বাঙ্গরা থানার ওসির হস্তক্ষেপে মেটংঘর গ্রামের বাড়িতে ফিরলেন মেম্বারের নির্যাতনের শিকার ৭ পরিবার

প্রকাশিত: ৩:৪২ অপরাহ্ণ, জুন ৩০, ২০২০

মোঃ সাখাওয়াত হোসেন, মুরাদনগর (কুমিল্লা):
সরকারি খাস জমি দখল করে দোকান ঘর তৈরী করেছে। মালিকানাধীন দু’টি ড্রেজার দিয়ে উত্তোলন করা হচ্ছে তিন ফসলি জমির মাটি। আপন ভাই, ভাতিজা ও খালাতো ভাইদের মাধ্যমে সিন্ডিকেট তৈরী করে মাদক বিক্রি। এলাকার সাধারণ ঘটনাও নিস্পত্তি করতে হয় তার আদেশ অনুযায়ী। এসব বিষয় মানিয়ে নিয়েছেন স্থানীয়রা। কিন্তুু ঘুড়ি উড়াতে গিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। তারই জের ধরে ২০ জুন বাড়িতে গিয়ে মারধর করে গ্রাম ছাড়ার হুমকি দিয়ে আসে। আতংকে ৭ পরিবার গ্রাম ছাড়েন। এ ঘটনা জানতে পেরে ওসি (তদন্ত) ওমর চন্দ্র দাস তাদেরকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে ২৪ জুন গ্রামে ফিরিয়ে আনে। ওইদিনই থানায় একটি অভিযোগ দেয় ভূক্তভোগিরা। বর্তমানে তারা ভয়ে বাড়ির বাহির হচ্ছে না। এ ঘটনায় এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করলেও ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলছে না কেউ। এ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন ২নং আকুবপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মেটংঘর গ্রামের। আর এ অভিযোগগুলো খোদ ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দুলাল মিয়ার বিরুদ্ধে। সে মেটংঘর গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

ভূক্তভোগি ৭ পরিবার হলেন- মেটংঘর গ্রামের মৃত চান মিয়ার ছেলে আলী আকবর খান, মৃত আমানত খানের ছেলে জব্বার খান, মৃত চান খানের ছেলে করিম খান, মৃত জলিল খানের ছেলে সিরাজ খান, মৃত শাহজাহান খানের ছেলে জহির খান, মৃত জলিল মিয়ার ছেলে হাফিজ খান ও খোকন চন্দ্র দাসের ছেলে রাখাল চন্দ্র দাস।

পরিবারের সদস্যরা জানায়, গত ২২ এপ্রিল মেটংঘর মাঠে ঘুড়ি উড়াতে যায় আলী আকবর খানের ছেলে উমর খঁান (২১)। ঘুড়ি কাটাকাটির খেলায় উমর খঁানের ঘুড়িটি পাশের দুলাল মেম্বারের প্রজেক্টের ভিতরে পড়ে যায়। ওইখান থেকে ঘুড়ি আনতে গেলে মেম্বারের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে মেম্বার ও তার দলবল তাকে বেধরক পিটিয়ে আহত করলে রাখাল চন্দ্র দাসসহ স্থানীয় কয়েয়কজন তাকে কুমিল্লার ময়নামতি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালে নেওয়ার অপরাধে গত ২০ জুন ভোরে রাখাল চন্দ্র দাসের (২১) বাড়িতে গিয়ে হামলা করেন দুলাল মেম্বার ও তার দলবল। শোর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে তাদের উপর ক্ষীপ্ত হন মেম্বার ও তার দলবল। ঘটনার সময় হামলাকারীরা বসতবাড়ি ও দোকানঘর ভাংচুর পূর্বক ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। একই সময়ে দোকানের ক্যাশ থেকে ৪৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়। তখন তাদেরকে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেন মেম্বার। যার ফলে আতংকে রাখাল চন্দ্র দাসসহ ৭ পরিবার ভয়ে গ্রাম ছাড়েন এবং রক্তাক্ত রাখাল চন্দ্র দাসকে পাশ্ববতর্ী ব্রা‏হ্মন বাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করে।

