ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাড়ছে করোনার প্রকোপ ; জেলায় আক্রান্ত ৬৩৬ জন।

প্রকাশিত: ১২:৪৮ অপরাহ্ণ, জুন ২৪, ২০২০

মো.আশরাফুল লতিফ ( তুহিন),ব্রাহ্মণবাড়িয়া ::

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় করোনা আক্রান্তের হার দিন দিন বেড়েই চলেছে।যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকা ও ওয়ার্ডকে ‘রেড জোন’     ( লাল এলাকা) ঘোষণা করে জনসাধারনের অপ্রয়োজনীয় চলাফেরা কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রন সহ রেড জোন এলাকায় অবস্হিত সরকারি,বেসরকারি,অাধা – সরকারি , স্বায়ত্তশাসিত , আধা স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ ও বেসরকারি অফিস/প্রতিষ্ঠান ও সংস্হায় কর্মরত কর্মকর্তা ও কমর্চারীদের জন্য ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী এই ছুটি কার্যকর থাকবে ২৩ জুন ২০২০ খ্রী. থেকে ৪ জুন ২০২০ খ্রী. পর্যন্ত। উক্ত ছুটির মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটিও অন্তর্ভুক্ত হবে।

এই সব এলাকার মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার ৪ নং ওয়ার্ডের পাইকপাড়া ও কালাইশ্রীপাড়া, ৫নং ওয়ার্ডের মধ্যপাড়া ও ৮নং ওয়ার্ডের কাজীপাড়া এলাকা ; কসবা পৌর এলাকার মধ্যে ৪নং ওয়ার্ডের আড়াইবাড়ি, ৫ নং ওয়ার্ডের শীতলপাড়া ও ৭নং ওয়ার্ডের সাহাপাড়া ;
আর নবীনগর পৌর এলাকার ২নং ওয়ার্ডের হাসপাতালপাড়া ও পশ্চিমপাড়া, ৩নং ওয়ার্ডে টি এন টি পাড়া,৪ নং ওয়ার্ডে হাসপাতালপাড়া ও কলেজপাড়া এবং ৮নং ওয়ার্ডের ভোলাচং দাসপাড়া রেড জোন (লাল এলাকা) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

২৪ জুন সকাল ১০ টায় সিভিল সার্জন অফিসের ফেইসবুক পেইজে আরো ১৪৮ টি নমুনার মধ্যে ২৪ টি রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

সিভিল সার্জন অফিস ও জেলা তথ্য অফিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ২৪ জুন সকাল ১০.৩০ টা পর্যন্ত প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী জেলায় মোট ৬৩৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ; সুস্হ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯৪ জন এবং মারা গেছেন ৭ জন।   অাক্রান্ত রোগীদের  মধ্যে সদর উপজেলায় ১৯৮ জন, আখাউড়া উপজেলায় ৩৪ জন, বিজয়নগর উপজেলায় ১৯ জন, নাসিরনগর উপজেলায় ২৮ জন, বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় ৪২ জন, নবীনগর উপজেলায় ১০৩ জন, সরাইল উপজেলায় ৫৩ জন, আশুগঞ্জ উপজেলায় ২২ জন ও কসবা উপজেলায় ১৩৭ জন।

গত ২৩ জুন ( মঙ্গলবার) ঢাকা পিসি আর ল্যাব ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজের পি সি আর ল্যাবে থেকে প্রাপ্ত ২৯২ টি নমুনার রিপোর্টে নতুন করে জেলায় ৪৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা যায় (আপডেট ২৪ তারিখ) তার মধ্যে শুধু সদর উপজেলাতেই সনাক্ত হয়েছে ২৮ জন। যার মধ্যে ৬ জন পুলিশ সদস্য ( জেলা পি বি আই) ও দুই জন চিকিৎসকও রয়েছে।তাছাড়া অন্যান্য উপজেলার মধ্যে কসবায় ৩জন, নাসিরনগরে ৪জন ,আখাউড়ায় ৬ জন, বিজয়নগরে ২জন ও বাঞ্ছারামপুরে ১০জন আক্রান্ত হয়েছে।

সদর, কসবা ও নবীনগর উপজেলার করোনা পরিস্হিতি দিন দিন অবনতি হচ্ছে এবং আক্রান্তের হারও অন্যান্য উপজেলা থেকে বেশি। এই তিনটি উপজেলা নিয়ে ভিন্ন কোন পরিকল্পনা আছে কি না, তা জানতে কথা বলেছিলাম করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদস্য সচিব ও সিভিল সার্জন ডা. মো. একরামুল্লাহ মহোদয়ের সাথে। তিনি ” দৈনিক আমাদের ফোরাম”কে জানান, ” যে সব স্হানে নতুন আক্রান্ত বেশি চিহ্নিত হচ্ছে, সে সব এলাকা সাথে সাথে ‘রেড জোন’ (লাল এলাকা) করে দেয়া হচ্ছে। রেড জোন এলাকার জনসাধারনকে স্বাস্হ বিধি-নিষেধ মেনে চলাচল করতে এবং সামাজিক ও ব্যক্তিগত দুরত্ব মেনে চলতে তিনি আহবান জানান। তিনি অারো বলেন, ” পরিস্হিতি অনুযায়ী আমরা ব্যবস্হা গ্রহন করতে বদ্ধপরিকর।তাছাড়া নিয়মিত অামাদের মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। যেখানে আইন লংঘন হবে সেখানেই শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। করোনা ভাইরাস মোকাবেলা করতে তিনি প্রশাসনের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি উপর বেশি গুরুত্ব প্রদান করেন। ”

সদর উপজেলায় অাক্রান্তের হার বেশি কেন?
প্রশ্ন করেছিলাম সুহিলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব মো.অাজাদ হাজারী অাঙ্গুরকে। তিনি মানুষের অসচেতনতাকেই সরাসরি দায়ী করেন। তিনি বলেন, প্রশাসনের অভিযানের সাথে মানুষ লুকোচুরি খেলে। তিনি জনসাধারনকে ব্যক্তিগত দুরত্ব বজায় রেখে ও মাস্ক পড়ে দৈনন্দিন কার্যাবলী পরিচালনা করার অনুরোধ করেন।

করোনায় জনসচেতনতার বিষয়ে জানতে চেয়েছিলাম স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক সুলতানপুর শাখার ব্যবস্হাপক জনাব মো. জহিরুল ইসলাম ভূইয়ার কাছে। তিনি বলেন, “এখনও বেশিরভাগ মানুষ মাস্ক পড়ে না, সামাজিক দুরত্ব কিংবা ব্যক্তিগত দুরত্বের বিষয়ে খুবই উদাসীন।” তিনি যোগ করেন, “লকডাউনের চেয়ে সচেতনতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে তিনি স্বাস্হ সচেতন থেকে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনার উপর গুরুত্ব অারোপ করেন যাতে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকে।”