মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমীপে — শিক্ষা জাতীয়করণ এখন সময়ের দাবী।

প্রকাশিত: ৩:৫৫ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৩০, ২০২০
মোঃ ওয়ায়েশ আলী।
 মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষায়- ‘সরকারি ও বেসরকারি’ এই দুভাগে ভাগ করলে সরকারি শিক্ষার অবদান প্রায় ৩% যা খুঁজে পেতে দুরবিন যন্ত্রের সাহায্য লাগতে পারে!
পক্ষান্তরে, বেসরকারি শিক্ষার অবদান ৯৭%! বেসরকারি শিক্ষার এই অংশ গণনা থেকে বাদ দিলে সরকারি শিক্ষার অস্তিত্ব থাকবে কি?
অথচ শিক্ষার এই বৃহত্তম অংশে যাদের অবদান সবচেয়ে বেশি সেই বেসরকারি শিক্ষক এবং অভিভাবকেরা যুগযুগ ধরে আর্থিকসহ নানাবিধ সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে বৈষম্যের যাতাকলে পিষ্ট হয়ে আসছে! এক্ষেত্রে রাষ্ট্র আর্থিকভাবে শক্তিশালী না হওয়ায় এই বৈষম্য নিরসন করা সম্ভব নয় বলে মনে করা হয়।
কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার চৌকস নেতৃত্বে বর্তমানে বাংলাদেশ আর্থিকভাবে স্বর্ণযুগে অবস্হান করছে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৪২তম বৃহত্তম  অর্থনৈতিক দেশ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
বর্তমানে শিক্ষাক্ষেত্রে বিদ্যমান আর্থিক বৈষম্য নিরসনে বাংলাদেশ আর্থিকভাবে যথেষ্ট সামর্থ্যবান। এমতাবস্হায় সরকারি এবং বেসরকারি শিক্ষার মধ্যে বিদ্যমান আর্থিক বৈষম্য নিরসন করা তথা মানসম্মত শিক্ষা বাস্তবায়ন করা আপনার সরকারের জন্য ফরয হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অভিজ্ঞমহল মনে করেন।
কারণ, শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষা সংবিধান স্বীকৃত নাগরিকের মৌলিক অধিকার। আর এই মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নে সামর্থ্যবান কল্যাণমূলক কোনো রাষ্ট্র  তথা সরকার চোখবুঁজে বসে থাকতে পারে না।
একারণে, এসডিজি-৪ বাস্তবায়নের স্বার্থে এখন শিক্ষাক্ষেত্রে ১০০% রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা আশু প্রয়োজন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার সরকার যদি সামান্য বিনিয়োগ করে শিক্ষা জাতীয়করণ না করে তাহলে তা হবে খুবই দুঃখজনক এবং অদূরদর্শিতার পরিচায়ক।
কারণ, আপনার গড়া শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে পরবর্তীকালের অন্য দলের নতুন সরকার যদি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে তাহলে তারা কিন্তু সামান্য বিনিয়োগে শিক্ষা জাতীয়করণের বিরল রেকর্ড বা কীর্তি হেলায় হারাতে চাইবে না!
অতএব, স্বাধীনতা প্রিয় বাঙালী জাতি চায়  জাতিরজনকের কন্যার হাত ধরে এই মুজিব বর্ষেই শিক্ষা জাতীয়করণ হোক।
মোঃ ওয়ায়েশ আলী
অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত)
পাটুল হাপানিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, নলডাঙ্গা, নাটোর।

Categories