বৈষম্যহীন জাতি গঠনে মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়রকরণসহ ২৫% এর পরিবর্তে পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা প্রদান প্রসঙ্গে।

প্রকাশিত: ১২:৪৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৪, ২০২১

বরাবর

        ডা. দীপু মনি, এম.পি

          মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়

          শিক্ষা মন্ত্রণালয়,  বাংলাদেশ সচিবালয়,  ঢাকা।

বিষয়ঃ মুজিববর্ষকে অবিস্মরণীয় করে রাখতে ও বৈষম্যহীন জাতি গঠনে মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়রকরণে  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনসহ ২৫% এর পরিবর্তে পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা প্রদান প্রসঙ্গে।

জনাব,

          আপনাকে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ লিয়াঁজো ফোরামের পক্ষ থেকে মুজিবীয় শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আপনার অবগতি ও সুবিবেচনার জন্য জানাচ্ছি যে, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে।

শিক্ষায় অবকাঠামোগত প্রভূত উন্নয়ন ঘটেছে কিন্তু বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা এখনো চরম বৈষম্যমূলক, গতানুগতিক নানা ধারায় বিভাজিত। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে হয়তো আরো অনেক আগেই মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণ হতো। বর্তমান শিক্ষাবান্ধব সরকার হাজার হাজার রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করেছে।

মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়েও কিছু কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ বা সরকারীকরণ করেছেন। কিন্তু একসাথে জাতীয়করণ না করার কারণে শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক তথা পুরো দেশবাসী।

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বাশিস) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত দেশ প্রেমিক একটি শিক্ষক সংগঠন। এ সংগঠন বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ ও বহন করে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার লড়াকু সৈনিক হিসেবে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

আপনার অবগতির জন্য আরো জানাচ্ছি যে, ১৯৭২ এর সংবিধানের ১৭(ক) ধারায় বঙ্গবন্ধুর শিক্ষাদর্শন অবৈতনিক শিক্ষার কথা তথা জাতীয়করণের কথা উল্লেখ থাকলেও স্বাধীনতার ৪৯ বছরেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। বরং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী এবং সরকারী শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বৈষম্য আকাশ ছোঁয়া।

বেতন বৈষম্যের তালিকা নিম্নরূপ–

এমপিওভুক্ত শিক্ষক/কর্মচারিদের প্রাপ্তিঃ

১। বর্তমানে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী শুধুমাত্র মূল বেতনের শতভাগ বেতন প্রদান করা হয়।

২। বাড়ী বাড়া নির্ধারিত ১০০০ টাকা

৩। চিকিৎসা ভাতা নির্ধারিত ৫০০ টাকা

৪। উৎসব বোনাস শিক্ষক ২৫%; কর্মচারি ৫০%।

৫। ১২,৫০০ টাকা এবং ১৬,০০০ টাকা স্কেলে নিয়োগকৃত সহকারি শিক্ষকদের পরবর্তী বেতন স্কেল নির্ধারণ নাই।

৬। সরাসরি প্রমোশন নাই এবং বদলিও নাই।

৭। প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল ২৯,০০০ টাকা (৭ম গ্রেড) ।

৮। বিভাগীয় ভাতাদি নাই।

৯। এককালীন সামান্য অবসর ভাতার ব্যবস্থা আছে, কিন্তু মাসিক  পেনশন নাই।

১০। অভিভাবকগণকে তাদের সন্তানদের শিক্ষার জন্য অনিয়ন্ত্রিত ও ব্যাপক ব্যয় করতে হয়।

১১। শিক্ষকের সন্তানদের জন্য শিক্ষা ভাতা নেই।

সরকারি শিক্ষক/কর্মচারিদের প্রাপ্তিঃ

১। ২০১৫ এর জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী সকল সুযোগ সুবিধাসহ বেতন প্রদান করা হয়।

২। স্কেল ভিত্তিক পূর্ণ বাড়ি ভাড়া প্রদান করা হয়।

৩। চিকিৎসা ভাতা ১৫০০ টাকা।

৪। উৎসব বোনাস স্কেল ভিত্তিক প্রদান করা হয়।

৫। পরবর্তী স্কেল নির্ধারণকৃত ও চলমান আছে।

৬। ধারাবাহিক প্রমোশন আছে ও বদলির ব্যবস্থা চলমান।

৭। প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল ৩৫,৫০০ টাকা (৬ষ্ঠ গ্রেড)

৮। বিভাগীয় ভাতার ব্যবস্থা আছে।

৯। পরিপূর্ন অবসর ভাতাসহ মাসিক পেনশন আছে।

১০। অভিভাবকগণকে তাদের সন্তানদের শিক্ষার জন্য স্বল্প ও নির্ধারিত  ব্যয় করতে হয়।

১১। শিক্ষকের সন্তানদের জন্য শিক্ষা ভাতা আছে।

এছাড়াও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ২৫% ঈদ বোনাস দীর্ঘ ১৭ বছরেও পরিবর্তন হয়নি। অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকগণ দীর্ঘ ২৮ বছরেও এমপিওভুক্ত হতে না পেরে চরম অর্থসংকটে দিনযাপন করছেন।

বেতন বৈষম্য থাকায় শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন হচ্ছে না। শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নসহ বিশ্বমানের  শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়নে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ ঘোষণা অতীব জরুরী।

সুতরাং চলতি সংসদ অধিবেশনেই মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের প্রস্তাব মহান সংসদে উপস্থাপনসহ শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বৈষম্য দূরীকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করলে শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে আপনার নিকট চিরকৃতজ্ঞ থাকবো।

ধন্যবাদান্তে-

মোঃ নজরুল ইসলাম রনি , সভাপতি, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ও

 মুখপাত্র, এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ লিয়াঁজো ফোরাম।

মোঃ মেজবাহুল ইসলাম প্রিন্স

মহাসচিব, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি।


Categories