ঢাকা, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ৩রা রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

মুজিব বর্ষে শ্রীনগরে আশ্রয় পেল ৭০ টি ভূমিহীন পরিবার


প্রকাশিত: ৮:১১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৩, ২০২১

প্রদীপ কুমার সাহা : (শ্রীনগর, মুন্সীগঞ্জ)
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে মুজিব শতবর্ষ পালন করছে সরকার। বছরটিকে স্মৃতিময় ও স্মরনীয় করে রাখতে জাতির পিতার সুযোগ্য উত্তরসূরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে গৃহ ও ভূমি দেয়ার কর্মসূচী বাস্তবায়ন করছে। মুজিববর্ষ উপলক্ষে সরকারের পক্ষ থেকে ভূমি ও ঘর সরবরাহের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে শনিবার সকালে আশ্রয়ন- ২ প্রকল্পের আওতায় সারাদেশের ন্যায় মুন্সীগঞ্জে ও ৫০৮ টি ভূমিহীন পরিবারের মাঝে ভূমি ও গৃহ বিতরন কার্যক্রম উদ্ভোধন করা হয়েছে।
সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি এ উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করেন। সরকারের এই উদ্যোগ বিশ্বের ইতিহাসে নতুন সংযোজন বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। মুজিববর্ষ উপলক্ষে সরকারের গৃহীত এ পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ইতিহাসে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করতে সক্ষম হলেন।
উপকার ভোগীদের মধ্যে যাদের জমি আছে , তারা শুধু ঘর পাবে। আর যাদের জমি নেই তারা ভূমি ও গৃহ পাবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে থাকা আশ্রয়ন প্রকল্প- ২ এই কাজ করছে। কোথাও এদের নাম দেয়া হচ্ছে স্বপ্ননীড় , কোথাও আবার শতনীড়, কোথাও বা মুজিব ভিলেজ।
“আশ্রয়নের অধিকার,শেখ হাসিনার উপহার” এ শ্লোগানকে সামনে রেখে
আশ্রয়ন -২ প্রকল্পের আওতায় শ্রীনগরের ৭০ টি ভূমিহীন পরিবার পাচ্ছে দুই শতক করে জমি এবং এক ইউনিটের একটি বাড়ি। বাড়িগুলোর প্রতিটি ইউনিটে দুটি কক্ষ,একটি রান্নাঘর, ১টি টয়লেট এবং বারান্দা রয়েছে। যা নির্মানে ব্যয় হয়েছে ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা । এ সকল বাড়ির সবগুলোই নির্মিত হয়েছে সরকারি খাস জমিতে। শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়ীখাল ইউনিয়নে ১৫ টি পরিবার, শ্রীনগর ও আটপাড়া ইউনিয়নে ১০ টি করে পরিবার, কুকুটিয়া, বাঘড়া, ভাগ্যকুল, বাড়ৈখালী ইউনিয়নে ৭ টি করে পরিবার, হাঁসাড়া ইউনিয়নে ২ টি পরিবার, ষোলঘর ইউনিয়নে ৫ টি পরিবার সহ মোট ৭০ টি ভূমিহীন পরিবার এ প্রকল্পের সুবিধাভোগী।
শ্রীনগর উপজেলার আটপাড়া ইউনিয়নের একজন সুবিধাভোগী সাহিদা বেগম পেশায় গৃহিনী হলেও পেট চলে পরের বাসায় ঝি এর কাজ করে। তিনি স্বামী সন্তান সহ থাকতেন ভাড়া করা কুড়ে ঘরে । গতকাল শুক্রবার তার সাথে কথা হয় আটপাড়ার আশ্রয়ন প্রকল্পে। তিনি বলেন, জীবনে এমন একটা ঘরে থাকবো, তা ভাবতে ও পারিনী। যখন স্থানীয় ভূমি অফিসে আবেদন করলাম তখনও এসব পাব বলে বিশ্বাস করতে পারিনী। ভেবেছিলাম টাকা পয়সা ছাড়া কেউ কী ঘর দেবে? আমি টাকা দেব কোথেকে? কিন্তু আল্লাহর রহমতে স্থানীয় প্রশাসনের আন্তরিকতা এবং প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায় আমার স্বপ্ন আজ সত্যি হলো। এ কথা বলেই তিনি আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।