মানবিকতার ধ্বস।

প্রকাশিত: ১২:৪৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ৮, ২০২০

যে মা সন্তানের সুখের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করতে দ্বিধা করেনা।সন্তানের সূখের জন্য সবকিছু করতে সর্বদাই প্রস্তুত। সন্তান ছোট বেলায় ঘুমে প্রস্রাব করে দিলে শুকনো কাপড় দিয়ে তাকে আগলে ধরে কিন্তু নিজে সেই প্রস্রাবের মধ্যেই ঘুমায়। সে মনে করে প্রস্রাবের কারণে সন্তানের ঠান্ডা লেগে যাবে। নিজে ক্ষুধার্থ থকেও সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতো কিন্তু সন্তানকে বুঝতে দিতোনা যে মা নাখেয়ে আছেন। সন্তানের জন্য বাবার সাথে ঝগড়া করতো। আজ সেই মাকেই করোনা হয়েছে বলে রাস্তার পাশে রেখে আসে সন্তানেরা।

যে বাবা সারাটা জীবন কষ্ট করে গেলো সন্তানদের মুখে হাঁসি ফোটানোর জন্য। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে টাকা উপার্জন করতো সন্তানদের খাওয়ানো পড়ানোর জন্য। ছেলে মেয়ে অপরাধ করলে নিজের সম্মানের কথা ভুলে গিয়ে মাথা নত করে ক্ষমা চাইতেও ভুল করতো না। সন্তানের গায়ে আঘাত আসবে এমন কোন কিছু বুঝতে পারলে নিজের পিঠ পেতে দিতো।সন্তানের পড়াশোনার ব্যয় নির্বাহ করতে যে কোন ঝুঁকি নিতেও পিছপা হতো না। আজ সেই সন্তানেরাই বাবার করোনা হয়েছে বলে বাবাকে ডাস্টবিনে রেখে আসে। উচ্চ শিক্ষিত সন্তানেরা আজ তাদের নিজের সুখের জন্য বাবা-মাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসে।

সন্তানদের সুখের জন্য যে বাবা-মা সর্বদাই ব্যাতিব্যস্ত থাকে। একটা সন্তানের মুখ দেখার জন্য কতো প্রার্থনা, কতো রোযা,কতো মান্নত করেন। সন্তান জন্ম হলে নতুন নাম,নতুন নতুন কাপড়,মার্কেটের সেরা পুষ্টিকর খাদ্য,আকিকার জন্য আস্ত গরু,কতো কিছুইনা করেন।আজ সেই সন্তানকে করোনা হয়েছে বলে কিছু টাকা সাথে দিয়ে বস্তায় ভরে বাঁশঝাড়ে রেখে আসে।

করোনা হয়েছে জেনে একটু স্ত্রী,সন্তানের আদর পেতে গ্রামে ফিরে আসা স্বামীর ভাগ্যে জুটলোনা তাদের আদর যত্ন।স্থান হলো আলগা ঘরে।জোরে জোরে চিৎকারেও কাজে আসলোনা। পানি নিয়ে এগিয়ে আসলোনা ভালোবাসার স্ত্রী,আদরের সন্তানেরা।পানির পিপাসায় ছটফট করে গড়িয়ে গড়িয়ে নগ্ন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করলো বাবা।সকালে সন্তানদের চিৎকার শোনে এগিয়ে আসা লোকগুলো জানতে পারলো বহির হতে দরজা আটকানো লোকটির নগ্ন অবস্থায় নিথর দেহটি পড়ে আছে।

আজ করোনায় মৃত লোকটিকে গ্রামে সৎকার বা দাফন করতে দেয়া হয় না।লাঠিসোটা নিয়ে রাস্তায় বেরিকেট দেয়া হয়। অথচ সমাজ ধ্বংসকারী কোটিপতি মাদক ব্যবসায়ীকে মাথার মুকুট বানিয়ে রাখা হয়।মুসল্লির বিচার করে বেনামাজি চেয়ারম্যান বা মেম্বার দিয়ে। যার চারটা বা সাতটা সন্তান কুখ্যাত সন্ত্রাসী, ডাকাত,ধর্ষণকারী সেই হয় সমাজের নেতা বা কর্ণধার। রাজনৈতিক দলগুলোও তাদের লুফে নেয়। এমতাবস্থায় চাল চোর, তেল চোর, পরীক্ষা নাকরে রিপোর্ট প্রদান কারী পাবো নাতো আর কি আশা করা যায়?

এই অবস্থা হতে সর্বপ্রথম মহান আল্লাহর নিকট পানা চাই।দ্বিতীয়তো কর্ণধারদের সুনজর চাই। আইন করে হলেও এ অবস্থার পরিত্রাণ চাই।আইন থাকলে তার প্রয়োগ চাই।
এস,এম,ফরিদ উদ্দীন
সহকারি শিক্ষক( ব্যবসায় শিক্ষা)
মুগদাপাড়া কাজী জাফর আহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়।
ঢাকা ১২১৪।