মুজিববর্ষে জাতীয়করণ চাই এমপিওভুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা; মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সমীপে আবেদন

প্রকাশিত: ৮:০৬ অপরাহ্ণ, জুন ৩০, ২০২০

  শিক্ষা নিয়ে গরব দেশ শেখ হাসিনার বাংলাদেশ। দাবি মোদের একটাই এমপিওভুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ চাই। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানগুলো কে A,B,C,D,ক্যাটাগরি করে পাঁচ সালের কর্মসূচি হাতে নিয়া বাস্তবায়ন করা হোক। তাহলে জাতীয় করণ ঘোষণার মাধ্যমে মুজিববর্ষ স্মরণীয় হয়ে থাকবে ১৭ কোটি মানুষের কাছে তথা সমগ্র বিশ্বে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পর দেশকে সোনার বাংলায় গড়ে তোলার লক্ষ্যে সর্বপ্রথম তিনি শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে উদ্যোগ নেন| সেই লক্ষ্যেই ১৯৭৩ সালে দেশের ৩৭ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করেন| পর্যায়ক্রমে মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে জাতীয়করণের লক্ষ্যে গুরুত্ব আরোপ করেন| বঙ্গবন্ধুর এ পদক্ষেপটি দেশের শিক্ষার ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ হয়ে আছে| তার সুযোগ্য কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশের বেসরকারিভাবে পরিচালিত প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সোয়া ১ লাখ শিক্ষকের চাকুরি জাতীয়করণ করেন| এটাও জাতীয় শিক্ষা ক্ষেত্রে অপর একটি মাইল ফলক| শিক্ষা আমাদের দেশের নাগরিকদের একট মৌলিক। অধিকার| সংবিধানেও গণমুখী, বৈষম্যহীন ও সার্বজনীন শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করার কথা রয়েছে| কিন্তু আমাদের প্রত্যেক শিক্ষা স্তরে সরকারি বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা, শিক্ষক রয়েছে| কিন্তু এক ও অভিন্ন শিক্ষা বিভাগ থেকে দেশের প্রাথমিক, এবতেদায়ী, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, ক্যাডেট ও উচ্চ শিক্ষার সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও পরিচালিত হচ্ছে| এগুলো একই নিয়ম নীতি, সিলেবাস, পরীক্ষা পদ্ধতি, প্রশ্ন পদ্ধতি প্রণীত হচ্ছে| অথচ আর্থিক সুযোগ সুবিধার ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের পার্থক্য বিদ্যমান রয়েছে| সরকার ইতিমধ্যে আরো ২৬ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করলেও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থায় সরকারি বেসরকারি দুটো ভাগে ভাগ হয়ে রয়েছে| দেশের শতকরা ৯৭ ভাগ শিক্ষার্থী বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করছে| আর বেসরকারি শিক্ষকরা এদের পাঠদান করাচ্ছেন| সে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় গুটি কয়েক সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে ব্যাপক সুযোগ সুবিধা প্রদান করে তাদের শিক্ষাদান চলছে| স্বাধীনতার ৪৯ বছরের মাথায় এসেও এ বৈষম্য পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা থাকা ত্ত্বেও কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না| শিক্ষা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, শিক্ষা বিভাগ ও শিক্ষার্থী দেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সরাসরি সম্পৃক্ত| শিক্ষাকে ঢেলে সাজাতে হলে শিক্ষাকে এখন জাতীয়করণের উদ্যোগ নেওয়া সময়ের দাবি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কাছে আশাবাদী এ দেশের ১৭ কোটি মানুষ , শিক্ষকবৃন্দ বৈষম্যমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা, পিতার স্বপ্ন পূরণ শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ ঘোষণা করবেন মুজিব বর্ষে।

মো : তোফায়েল সরকার

যুগ্ম দপ্তর সম্পাধক,

বাংলাদেশে বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম, (কেন্দ্রীয় কমিটি)


Categories