মুজিব বর্ষকে স্মরণীয় করতে শিক্ষাব্যবস্থাকে জাতীয়করণের জোর দাবি।

প্রকাশিত: ৭:১৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ৪, ২০২০

দেশ যখন করোনার আঘাতে দিশেহারা,মৃত্যুর মিছিলে যখন প্রতিদিন যুক্ত হচ্ছে আত্মীয় পরিচিত বন্ধু-বান্ধবের নামের তালিকা, শিহরিত হচ্ছে প্রতিটি মানুষের হৃদয়,দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য গ্রহণ করা হচ্ছে নতুন নতুন কর্মপরিকল্পনা,ঘোষিত হচ্ছে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট, পরিকল্পনা চলছে প্রতিটি নাগরিকের আগামী দিনের পথ চলার উপায়। শুধু বঞ্চিত রাখা হচ্ছে মানুষ গড়ার কারিগর, বেসরকারী শিক্ষকদেরকে যাদের অবদান দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ৯৭%।

শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার বলা হলেও বাস্তবে তার বাস্তবায়ন নাই বললেই চলে। শিক্ষা জাতীয়করণে শিক্ষকদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা পাবে ঠিকই কিন্তু তার থেকেও বড় প্রাপ্তি হবে এদেশের নাগরিক অধিকার। উপকৃত হবে দরিদ্র জনগোষ্ঠি,বৈষম্য মুক্ত হবে গ্রাম শহরের শিক্ষার পরিবেশ, সর্বোপরি বৈষম্য থেকে মুক্ত হবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা।

শিক্ষানীতি আসে, শিক্ষানীতি যায়, বাস্তবায়ন আর হয় কত %? যদি বাস্তবায়ন করা সম্ভব না হয়, তাহলে কেনো এই প্রহসনের শিক্ষানীতি করা হয় ? শিক্ষা নীতির যে সকল নীতিগুলো অর্থ ছাড়াই বাস্তবায়ন করা সম্ভব সে সব নীতিমালাও কেনো বাস্তবায়নে গড়িমসি? কেনো এত বাধা?

বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলীর ব্যবস্থা যেখানে একটি মাত্র পরিপত্রের মাধ্যমেই সম্ভব,তবুও কেনো কালক্ষেপন করা হচ্ছে?

উৎসব পালন করা প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার , দেশের প্রতিটি চাকুরীজীবি যেখানে শত ভাগ উৎসব ভাতা পেয়ে থাকেন সেখানে শিক্ষকরা কেনো শতভাগ পাবেন না? বিএনপি এর আমলে চালুকৃত ২৫% ঈদ বোনাস শিক্ষকদের জন্য খুবই লজ্জার। ঈদুল আযহার আগেই পূর্ণাঙ্গ ঈদ বোনাস প্রদান করে শিক্ষকদের মান মর্যাদা সমুন্নত করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।

শিক্ষকদের বাড়ি ভাড়া কেনো ১০০০ টাকা হবে? কেনো প্রজাতন্ত্রের প্রতিটি চাকিরীজীবির মত হবে না?সকল সরকারী চাকুরীজীবি যে নিয়মে বাড়িভাড়া পায় সেই নিয়মে শিক্ষকদেরকেও বাড়িভাড়া দিন। আর কতকাল অপেক্ষায় থাকবে মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষক সমাজ?

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতার জন্ম শত বার্ষিকী চলছে। মুজিববর্ষকে স্মরনীয় করে রাখতে দেশের বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নত ও যুগোপযোগী করতে সকল শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের অতি প্রয়োজন।

শিক্ষকদের রয়েছে বেতন গ্রেডের বৈষম্য,অনুপাত প্রথার কালোনীতি, বাজে সিস্টেমে প্রভাষকরা জর্জরিত।

কি চমৎকার নীতিমালা!

একই স্কেলে একই দিন একই যোগ্যতায় নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে ৮বছর পর কেউ ৯ম গ্রেড হতে ৬ষ্ঠ গ্রেডে অর্থাৎ ৩৫৫০০টাকায় উন্নয়ণ হবে। আর কেউ ১০বছর পর ৯ম গ্রেড হতে ৮ম গ্রেডে অর্থাৎ ২৩০০০টাকায় উন্নয়ণ হবে। একজনের ৮বছরে বেতন বৃদ্ধি পাবে ১৩৫০০টাকা, অন্যজন একদিন পরে জন্মগ্রহণ করার কারণে ১০বছর পর বেতন বৃদ্ধি পাবে মাত্র ১০০০টাকা!!

দেশের সকল চাকুরীজীবি চিকিৎসা ভাতা পেয়ে থাকেন ১৫০০ টাকা। আর দেশ গড়ার কারিগর পেয়ে থাকেন মাত্র ৫০০ টাকা। এতো বৈষম্য কেনো? কাদের স্বার্থে ? এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের চক্রান্ত চলছে নাতো ?

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে একটি ধারায় আনতে না পারলে আগামী দিনে এদেশের শিক্ষব্যবস্থার কী যে বেহাল দশা হবে তা বলার অবকাশ রাখে না। শিক্ষাব্যবস্থাকে সরকারী এবং বেসরকারী ধারায় বিভক্ত না করে সকল শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের ঘোষণা করার সময় এখনই।

শিক্ষাব্যবস্থাকে আকর্ষনীয় উন্নত, যুগোপযোগী করতে জাতির জনকের লালিত স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে,স্বাধীনতার সূবর্নজয়ন্তী এবং মুজিব বর্ষকে স্মরনীয় করে রাখতে সকল শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের বিকল্প নেই। এদেশে চৌকিদারদের চাকুরি জাতীয়করণ হলেও অভাগা বেসরকারি শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণ হয় না!!!

সকল বৈষম্য থেকে শিক্ষাব্যবস্থাকে মুক্ত করতে একযোগে জাতীয়করণের ঘোষণা দিতে মাদার অব হিউম্যানিটি ( মানবতার মা)মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিনীত ভাবে অনুরোধ করছি।

মোঃ মনিরুল ইসলাম
আরবি প্রভাষক,
চান্দেরচর দারুল ইসলাম আলিম মাদ্রাসা।
হোমনা, কুমিল্লা।


Categories