এই দশ দিনের গুরুত্ব ও ফজিলত আরো স্পষ্ট হয়ে যায়। তাছাড়া আল্লাহ তায়ালা সূরাহ ফাজরের ২নং আয়াতে এই দিনগুলোর শপথ করেছেন। যা এই দিনগুলোর মর্যাদার প্রমাণ বহন করে। এই দিনগুলোতে সালাত, নফল সিয়াম, কুরবানী এবং হজ্বের মত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতসমূহ রয়েছে। যা এই দশ দিনের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণই বহন করে।

এই দিনগুলোর কিছু আমল: যেমন-

ক. এই দিনগুলোর ফজিলত নেওয়ার দৃঢ় সংকল্প করা।

খ. যিলহাজ্ব মাসের চাঁদ দেখে দোআ করা।

গ. বেশি বেশি ইস্তেগফার করা। অর্থাৎ বিশুদ্ধ অন্তরে পাপসমূহ থেকে তওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে        আসা।

ঘ. কুরবানী দেওয়ার নিয়ত থাকলে এবং যিলহাজ্ব মাসের চাঁদ দেখা গেলে নখ, চুল ইত্যাদি কাটা থেকে বিরত থাকা।

ঙ. বেশি বেশি যিক্‌র করা।

চ. দান-খয়রাত করা।

ছ. নফল সিয়াম রাখা। বিশেষভাবে আরাফার দিন সাওম রাখা।

এছাড়াও আরো অন্যান্য নিয়মিত ইবাদত করা যেতে পারে। কারণ- যিলহাজ্ব মাসের প্রথম দশ দিন সওয়াব অর্জনের বিশেষ একটি মৌসুম। অতএব এই দিনগুলোতে আমাদেরকে বেশি বেশি নেক আমল করতে হবে। আল্লাহ আমাদের তাওফীক দিন। আমীন

সংকলনে: ডা: এ.বি. সিদ্দিক ,আল- শেফা জেনারেল হাসপাতাল (প্রাঃ), জামে মসজিদ, কমলপুর।


Categories