বেসরকারি অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকদের এমপিও ভুক্তি এবং ভিসি প্রফেসর ড. হারুন অর রশিদের পদত্যাগের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত: ১২:১২ অপরাহ্ণ, জুন ২৬, ২০২০

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত বেসরকারি কলেজে অনার্স-মাস্টার্স কোর্সে শতভাগ বৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জনবল
কাঠামোতে অর্ন্তভুক্ত করে এমপিও ভুক্তি এবং জনবল কাঠামোতে অন্তর্ভুক্তির বিরোধীতা করায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের
ভিসি প্রফেসর ড. হারুন অর রশিদ স্যারের পদত্যাগের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ বেসরকারি  কলেজ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফোরাম। গত ২৫ জুন খুলনা প্রেসক্লাবে তারা এই সংবাদ সম্মেলনটি করেছেন। দৈনিক আমাদের ফোরামে পাঠানো উক্ত সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক সন্দীপ কুমার দাশ এর স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে,   বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী কোভিড -১৯ মহামারীতে জনজীবন বিপর্যস্ত, সারাদেশে লকডাউন, স্কুল কলেজ বন্ধ। হাতে গোনা কয়েকটি কলেজ বাদ দিয়ে অনার্স ও মাস্টার্স শিক্ষকদের বেতন ভাতাও বন্ধ। এদিকে প্রাইভেট টিউশনিও বন্ধ। শিক্ষকতার মহান পেশায় নিয়েজিত থাকার কারণে কারও নিকট শিক্ষকরা হাত পাততেও পারছেন না। চিকিৎসা, বাড়ি ভাড়া, অন্ন ও বস্ত্র কেনার মতো অর্থ তাদের হাতে নেই। সামনে ঈদ বিপাকে তারা। ধার মহাজন করে অনেকে চলছেন, বৃদ্ধ পিতা মাতা, ছেলে মেয়ে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকে অবসরে গেছেন চোখের জল হাতে নিয়ে , অনেকে অবসরে যাবার পথে, অথচ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিরব, নিষ্ঠুর , বোবা পাষাণ সীমারের ভূমিকায় মত্ত। তারা শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে বিষয় অনুমোদন দিচ্ছেন, আর বলে দিচ্ছেন বেতন ভাতা দিবে কলেজ কর্তৃপক্ষ, বাহ: কী তাদের দ্বায়িত্বহীনতা!! সন্তান জন্ম দিবে একজন, ভরণ পোষণ করাবেন অন্যজন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারের জাতীয় শিক্ষানীতি -২০১০ এর উচ্চ শিক্ষা অধ্যায়-০৮, কৌশল -০৬ , এ বলা হয়েছে –’’ পর্যায়ক্রমে ডিগ্রি পাশ কোর্স তুলে দিয়ে ০৪ বছর মেয়াদী ডিগ্রি অনার্স (সম্মান) কোর্স চালু করা হবে।” এটা যদি সরকারের পলিসি বা শিক্ষানীতি হয় তাহলে অনার্স কোর্সের শিক্ষকদেরকে কেন জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালার বাহিরে রাখা হবে ? কেন এমপিও ভুক্ত করা হবে না ? একই নিয়ম ও পদ্ধতিতে নিয়োগপ্রাপ্ত ডিগ্রি (পাস) ৩য় পদের শিক্ষকগণ এমপিও ভুক্ত হতে পারেন। একই যোগ্যতায় একই প্রক্রিয়ায় নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে জাতীয়করণের আওতায় ৩২০ কলেজের অধিকাংশ ডিগ্রি কলেজের অনার্স কোর্সের শিক্ষকগণ আত্মীকরণের আওতায় প্রক্রিয়াধীন। তাহলে আমাদের অপরাধ কী ? কেন আমরা এমপিও ভুক্ত হতে পারবো না ? একই কলেজে কেহ এমপিও ভুক্ত, কেহ ২৮ বছর নন-এমপিও, একই বিষয়ে এ দ্বৈত নীতির অবসান চাই ।
জাতির এ ক্রান্তিলগ্নে আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বরাবরে আর্থিক সাহায্যের আবেদন করেছি, তিনি তা প্রত্যাখান করেছেন এবং দায়সারা ভাবে বিশ্ববিদ্যালয় হতে ০৪/০৫/২০২০ তারিখে একটি নোটিশ দিয়েছেন, যেন কলেজ কর্তৃপক্ষ অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকদের বেতন দেন, যে নোটিশে কারো স্বাক্ষর নেই, নাই স্মারক নং, কে কাকে দিল সেটা অস্পষ্ট। তারা  এ আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানায়। অথচ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ফান্ডে প্রায় ২৫০০ (দুই হাজার পাঁচশত) কোটিরও বেশি টাকা অলস পড়ে আছে। যে টাকা দিয়ে সারা দেশের অনার্স মাস্টার্সের ৫০০০ জন শিক্ষকের ১২ বছরের বেশি সময় ধরে বেতন ভাতা দেয়া সম্ভব। তিনি ধনকুবের সেজে বসে আছেন । তার অধি:নস্ত শিক্ষকরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
তারা একাধিকবার বর্তমান ভিসি স্যারের সাথে যোগাযোগ করেছেন, তিনি প্রতিবারে তাদের অপমান, অসম্মান করে, ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছেন, আর বলেছেন “তোমরাতো জেনেশুনে বিষ পান করেছো, চাকুরী ছেড়ে দাও।” তাঁর সম্মান রক্ষায় আমরা কিছু বলিনি। আমরা সম্মান জানিয়ে তাঁর নিকট আর্থিক সাহায্য চেয়েছিলাম, যে আমাদের এমপিও না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হতে শিক্ষকদের বেতন ভাতা দেয়া হোক, আর তিনি যেন জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা- ২০১৮ তে অন্তর্ভুক্তির জন্য শিক্ষামন্ত্রণালয়ের ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে এমপিও ভুিক্তর বিষয়ে প্রাপ্ত পত্রের জবাব বা সুপারিশ বা তাঁর মতামত পেশ করেন। গত ২৩/০৩/২০১৪ খ্রি: তারিখে শিক্ষামন্ত্রণালয় হতে লায়লা আরজুমান্দ বানু উপসচিব (বিশ্ববিদ্যালয় -২) স্বাক্ষরিত জনবল কাঠামো এবং এমপিও ভুক্তির বিষয়ে এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে ২৩/০৭/২০১৭ খ্রি: তারিখে ওয়াহিদা মুসাররত অনীতা , পরিচালক-৭ স্বাক্ষরিত ঐ একই বিষয়ে ভিসির মতামত জানতে পত্র ইস্যু করেন, কিন্তু পত্র পাওয়ার ০৫ (পাঁচ) বছর অতিক্রান্ত হলেও তিনি জবাব দেননি।
যেহেতু ভিসি স্যার আমাদের দায়দ্বায়িত্ব নিতে ব্যর্থ এবং জনবলকাঠামো সংশোধনীতিতে আমাদের অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ, তাই ভিসি ড. হারুন অর রশীদ স্যারের পদত্যাগ দাবী করছি। অচিরেই তার পদত্যাগ করা উচিৎ। আমরা সারা বাংলাদেশের শিক্ষকরা তার পদত্যাগের দাবীতে ঐক্যবদ্ধ আেন্দালন করছি এ ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মহামান্য রাষ্ট্রপতির সুদৃষ্টি কামনা করছি।

