“মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি প্রদানের পরিকল্পনা- শিক্ষকদের ভোগান্তি  আরো বাড়াবে”

প্রকাশিত: ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২, ২০২০

মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি প্রদানের পরিকল্পনা- শিক্ষকদের ভোগান্তি  আরো বাড়াবে-   মোঃ আবদুর রহমান।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা ও  অর্থ মন্ত্রণালয়ের কতিপয় কর্মকর্তা আধুনিক প্রযুক্তি মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি প্রদানের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন বলে সোস্যাল মিডিয়ায় অনেক তোলপাড় হচ্ছে।

ফেসবুকের কল্যানে জানতে পারলাম যে বেসরকারি শিক্ষকদের বেতন ভাতা মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে প্রদান করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। স্বীকার করছি উন্নত দেশগুলোতে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে নিত্য প্রয়োজনীয় অনেক কাজই করা হচ্ছে। কিন্তু শিক্ষকদের বেতন-ভাতাদি নয়। আমরাও নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক কাজ করছি। কিন্তু সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথে বৈষম্য সৃষ্টি করে বেসরকারি শিক্ষকদের বেতনের ক্ষেত্রে কেন এতটা ডিজিটাল হতে হচ্ছে? কার স্বার্থে এই বৈষম্য সৃষ্টি করা হচ্ছা?

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর কাছে অনুরোধ স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় ও অধিদপ্তরের মত শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকেও সাহেদদের  খুঁজে বের করুন।

আমরা ৫ লক্ষ বেসরকারি শিক্ষক মনেকরি, ব্যাংকের গড়িমসি ও কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে বেসরকারি  শিক্ষকদের বেতন ভাতা পেতে এবং উত্তোলন করতে মাসের প্রায় অর্ধেক সময় কেটে যায়। এ ভোগান্তি দুর করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনা ও আন্তরিকতাই যথেষ্ট। যারা গড়িমসি করেন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে। গড়িমসি যে উপর থেকে হচ্ছে শুধু তাই নয় ; অনেক সময় প্রতিষ্ঠানের অবহেলা ও  অনেক বিলম্বে বিল জমা দেয়া হয় অনেক যায়গায়। এই যদি হয় অবস্থা, ক্ষমতার অপব্যবহার  তাহলে উর্ধতন আমলাদের ক্ষমতা যে কি তা মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন ছাড়া কেউ জানেন না!

আধুনিক সমাজের তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণ ও ব্যবহারকারী আমরা সাধারণ শিক্ষক ও নাগরিক।  পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবনে মোবাইল ব্যাংকিং এর সুবিধা অস্বীকার করার সুযোগ আমাদের কারোরই নেই। তবে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি প্রদানে আমাদের শিক্ষকদের জন্য যে সমস্যাগুলো হবে তা বিবেচনায় নিয়ে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়কে মোবাইল ব্যাংকিং নয় বরং শিক্ষকদের  স্ব স্ব ব্যাংক একাউন্টেই মাসের ১ তারিখের মধ্যে বেতন ভাতা প্রদানের বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে বেতন প্রদানে যেসব সমস্যা হতে পারে

১। সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ২০০ কোটি টাকা।

২। দোকানদার থেকে বেতন নিতে বেসরকারি শিক্ষকগণ অত্যন্ত অসম্মানিত ও হেয় প্রতিপন্ন হবেন।

৩। শিক্ষকদেরকে প্রতি হাজারে  ২০/=টাকা করে চার্জ প্রদান করতে হবে।

৪। সরকারি ও বেসরকারি  শিক্ষকদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি হবে।

৫। কেউ কেউ সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অপপ্রয়াস চালাতে পারে।

৬। তিনবারের অধিক ভুল পিনকোড চাপলে একাউন্ট লক করে দেওয়া হবে।

৭।  কোন কারণে মোবাইলটি চুরি, সিমকার্ড নষ্ট কিংবা  হারিয়ে গেলে টাকা উত্তোলনে ভোগান্তি আরও বাড়বে।

৮।  বয়স্ক শিক্ষকদের ক্ষেত্রে তাঁকে অনেক ঝামেলা পোহাতে হবে।

৯। বিকাশের টাকা চুরির মত প্রতারক চক্র তখন শিক্ষকদের পিন নাম্বার চুরি করে টাকা হাতিয়ে নিয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে নিরাপত্তার অভাব রয়েছে।

১০৷ লক বা অন্যকোন কারিগরি সমস্যার কারণে বেতন উঠাতে না পারলে যাবতীয় প্রমাণাদি নিয়ে শিক্ষা বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে দাখিল করতে হবে।

১১। অনেক শিক্ষক ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার অতিরিক্ত খরচ মেটাতে, ছেলে মেয়ের বিয়ে-শাদি, ঘরবাড়ি তৈরির জন্য অথবা সংসারের অন্য কোন প্রয়োজনে বেতনের বিপরীতে ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে থাকেন। যা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

১২। যারা ব্যাংক থেকে বেতনের বিপরীতে ইতোমধ্যে লোন উত্তোলন করেছেন তাদের অনেকেরই বেতন থেকে ব্যাংক লোনের কিস্তি কেটে নেয়। মোবাইলে ব্যাংকে বেতন আসলে শিক্ষকদের সেই ব্যাংকেই যেতে হবে।

১৩। সকল দোকানে সবসময় ১০/২০/৩০/৪০ হাজার টাকা প্রদানের সামর্থ্য থাকে না।

আমরা ৫ লক্ষ  শিক্ষক  মনে করি, শিক্ষদের মধ্যে বৈষম্য, অনৈক্য ও সরকারকে বিতর্কিত করতেই একটি মহল অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তাই মানবতার মা সর্বজন শ্রদ্ধেয়, বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন আপনারা এই অপপ্রচেষ্টা প্রতিহত করুন ও শিক্ষক সমাজের সম্মান রক্ষা করুণ।

জয় বাংলা   জয় বঙ্গবন্ধু।    শিক্ষকদের জয় হোক।

মোঃ আবদুর রহমান,   উপাধ্যক্ষ

রোকনউদ্দিন মোল্লা গার্লস ডিগ্রী কলেজ, আড়াই হাজার, নারায়ণগঞ্জ।,


Categories