মা-বোনকে আটকের খবরে কিশোরের আত্মহত্যা, এসআই ক্লোজড

প্রকাশিত: ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৭, ২০২০

চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং থানার আগ্রাবাদ বাদামতলী এলাকায় পুলিশের হাতে মা-বোনকে আটকের খবরে মারুফ (১৬) নামের এক কিশোর আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনায় ডবলমুরিং থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. হেলালকে সাময়িকভাবে ক্লোজড করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে মারুফ বাদামতলী এলাকায় তার চাচার ঘরে ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করে। পরে রাতেই এসআই মো. হেলালকে সাময়িকভাবে ক্লোজড করা হয়েছে।

এ ঘটনা তদন্তে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে দুই সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন- ডবলমুরিং জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) ও ডবলমুরিং থানার পরিদর্শক (তদন্ত)। এ কমিটিকে আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে মারুফের আত্মহত্যার বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (পশ্চিম জোন) ফারুক-উল হক বলেন, ডবলমুরিং থানার পুলিশের একটি টহল টিম মারুফকে ধরতে বাসায় গেলে সে পালিয়ে যান। বাসায় তার বোন অসুস্থ হয়ে পড়ে গেলে পুলিশ তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু পরে শুনতে পায় সেখানে এক কিশোর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

তিনি আরও বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। কেন আত্মহত্যা করেছে তা এখনও জানা যায়নি। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

তবে এলাকাবাসীর দাবি, পুলিশের বাড়াবাড়ি এবং পুলিশের হাতে মা-বোনের লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা সহ্য করতে না পেরে মারুফ আত্মহত্যা করেছে।

স্থানীয়রা জানায়, আগ্রাবাদের বাদামতলি মসজিদ গলির মারুফের বাড়ির পেছনে পুলিশের এক সোর্সকে ঘোরাফেরা করতে দেখে মারুফসহ কয়েকজন যুবক চোর ভেবে গণপিটুনি দেয়। একপর্যায়ে সেখানে সাদা পোশাকে থাকা পুলিশ সদস্য হেলাল এসে ধরপাকড় শুরু করলে মারুফ পালিয়ে যায়। কিন্তু পুলিশ তাকে না পেয়ে তার বাসায় ভাঙচুর চালায় এবং তার মা-বোনকে আটক করে নিয়ে যায়। বিষয়টি মারুফ সহ্য করতে না পেরে চাচার ঘরে গিয়ে আত্মহত্যা করে।

মারুফের স্বজন ও এলাকাবাসীরা বলছেন, এসআই হেলাল মারুফের মা-বোনকে লাঞ্ছিত করায়ই এমন ঘটনা ঘটেছে। মা-বোনের অপমানিত হওয়া এবং থানায় নিয়ে যাওয়াটা মেনে নিতে পারেনি মারুফ। এ কারণে সে আত্মহত্যা করেছে।