বাংলাদেশ বেসরকারি  কলেজ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফোরামের দাবী সমূহঃ

১) অনার্স মাস্টার্স কোর্সে নিয়োগপ্রাপ্ত নন এমপিও শিক্ষকদেরকে জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ তে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
২) ৫০০০ জন শিক্ষকের জন্য ১৪৬ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়ে অতিদ্রুত অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকদেরকে এমপিও ভুক্ত করতে হবে।
৩) বর্তমান করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকদের মানবেতর জীবন হতে কাটিয়ে উঠতে বিশেষ প্রনোদনা ঋণ ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চাই।
৪) সর্বোপরি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. হারুন-অর রশীদ স্যারের পদত্যাগ চাই।

বাংলাদেশ বেসরকারি  কলেজ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফোরামের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বেসরকারি কলেজ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফোরাম, খুলনা জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক সন্দীপ কুমার দাশ, সদস্য সচিব সুব্রত কুমার মন্ডল, সদস্য মো: সেলিম খান, মো: সাইফুল ইসলাম, শুক্রাচার্য্য রায়, সানজিদা সবনম, জিহাদুল ইসলাম, মো: মনিরুজ্জামান, রেজাউল ইসলাম, আজারুল ইসলাম, মাঈনুল ইসলাম, নিমাই গাই, হুমায়ুন কবির, মো: ফেরদৌস খান, তরনি কুমার জোয়াদ্দার, মো: আসাদুল ইসলাম, মো: ফারুকুর জামান, মোস্তফা ইহসান, বৈদ্যনাথ ঘোষ প্রমুখ