ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিক্ষকগণ অনলাইনে শিক্ষা দানে বেশ মনোযোগী; সুফল পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত: ৯:৩৯ অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২০

মো. আশরাফুল লতিফ  (তুহিন): ব্রাহ্মণবাড়িয়া:: করোনা ভাইরাসের (কোভিভ -১৯) প্রাদুর্ভাব  মোকাবেলায়  এই মূহুর্তে বন্ধ রয়েছে বাংলাদেশের সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সরকার এই প্রেক্ষিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি কয়েক দফা  বৃদ্ধি করেছে এবং সর্বশেষ গত ১৫ জুন এই ছুটি বৃদ্ধি করা হয়েছে ৬ আগস্ট পর্যন্ত। তাই, শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠানে যাওয়া কোন সুযোগ যেমন নেই ; তেমনি শ্রেণিকক্ষে বসে  বসে ক্লাস গ্রহণেরও সুযোগ নেই।কিন্তু শ্রেণি কক্ষে পাঠদানের বিকল্প হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সংসদ টেলিভিশনের মাধ্যমে রুটিন মাফিক ধারাবাহিকভাবে ক্লাস পরিচালিত হচ্ছে।

তারই ধারাবাহিকতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় বিভিন্ন প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক  শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যক্তি উদ্যোগে অনলাইনে লাইভ ক্লাসের মাধ্যমে অথবা ধারনকৃত ক্লাস ইউটিউভের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে এবং তার সুফল শিক্ষার্থীরা খুব ভালো মতোই পাচ্ছে।

অনলাইনে শিক্ষা প্রদানের বিষয়ে কথা বলেছিলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া’র স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অন্নদা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সুযোগ্য প্রধান শিক্ষক জনাব ফরিদা নাজমীনের সাথে।তিনি জানান, ” মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর কর্তৃক আয়োজিত সংসদ টেলিভিশনে ” আমার ঘরে আমার স্কুল ”  কার্যক্রমটি শ্রেণি  রুটিন অনুযায়ী  ছাত্রদের অনুসরণ করার  জন্যে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা রয়েছে। পাশাপাশি পাবলিক পরীক্ষাকে লক্ষ্য রেখে  অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অষ্টম ও দশম শ্রেণির ক্লাস অনলাইনে চলছে। আমরা শ্রেণি অনুযায়ী প্রাইভেট গ্রুপ করে নিয়েছি। প্রত্যেক গ্রুপে রুটিন অনুযায়ী ক্লাস চলছে। অনলাইনে ছাত্ররা ক্লাসে উপস্থিতি দিচ্ছে। ফলে সকল ছাত্রকে  ক্লাসের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে।বিকেল সাড়ে তিনটা হতে দশম শ্রেণির ক্লাস এবং রাত আটটা  হতে অষ্টম শ্রেণির ক্লাস চলছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শ্রেণির ক্লাসও শুরু করা হবে। “

“অনলাইন ক্লাস চলছে ছাত্র- শিক্ষক- অভিভাবকের সমন্বিত প্রচেষ্টায়। শিক্ষকের উদ্যোগ, ছাত্রের একাগ্রতা এবং অভিভাবকের আগ্রহের ফলেই অনলাইন ক্লাস  কার্যকর হচ্ছে।
প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেই অনলাইন ক্লাস কার্যক্রমে সংযুক্ত হওয়া বাঞ্ছনীয়।” তিনি যোগ করেন।

উক্ত স্কুলের পাঠদানকারী শিক্ষকদের মধ্যে মাসুদ পারভেজ (ইংরেজি),চিন্ময় ভট্টাচার্য (পদার্থ ও রসায়ন), আব্দুল কাইয়ুম মিয়া (গণিত),  মো. নাজমুল ইসলাম (উচ্চতর গণিত),এবং এ এফ এম আব্দুস সাকির (হিসাব বিজ্ঞান) — তাদের  সাথে কথা বলে জানা যায়, শিক্ষার্থীরা তাদের পাঠ দানে সন্তোষ্ট এবং পরিস্হিতি স্বভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাদের পাঠদান কার্যক্রম তারা চালিয়ে যাবেন।

এ বিষয়ে আইডিয়াল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ সোপানুল ইসলাম ( সোপান) “দৈনিক আমাদের ফোরামকে জানান,  “প্রথমেই ধন্যবাদ জানাই ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকল্প বাস্তবায়নের ধারাকে। এ কার্যক্রম চালু না হলে বৈশ্বিক মহামারিতে আমাদেরকে পিছিয়ে পড়তে হতো। একঝাঁক মেধাবী শিক্ষক আর বেশ কিছু গুণীজন অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রেখে দিনের পর দিন অনেক পরিশ্রম করে এই কার্যক্রমটির ধারাবাহিকতা তরান্বিত করতে প্রচেষ্টা চালিয়ে  যাচ্ছেন। তবে বিদ্যুৎ আর অনলাইনের অত্যধিক খরচের ফলে করোনা পরিস্থিতিতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী কাছে এই সেবা পৌঁছানো  বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে।”

অনলাইনে ক্লাস প্রদান করছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মধ্যে এমন কয়েকজন শিক্ষক- মো. মাসুম মিয়া প্রভাষক ( ইংরেজি) ও সাইফুর রহমান (মামুন) প্রভাষক( বাংলা), পৌর ডিগ্রী কলেজ ; নূর মোহাম্মদ প্রভাষক ( আই সি টি)সিটি মডেল কলেজ ; কাজী রাহিম প্রভাষক ( পদার্থ) চিনাইর বঙ্গবন্ধু কলেজ ; শাহীন সিয়াম প্রভাষক (ইংরেজি) ইউনাইটেড কলেজ ও মো. মশিউর রহমান, সহকারী শিক্ষক ( গণিত) আইডিয়াল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ — তারাও জানিয়েছেন যত দিন পর্যন্ত করোনা পরিস্হিতি স্বাভাবিক না হয় ততদিন পর্যন্ত তাদের অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম তারা অব্যাহত রাখবেন।

অনলাইন ক্লাসের বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারী কলেজে ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারী মহিলা কলেজের  বেশি কিছু শিক্ষার্থী এ বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। তারা বলছে, ” আমাদের সম্মানিত শিক্ষকগণ যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন, অামাদের ক্লাসে না যাওয়া ক্ষতিটুকু পুষিয়ে দিতে।  কিন্তু অনেকেই অনলাইন ক্লাসের সুবিধাটুকু নিতে পারছে না ইন্টারনেটের উচ্চ মুল্যের কারণে। তাই তারা সরকারের কাছে দাবী জানিয়েছে শিক্ষার্থীদের জন্য যেন স্বল্প মূল্যে বিশেষ ইন্টারনেট প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়।