বাস ভাড়া কমানোর প্রস্তাব বাস মালিকদের

প্রকাশিত: ১০:৩৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৯, ২০২০

করোনাকালের আগের নিয়মে ফিরতে চান বাস মালিকরা। সামাজিক দূরত্ব মেনে বাসে অর্ধেক আসন খালি রাখার শর্তে বাড়ানো ৬০ ভাগ ভাড়াও প্রত্যাহার চান তারা। বুধবার সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সদর কার্যালয়ে বৈঠক থেকে সরকারের কাছে এ প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।
এর আগে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের কাছেও একই আবেদন জানিয়েছিলেন বাস মালিকরা। ভাড়া মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে বাড়ালেও করোনা প্রতিরোধে বাসে অর্ধেক আসন খালি রাখাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা বাধ্যতামূলক করা হয় মন্ত্রিপরিষদের আদেশে। স্বাস্থ্যবিধি শিথিল করে ভাড়া কমানো মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে সম্ভব নয়। বুধবারের বৈঠকে মালিকরা প্রস্তাব দেন, আগের ভাড়ায় বাসে ‘যত আসন তত যাত্রী’ পরিবহন করতে চান তারা।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, প্রস্তাবটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে যাবে। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে সরকার। স্বাস্থ্যবিধি শিথিল হলে আগের ভাড়া পুনর্বহাল করবে মন্ত্রণালয়। তবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত কার্যকর স্বাস্থ্যবিধির নির্দেশনা আগেই জারি হয়েছে। এরপর গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি শিথিল ও আগের ভাড়া পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে।
মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেছেন, বাস ব্যতীত ভাড়ায় চালিত সকল যানে সব আসন পূর্ণ করে যাত্রী তোলা হচ্ছে। বাসে অর্ধেক আসন খালি রাখতে হচ্ছে। তবে অনেক কোম্পানির বাস, লোক বাস এ শর্ত মানছে না। বারবার নির্দেশের পরও তারা স্বাস্থবিধি মানছে না। যেহেতু স্বাস্থ্যবিধি মানাই হচ্ছে না, তাহলে তা কাগজে কলমে রেখে লাভ নেই। এতে  যেসব বাস অর্ধেক আসন খালি রাখার নির্দেশনা মানছে তাদের লোকসান হচ্ছে। আবার বর্ধিত ভাড়ার কারণে যাত্রীদেরও লোকসান হচ্ছে। সব কিছু যেহেতু স্বাভাবিক হচ্ছে, তাই বাসেও স্বাস্থ্যবিধির শর্ত শিথিল করা উচিত।
সরকার অর্ধেক আসন খালি রাখার শর্ত দিলেও ঈদুল আজহার আগে থেকে অধিকাংশ বাসে এ নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। দূরপাল্লার লোকাল বাসে যথেচ্ছা যাত্রী তোলা হচ্ছে। ভাড়াও দ্বিগুন বাড়ানো হয়েছে। বিআরটিএও তা স্বীকার করেছে। বলছে, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেও স্বাস্থ্যবিধির লঙ্ঘন ঠেকানো যাচ্ছে না। উল্টো যাত্রীর পকেটে কাটা যাচ্ছে।
খন্দকার এনায়েত জানিয়েছেন, তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী সব সিটে যাত্রী পূর্ণ করার অনুমতি দেওয়া হলেও করোনা দূর না হওয়া পর্যন্ত বাসে দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলায় নিষেধাজ্ঞা থাকবে। যাত্রী, চালক, শ্রমিকসহ বাসের সবার মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক থাকবে। তবে কোনো যাত্রী চাইলে করোনা সতর্কতা হিসেবে পাশাপাশি দুই আসন ভাড়া করতে পারবেন।
করোনার বস্তার রোধে গত ২৫ মার্চ থেকে ৬৮ দিন বন্ধ রাখা হয় গণপরিবহন। ‘লকডাউন’ শেষে ১ জুন থেকে শর্ত সাপক্ষে চলাচলের অনুমতি দেয় সরকার। অর্ধেক আসন খালি রাখা ছাড়াও বাসে উঠানোর আগে যাত্রীর হাত ধোয়া, প্রতি যাত্রার আগে বাস জীবাণুমক্ত করা, চালক শ্রমিক ও যাত্রীকে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরার শর্ত দেওয়া হয়। নানা মহলের সমালোচনার পরও করোনার মন্দার মধ্যেই ভাড়া বাড়ে ৬০ ভাগ। ভাড়া কমাতে সরব রয়েছে বিভিন্ন সংগঠন।
বিআরটিএর চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদারের সভাপতিত্বে বৈঠকে ভিডিও লিংকে যুক্ত হন সড়ক পরিবহন সচিব নজরুল ইসলাম। যোগ দেন মালিক সমিতির সভাপতি মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ। সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি সাদিকুর রহমান হিরু, সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী, বিআরটিসির চেয়ারম্যান এহছান এলাহি প্রমুখ।


Categories