যশোরের চাঞ্চল্যকর রাকিব হত্যা মামলার আত্মগোপনে থাকা হত্যাকারীদের গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৬ ।

প্রকাশিত: ৮:২২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৪, ২০২১
মোঃ মিজানুর রহমান খুলনা প্রতিনিধি

যশোরের চাঞ্চল্যকর রাকিব হত্যা মামলার আত্মগোপনে থাকা হত্যাকারীদের গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৬ ।

১। র‌্যাব-৬, তার প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই অবৈধ অস্ত্র গোলাবারুদ উদ্ধার, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, খুনী, ছিনতাইকারী, অপহরণকারী, প্রতারকচক্র, মানব পাচারকারীদের গ্রেফতার এবং মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে জনগনের বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করেছে।
২।  এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-৬ (যশোর ক্যাম্প) এর একটি চৌকশ আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে জানতে পারে যে, গত ১৭/১২/২০২১ তারিখ সন্ধ্যা অনুমান ০৬.৩০ ঘটিকার সময় ভিকটিম আব্দুর রহমান রাকিব (২৮) বাসা থেকে বের হয়ে যশোর জেলার কোতয়ালী মডেল ধানাধীন হুশতলা কবরস্থানের দক্ষিণপাশে বিশের মোড়ে জনৈক শহিদুলের চটপটির দোকানের ২০০ গজ দক্ষিণে কাঁচা রাস্তার উপর এজাহারনামীয় আসামীরা সহ অজ্ঞাতনামা আসামীরা ভিকটিমকে ডেকে নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে ভিকটিমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে চাকু মারিয়া রক্তাক্ত গুরুতর জখম করে।
ভিকটিমের ডাক চিৎকারে আশে পাশের লোকজন এগিয়ে আসলে ভিকটিম তাদের জানায় ১নং আসামী সবুজ তার হাতে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে ভিকটিমের ডান পায়ের উরুর উপরে আঘাত করে, ৪নং আসামী আওয়াল তার হাতে থাকা ধারালো চাকু দিয়া ভিকটিমের ডান পায়ের উরুর বাহিরে আঘাত করে, ২নং আসামী শান্ত তার হাতে থাকা ধারালো চাকু দিয়া ভিকটিমের বাম পায়ের হাটুর উপরে আঘাত করে, ৫নং আসামী সজিব তার হাতে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে ভিকটিমের নিতম্বের বাম পাশে আঘাত করাসহ আন্যান্য আসামীরাসহ অজ্ঞাতনামা আসামীরা ভিকটিমকে এলাপাথারীভাবে মারপিটসহ গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে আসামীরা পালিয়ে যায়।
সংবাদ পেয়ে ভিকটিমের আত্নীয়-স্বজনসহ স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে ভিকটিমকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভিকটিমকে মৃত ঘোষণা করে। এ সংক্রান্তে ভিকটিমের চাচা হাফিজুর রহমান বাদী হয়ে যশোর কোতয়ালী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। যার মামলা নং-৪৫, তারিখঃ ১৮/১২/২০২১ইং, ধারাঃ ৩০২/৩৪ পেনাল কোড। উক্ত মামলাটি র‌্যাব-৬ (যশার ক্যাম্প) এর একটি চৌকশ আভিযানিক দল ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং এজাহারনামীয় পলাতক ও অজ্ঞাতনামা আসামীদের গ্রেফতার করতে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রাখে।
৩।  এরই প্রেক্ষিতে ২২ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখ ২২.৩০ ঘটিকার সময় র‌্যাব-৬ (যশোর ক্যম্প) এর একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যশোর জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে আসামী ১। মোঃ মানিক(২০), পিতাঃ মোঃ আবুল হোসেন গাজী, সাং- রতনপুর, থানা- কালিগঞ্জ, জেলা- সাতক্ষীরা,এপি/ সাং- নাজিশংকরপুর, ২। মোঃ আজিজুল হোসেন(২২) @ হিটার আজিজ, পিতাঃ মোঃ রুস্তম আলী, সাং- কামালপুর, থানা- মনিরামপুর, এপি/ সাং- সিটি কলেজ পাড়া বউ বাজার ৩নং গলি কলোণী,  ৩। মোঃ  বাধন(১৯), পিতাঃ মোঃ সাজ্জাদুল ইসলাম জনি, সাং- সিটি কলেজ পাড়া বউ বাজার ৩নং গলি কলোণী,
৪। মোঃ ইমন শেখ(২১)@ শুটার ইমন (এজাহারনামীয় পলাতক আসামী), পিতাঃ মোঃ আকরাম শেখ, সাং- নীলগঞ্জ তাতীপাড়া, ৫। অনিন্দ্র নায়েক দেবা (২০), পিতাঃ দিলিপ নায়েক, সাং- শেখ রাসেল চত্তর আশ্রম রোড়, ৬। মোঃ ইসা মীর(১৯), পিতাঃ বাবু মীর, সাং- আশ্রম রোড়, ৭। মোঃ তরিকুল ইসলাম(১৯), পিতাঃ মোঃ জলিল হোসেন,সাং- মুড়োলী রোড়, ৮। মোঃ সোহাগ মুন্সি(২০), পিতাঃ মৃত রাজ্জাক মুন্সি,সাং- নীলগঞ্জ, ৯। মোঃ ইশান হোসেন(১৮), পিতাঃ মোঃ কবির হোসেন, সাং- জুমজুমপুর, সর্ব থানা ও জেলা- যশোরদেরকে গ্রেফতার করে।
র‍্যাব-৬ (যশোর ক্যাম্প) এর একটি আভিযানিক দল ঘটনাস্থল হতে হত্যার কাজে ব্যবহৃত ছুরি, চাকু ও পাইপ এবং গ্রেফতারকৃত আসামী আজিজুলের বাসা থেকে হত্যার সময় ব্যবহৃত চাকু রক্ত মাখা অবস্থায় উদ্ধার করে। হত্যাকান্ড সংঘটিত হওয়ার পর হতেই উক্ত হত্যাকারীরা নিজেদের আত্মগোপন করে। জনমনে আতংক দূর করতে ও হত্যাকারীদের গ্রেফতারে র্যা ব-৬ সিপিসি-৩, যশোর গোয়েন্দা তৎপরতা জোরালো করে। এরপর এক এক করে উল্লেখিত ০৯ (নয়) জন আসামীকে গ্রেফতার করে এবং অন্যান্য পলাতক আসামীদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলমান রেখেছে। র‌্যাবের অব্যাহত অভিযানের ফলে জনমনে স্বস্তি ফিরে আসে এবং র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-৬, খুলনা, সিপিসি-৩ যশোর এর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্মান অটুট রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
৩। গ্রেফতারকৃত আসামীদের যশোর কোতয়ালী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হবে।

Categories