মেঘনার ভাঙ্গনের কবলে সরাইল উপজেলার পানিশ্বর গ্রাম

প্রকাশিত: ৫:০৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০২০

মো.আশরাফুল লতিফ (তুহিন), ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের ”পানিশ্বর” নামকরণ নিয়ে তেমন কোন লিখিত ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায়না।তবে যতটুকু জানা যায়, মুঘল শাসনামলে বারো ভূঁইয়াদেরকে প্রতিরোধের জন্য সরাইলের পশ্চিমে মেঘনা নদীতে বিশাল মুঘল বাহিনী নৌবহর নিয়ে অবস্থান নেয়। রাতে মুঘলবাহিনীর রণতরীগুলোতে জ্বলে উঠত অসংখ্য বাতি। আশপাশের এলাকার লোকজন দেখতেন রাতের আঁধারে পানির উপর ভেসে আছে ঝলমলে এক ভাসমান শহর। ধারনা করা হয়, এভাবেই পানির শহর তথা ‘পানিশ্বর’ নামকরণ হয়েছে। অত্র অঞ্চলটি একটা সময় দেশের পূর্বাঞ্চলের নৌ-পথের ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার হত। আর ঐতিহ্যবাহী এই অঞ্চলটি এখন  অবহেলায় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

প্রতি বছর বর্ষাকালে শুরুতেই  নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ছে এই পানিশ্বর অঞ্চলটি। । শতশত পরিবার নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে এখন আশ্রয়হীন। পানিশ্বর মেঘনা নদীর তীর কেন্দ্রিক গড়ে উঠা চাতাল মিলগুলোও আজ বিলুপ্তির পথে। অথচ আশুগঞ্জ থেকে আজবপুর পর্যন্ত নদী রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হলে নদী ভাঙ্গনের কবল থেকে মুক্তি পেত অত্র এলাকার মানুষ।পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র সহ গড়ে উঠতো বিভিন্ন শিল্পকারখানা। হতে পারতো একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চল।

পানিশ্বেরর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, এই এলাকাটিতে যাতায়তের জন্য একই সাথে সড়ক ও নদী পথ ব্যবহার করা যায়, এমন জায়গা দেশে সীমিত।

পানিশ্বরে সড়ক এবং নদী পথের সমন্বয়ে গড়ে উঠতে পারে নতুন বন্দর। প্রয়োজন শুধু মাত্র সংশ্লিষ্ট বিভাগ/মন্ত্রণালয়সহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ।

স্হানীয় বাসিন্দারা জানান,পানিশ্বর বাজার সংলগ্ন একটা হিন্দু পাড়া ছিল, যার নাম ছিল পাল পাড়া। এই পাড়াটির প্রায় ৯০ শতাংশ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

 বিষয়ে পানিশ্বরের বাসিন্দা ব্যাংক কর্মকর্তা মোঃ বদিউজ্জামান বাদল জানান, যে ভাবে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে, তাতে পানিশ্বরের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে কি না, এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এমতাবস্থায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আকুল আবেদন অত্র অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রানের দাবি আশুগঞ্জ থেকে আজবপুর পর্যন্ত নদী রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা। যার মাধ্যমে অত্র অঞ্চলের মানুষ নদী ভাঙ্গনের কবল থেকে মুক্তি পাবে এবং পর্যটন কেন্দ্রর পাশাপাশি গড়ে উঠবে বিভিন্ন শিল্প কারখানা। যা দেশের পূর্বাঞ্চলের জন্য সম্ভবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করে দিবে বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।