ঘটনাটি মুঠোফোনে বাঙ্গরা বাজার থানার ওসিকে জানালে তিনি গ্রামে এসে থানায় অভিযোগ দিতে বলেন। ওসির কথামতো গত ২৪ জুন দুলাল মিয়া মেম্বারসহ নামধারী ১২জন ও অজ্ঞাতনামা আরো ১৮/২০ জনের বিরুদ্ধে ভূক্তভোগি উমর খান বাদী হয়ে একটি অভিযোগ করে। অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য অভিযুক্তরা হুমকি দিলে আতংকে বাড়ির বাহির হচ্ছে না তারা। এ ঘটনায় গত ২৬ জুন এলাকায় পুলিশ আসলে স্থানীয়রা ভয়ে কেউ পুলিশের কাছে মুখ খুলছে না। সকলের মাঝেই এখন আতংক বিরাজ করছে।

খেঁাজ নিয়ে আরো জানা যায়, মেটংঘর বাজারের প্রবেশ মুখেই রাস্তার দু’পাশে খাস জমি ভরাট করে ৪টি দোকানঘর তৈরী করেছেন মেম্বার দুলাল মিয়া। মেটংঘর গ্রামের উত্তর মাঠে তিন ফসলি জমির মাটি ড্রেজার দিয়ে কেটে বিক্রি করছে। তাছাড়াও তার ভাই, ভাতিজা ও খালেেতো ভাইদের যোগসাজসে মাদক ব্যবসার সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। ভাই হাবিব মিয়ার বিরুদ্ধে রয়েছে অপকর্মের মামলা।

উক্ত ঘটনায় অভিযুক্ত দুলাল মিয়া মেম্বারের মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, উমর গ্রামের উচ্ছৃঙ্খল ছেলে। রাখালও ভাল লোক নয়। তাই তাদেরকে মারধর করেছি। মেটংঘর বাজারের প্রবেশ মুখে আমার দোকান আছে। তবে বাজারের সব দোকানই খাস জমিতে। আমি ২৫ বছর যাবত আওয়ামীলীগ করি। কয়েকটি দোকান থাকা দোষের কিছু নয়। আমার দু’টি ড্রেজার মেশিন আছে। রাস্তাঘাট তৈরী করতে মাটি লাগে, মাটি পামু কই? স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে আপনার ক্ষমতা বলে ভাই, ভাতিজা ও খালাতো ভাইয়েরা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত এমন প্রশ্নে? তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন।

বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি (তদন্ত) অমর চন্দ্র দাস উক্ত বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনাটি শুক্রবার তদন্ত করতে গিয়েছিলাম। যতটুকু জানতে পেরেছি ভুল বুঝাবুঝির কারণে ঘটনাটি ঘটেছে। ইউপি চেয়ারম্যানসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি সমাধান করার দায়িত্ব নিয়েছে। অভিযোগ দেওয়ার পরও মামলা নেওয়া হচ্ছে না কেন এমন প্রশ্নে? তিনি বলেন, বিষয়টি সমাধান না হলে অবশ্যই মামলা নেওয়া হবে।

মুরাদনগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম কমল বলেন, খাস জমি দখল করে যদি কেউ দোকান তৈরী করে থাকেন তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে কিভাবে ড্রেজার দিয়ে তিন ফসলি জমির মাটি কাটেন এমন প্রশ্নে? তিনি বলেন, ড্রেজিং সম্পূর্ণ অবৈধ। সুতরাং অবৈধ কাজ যিনিই করবেন তিনি আইনের উর্ধ্বে নয়। ড্রেজারের বিষয়ে আমরা সোচ্চার আছি।