মৌলভীবাজারে স্কুল শিক্ষকের মৃত্যুতে বিভিন্ন মহলের শোক প্রকাশ।

প্রকাশিত: ৯:৩১ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৯, ২০২০

সাইফুল ইসলাম, শ্রীমঙ্গল,মৌলভীবাজার।
বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরামের মৌলভীবাজার জেলা শাখার উপদেষ্টা, ধোবারহাট বাজার উচ্চ বিদ্যালয়, শ্রীমঙ্গল এর সিনিয়র শিক্ষক হাজী মাওলানা মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন স্যার গত ৮ ই জুলাই রাত ২ ঘটিকার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সিলেট উসমানী হাসপাতালে মৃত্যু বরণ করেন। উনার মৃত্যুতে বিভিন্ন শ্রেনী পেশাজীবি সংগঠনের মতো মৌলভীবাজার জেলার শিক্ষক সমাজে শোক নেমে আসে। স্যারের নিজ বাড়ি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কাকাবলা ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামে গিয়ে দেখতে পাই স্যারকে শেষ বার দেখতে হাজার হাজার মানুষের সমাগম উপস্থিতি । উনার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে মরহুমের লাশ দেখতে উনার বাড়িতে আসেন বাংলাদেশবেসরকারিশিক্ষককর্মচারী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি বাবু বিপ্লব কান্তি দাস। পরিবারের সবার খোঁজ খবর নেন এবং গভীর সমবেদনা জানান। উপস্থিত জনতার সামনে কান্ন জড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, “যে কয়েকজন শিক্ষকের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে মৌলভীবাজার জেলায় ফোরামের সাংগঠনিক অবস্থা আজ শক্ত কাঠামোর উপর দাড়িয়ে আছে তাদের মধ্যে নাসির উদ্দীন স্যার ছিলেন অন্যতম। জেলায় বসবাস করলেও নিয়মিত কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথ ফোনে যোগাযোগ রাখতেন। বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা মূলক পরামর্শ দিতেন। তিনি উল্লেখ করেন বেসরকারি স্কুল জাতীয়করণ আন্দোলনে তিনি প্রায়ই আর্থিক সহযোগিতা করতেন। ” উপস্থিত শ্রীমঙ্গল উপজেলার শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি, কাকিয়া বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব নোমান আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, ” নাসির উদ্দিন স্যার ছিলেন একজন শিক্ষক নিবেদিত প্রাণ। যখনই কোথাও কোনো শিক্ষকের সমস্যার কথা শুনতেন সাথে সাথে আমাকে ফোন দিতেন। সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তিনি ঐ শিক্ষকের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রাখতেন। পরামর্শ ও সাহস দিতেন।” পাশেই ছিলেন মরহুমের স্কুলের প্রধান শিক্ষক কৃপেশ চদ্র দেব। কান্না জড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, “আমরা আজ আমাদের সহকর্মী , ভাই এবং স্কুলের একজন অভিভাবক হারালাম । তিনি ছিলেন আমার স্কুলের একজন মেধাবী ও দক্ষ শিক্ষক। জানিনা এই ক্ষতি কিভাবে পূরণ করবো।” উপস্থিত স্কুলের শিক্ষানুরাগী সদস্য হুমায়ুন কবির সাহেব স্যারের গুন কীর্তন করতে গিয়ে বলেন,” নাসির উদ্দিন স্যার ছিলেন আমাদের এলাকার গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের অভিভাবক। তিনি সর্বদা এলাকার শিক্ষার্থীদের খোঁজ খবর রাখতেন। স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র ও বর্তমান জেলা ছাত্রলীগের নেতা হৃদয় খান বলেন, ” মৌলানা স্যার আমাদেরকে আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি সর্বদা ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার উপদেশ দিতেন। প্রায়ই শিক্ষার্থীদের বাড়িতে গিয়ে পড়াশোনার তদারকি করতেন।”


Categories