“ভালো কাজ করলে মানুষ পাগলই বলে, তবে পাগলরাই ইতিহাস বদলায়”

প্রকাশিত: ১:৩৮ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০২০

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বৈশ্বিক মহামারি করোনা দুর্যোগের সময় মানবসেবায় বিভিন্ন কাজ করে যাচ্ছেন ।

ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষকে করোনা মহামারির এই দুর্যোগের সময় বিভিন্নভাবে সহায়তা করে আসছেন ব্যারিস্টার সুমন। এছাড়াও তার বাবা মায়ের নামে প্রতিষ্ঠিত এর্শাদ আম্বিয়া ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকেও বিভিন্নভাবে মানুষকে সহায়তা করছেন তিনি। ছোট নদী ও খাল পারাপারের জন্য বানাচ্ছেন ব্রিজ। সামাজিক এসব কাজকে অবহেলা ও তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা মানুষের টিপ্পনিকে পাত্তাই দিচ্ছেন না এই আইনজীবী। আর মানুষের সমালোচনার বিষয়ে বলছেন, ভালো কাজে মানুষ পাগল বলতে পারে, তবে এই পাগলরাই ইতিহাস বদলায়।

নিজ এলাকায় কাঠের ব্রিজ বানিয়ে দেয়ার জন্য শুরু থেকেই প্রশংসিত ব্যারিস্টার সুমন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি এই মহামারির সময়েও ব্রিজ নির্মাণ করেছেন। এবার তিনি নিজের বানানো ৩১তম ব্রিজের কাজ শেষ করেছেন বলে ফেসবুক লাইভে এসে জানান।

এবার তার নিজ খরচে নয় অন্যের দেয়া অর্থ দিয়ে এই ব্রিজটি বানিয়েছেন। এর আগে আরও ৩০টি ব্রিজ নিজের অর্থ দিয়ে তৈরি করেছেন তিনি।

এর আগে গত মার্চে ব্যারিস্টার সুমন তার নিজ এলাকা চুনারুঘাট থানার ৪ নম্বর পাইকপাড়া ইউনিয়নের এক এলাকায় লোকজনের খাল পেরিয়ে বাজারে এবং শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়ার কষ্ট দূর করতে একটি ব্রিজ বানিয়ে দেন।

তখন তিনি জানিয়েছিলেন, ব্রিজ বানানোর খরচ তার ঈদ খরচ থেকে বহন করেছেন। নিউইয়র্ক থেকে ব্যারিস্টার সুমনের ভাই এবং আত্মীয় স্বজনের পাঠানো ৭০ হাজার টাকা ঈদ খরচ দিয়ে তিনি কেনাকাটা না করে এই ব্রিজ বানিয়ে দেন।

এর আগেও আইনজীবী সুমন তার নিজ এলাকার বিভিন্ন স্থানে আরও ২৯টি কাঠের ব্রিজ বানিয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় তিনি ৩১তম ব্রিজ বানিয়েছেন।

তিনি চুনারুঘাট উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ছোট নদী, খাল ও ছড়ার ওপরে নিজ খরচে নির্মাণ করেছেন কাঠের ব্রিজ। নদী পারাপারের জন্যও উপহার হিসেবে ক্রয় করে দিয়েছেন কয়েকটি নৌকা। যুবকদের খেলাধুলার উপকরণ দিচ্ছেন। অসহায়দের মাঝে আর্থিক সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছেন। শীতার্তদের মাঝে কম্বল, শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন। প্রতিবন্ধীদের মাঝে করেন হুইল চেয়ার বিতরণ। চুনারুঘাট নয় যেকোনো স্থানের সমস্যা সমাধানে ফেসবুক লাইভে গিয়ে প্রচার করে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছেন তিনি। এতে সমাধানও আসছে। দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে তার এসব জনকল্যাণমুখী কর্মকাণ্ড।

তিনি নিজে মাঠে নেমে ফুটবল খেলায় অংশগ্রহণ করেন। তার খেলা উপভোগ করতে মাঠে দর্শক সমাগম ঘটে। যে স্থানেই যাচ্ছেন তৃণমূলের লোকেরা তার কাছে আসছে। শুধু চুনারুঘাট-মাধবপুর নয় নিজের কর্মকাণ্ডে জেলাজুড়ে তৃণমূল মানুষের হৃদয় জয় করেছেন ব্যারিস্টার সুমন।

সূত্র জানায়, চুনারুঘাটের বিভিন্ন স্থানে তার অর্থে নির্মিত ব্রিজ ও রাস্তা সংস্কার হওয়ায় হাজার হাজার লোক উপকৃত হয়েছেন। তার সঙ্গে উপহার দেয়া নৌকায় চড়ে লোকেরা নদী পারাপার হতে পারছেন। এক কথায় তৃণমূলের সেবায় রাস্তা ও ব্রিজ নির্মাণ করে প্রশংসিত ব্যারিস্টার সুমন।

ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেন- নামের জন্য কোনো কিছু করছি না। নেতা হওয়ার জন্যও নয়। মানুষের ভালবাসা পেতে হলে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যেতে হবে। তাই নিজের পকেটের টাকা খরচ করে তৃণমূলের কল্যাণে কাজ করা। এসব করে মনে তৃপ্তি পাচ্ছি। আর কাজ করলে মানুষ পাগল বলতে পারে তাতে কিছু যায় আসে না। পৃথিবীতে যে সকল মনিষীরা ভালো কাজ করে ইতিহাসে নাম লিখিয়ে গেছেন তাদেরকে পাগল বলতো। পরে তাদের কাজই হয়েছে ঐতিহাসিক। ভালো কাজে মানুষ পাগল বলতে পারে, তবে এই পাগলরাই ইতিহাস বদলায়।