মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান অনার্স – মাস্টার্সের নন-এমপিও শিক্ষকগণ

প্রকাশিত: ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ, জুন ২১, ২০২০

মো.আশরাফুল লতিফ( তুহিন):ব্রাহ্মণবাড়িয়া::

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী  উচ্চশিক্ষাকে সার্বজনীন করার লক্ষে ১৯৯৩ সাল থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সরকারি কলেজগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি ও এম পি ও ভুক্ত বেসরকারি কলেজগুলোতে অনার্স – মাস্টার্স কোর্স চালুর সিদ্ধান্ত গ্রহন করে।তার ফলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক কলেজেও অনার্স কোর্স পড়ানো হচ্ছে এবং তার মধ্যে বড় কলেজগুলোকে মাস্টার্স কোর্সের অনুমোদনও দেয়া হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অনার্স – মাস্টার্সে পাঠদানকারী শিক্ষকগণের বেতন ভাতাদি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রদান করার শর্তেই এই সব কোর্সের অনুমোদন দেয়া হয়ে থাকে।

কিন্তু দুঃখের বিষয় হলেও সত্যি যে, বর্তমান সময়ে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, পারিবারিক ও অন্যান্য খরচ বৃদ্ধি পাওয়া এবং পর্যাপ্ত বেতন ভাতাদি প্রদানে অনেক সময় কলেজের সক্ষমতা না থাকা ইত্যাদি কারণে দেশের উচ্চশিক্ষায় অবদান রাখা উচ্চ শিক্ষিত শিক্ষকগণ খুবই মানবেতর জীবনযাপন করছে।

উল্লেখ্য, এ পর্যন্ত চার বার—১৯৯৫, ২০১০,২০১৩ এবং ২০১৮ সালে  বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো সংশোধন করা হয়েছে। কিন্তু অনার্স -মাস্টার্সে পাঠদানকারী শিক্ষকদেরকে বার বার উপেক্ষা করা হয়েছে।

উপেক্ষিত হয়েছে মাউশি’র সাবেক দুজন ডিজি প্রফেসর ফাহিমা খাতুন (১৯৯৫) সালে এবংপ্রফেসর এস এম ওয়াহিদুজ্জামান( ১৯৯৭) সালে মহোদয়গণের পাঠানো জনবল কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত ও  প্রয়োজনীয়  খরচ জানতে চাওয়ার প্রস্তাবটিও, যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ছিল।

অনার্স – মাস্টার্সে পাঠদানকারী শিক্ষকগণ এম পি ও’র দাবী মানব বন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান,সংবাদ সম্মেলন সহ বিভিন্ন রকম কর্মসূচী পালন করেও কোন ফল পায় নি।

কোথাও কোন সমাধান না পেয়ে চরমভাবে হতাশ ও সংক্ষুব্ধ হয়ে একপর্যায়ে কলেজের জনবল কাঠামোতে এই স্তরের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তির জন্য ২০১৭ সালে হাইকোর্টে রিট করেন কুড়িগ্রাম জেলার মহিলা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক হারুন-অর-রশিদ ও অন্যান্য শিক্ষকরা। হাইকোর্টে বেতন কাঠামোতে অন্তর্ভুক্তির আদেশ দেন।তারপর সরকার পক্ষ আপিল করেন। আপিল আদেশে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন আদালত এবং আদালতের এই নির্দেশনার পর বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে অনেক যোগাযোগ করেন বাংলাদেশ নিগৃহীত অনার্স-মাস্টার্স  শিক্ষক পরিষদ। কিন্তু, দুঃখজনক হলেও সত্যি গত দেড় বছরে
এ বিষয়ে মন্ত্রনালয়ের কোন অগ্রগতির খবর দিতে পারে নি।

অনার্স – মাস্টার্সে পাঠদানকারী শিক্ষকদের অবিলম্বে এম পি ও দিতে জোর তাগিদ দিয়ে বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি জনাব সাইদুল হাসান সেলিম বলেন ” অনার্স ও মাস্টার্সে পাঠদানকারী শিক্ষকগণ যৌক্তিক কারণেই এম পি ও পাওয়ার দাবী রাখেন। এ বিষয়ে খুব দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।”

অনার্স- মাস্টার্সে পাঠদানকারী শিক্ষকদের একটাই দাবী — তাদেরকে জনবল কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করে এম পি ও ভুক্ত করা।সব দিক থেকে উপেক্ষিত হয়ে,  তাদের দুঃখ দুদর্শা লাঘব করতে  মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। তারা বিশ্বাস করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা, মানবতাবাদী নেত্রী, জননেত্রী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা তাদের দুঃখ বুঝবেন এবং শিক্ষা মন্ত্রনালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহনের আদেশ প্রদান করবেন।