ব্রাহ্মণবাড়িয়ার করোনা পরিস্হিতির উন্নতি ; প্রায় অর্ধেক রোগী সুস্হ

প্রকাশিত: ২:২৪ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৪, ২০২০

মো.আশরাফুল লতিফ (তুহিন), ব্রাহ্মণবাড়িয়া।।

বৈশ্বিক মহামারী আকারে দেখা দেয়া কোভিড- ১৯ এর ছোবল থেকে বাদ যায়নি প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ।২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম সনাক্ত হয় করোনা আক্রান্ত রোগী।

গত ৮ মার্চ  বাংলাদেশ  সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) ব্রিফিংয়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানিয়েছিলেন,  ইতালি থেকে করোনার সংক্রমণ নিয়ে দেশে ফেরেন দুই বাংলাদেশি। যাদের মধ্যে একজনের পরিবারের সদস্যসহ মোট তিনজনে কোভিড – ১৯ শনাক্ত নিশ্চিত হয়েছিল।

সিভিল সার্জন অফিস, ব্রাহ্মণবাড়িয়া’র তথ্য অনুযায়ী জেলায় প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়েছিল গত ১০ এপ্রিল।তার পর থেকে অাস্তে অাস্তে বাড়তে থাকে আক্রান্তের হার।জুন মাসের শুরুর দিক থেকে  জুলাই মাসের প্রথম দিক পর্যন্ত আক্রান্তের হার অনেক বেড়েছিল কিন্তু ইতিবাচক দিক হলো, প্রায় অর্ধেক আক্রান্ত রোগী সুস্হ হয়ে উঠেছে।

ছবি সুত্র : জেলা প্রশাসন।

আজ ২৪ জুলাই ( ২৩ তারিখের আপডেট)সিভিল সার্জন অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৮২৬ জন। তার মধ্যে সুস্হ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন অথবা হোম কোয়ারেন্টাইনে থেকে সুস্হ হয়েছে মোট ৯২১ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৩০ জনের। গত ২৪ ঘন্টায় আক্রান্ত হয়েছে ১৪ জন।

সিভিল সার্জন অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ১৮ জুলাইয়ে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১৭০২ জন এবং সুস্হ হয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন  ৬৯৮ জন। অর্থাৎ গত এক সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে ১২৪ জন কিন্তু সুস্হ হয়েছেন ২২৩ জন। তার মানে, বর্তমান সময়ে যে হারে আক্রান্ত হচ্ছে, তার প্রায় দ্বিগুন সুস্হ হচ্ছে।

কোভিড -১৯ আক্রান্তের হার যেন আর নতুন করে বাড়তে না পারে এবং জনসাধারনকে সচেতন করার জন্য জেলা প্রশাসন প্রতিদিনই সকল উপজেলায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে। যেখানে অনিয়ম হচ্ছে সেখানেই ব্যবস্হা গ্রহন করা হচ্ছে এবং তার সুফল হাতেনাতেই মিলছে।

এদিকে, আসন্ন পবিত্র ঈদ উল আযহা উপলক্ষে  গতকাল ২৩ জুলাই ২০২০ খ্রি. বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসন ব্রাহ্মণবাড়িয়া এর আয়োজনে এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনলাইন কোরবানির পশুর হাটের কার্যক্রম বিষয়ক ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।উক্ত মতবিনিময় সভায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি,  সাংবাদিকবৃন্দ, শিক্ষকগণ, সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

জেলা স্বাস্হ বিভাগের নীতি নির্ধারকগণ মনে করেন,  শুধু স্বাস্হ বিধি মনে চলার মাধ্যমেই একজন ব্যক্তি নিজে যেমন করোনা সংক্রমনের হাত থেকে বাঁচতে পারেন ; ঠিক অন্য একজন ব্যক্তিকেও বাঁচাতে পারেন। তাই, স্বাস্হ সচেতনতার কোন বিকল্প নেই।