বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাঃ ছুঁতেই অচ্ছুত

প্রকাশিত: ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৯, ২০২০
bty

আমার ত্রিশটি বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতায় অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজিয়া বেড়িয়েছি। কতেক সমাধান করতে পেরেছি বাকি কিছু স্মৃতি। তথাপি সমাধান খুঁজি একাকী বাঁ সম্মিলিতভাবে। একথাটি ইদানিং সবাই একবাক্যে স্বীকার করে নিয়েছেন যে আমাদের দেশের শিক্ষার মানোন্নয়ন করতেই হবে। কিন্তু কিভাবে? সমাধানের পথ বাতলে দিতে চায় না কেউ। আর যারা যেচে এসে পথ বাতলায় তাদের কথা শুনতে চায় কেউ। শিক্ষা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা এসি রুমে বসে শিক্ষার মানোন্নয়নের গবেষণা করেন। নির্দেশনা দিয়ে দায়িত্ব শেষ করেন। তাঁরা বোঝেন শিক্ষার মানোন্নয়ন বলতে অত্যাধুনিক ভবন, বৈদ্যুতিক লিফট, নতুনত্ব শিক্ষা পদ্ধতি, নতুন শিক্ষা পদ্ধতি আমদানি করতে বিদেশ ভ্রমন ইত্যাদি। এসবের সাথে শিক্ষকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের দিকে একটু মনযোগ দেয়া যায় না? এতো এতো শিক্ষা গবেষণায় পদ্ধতির প্রয়োগ করে নীরিক্ষা করলেন, লাভটা কী হলো? দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশর শিক্ষার গুণগত মান নিন্মে। যে কথাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১০০ বছর পূর্বেই বুঝতে পেরেছিলেন সে কথাটি আমাদের কর্তারা ভুলেই বসে আছেন।

রবীন্দ্রনাথ এর উক্তি ‘ঘুরিয়া ফিরিয়া যেমন করিয়াই চলি না কেন, শেষকালে এই অলঙ্ঘ্য সত্যে আসিয়া ঠেকিতেই হয় যে, শিক্ষকের দ্বারাই শিক্ষার বিধান হয়, প্রণালীর দ্বারা নয়।
আমাদের দেশের শিক্ষকতা পেশা বৈষম্য বঞ্চনার শিকার হয়ে রয়েছে তো শিক্ষার মানোন্নয়ন হবে কিভাবে? প্রথাগত ভাবে শিক্ষা বেসরকারিকরণ এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনে সদিচ্ছার অভাব মূলত শিক্ষার মানোন্নয়নের বড়ো অন্তরায়। এতদসত্ত্বেও শিক্ষকদের সম্মান মর্যাদা রক্ষায় খুঁজে ফিরি অজানা কিছু প্রশ্নের।

এক। ২০১৫ পরবর্তী সময় থেকে সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রধানদের মধ্যে বেতন স্কেলের বৈষম্য তৈরি করা হলো কেন?
দুই। পূর্বের বছরান্তে এমপিওভুক্তির ধারাবাহিকতা ভঙ্গ করে স্বীকৃতি প্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি নয় বছর ধরে বন্ধ ছিল কেন?
তিন। পূর্ববর্তী প্রচলিত নীতিমালা উপেক্ষা করে কোন কারণ ব্যাতিরেকে শিক্ষকদের ৮ বছরের অভিজ্ঞতায় টাইম স্কেল বন্ধ করা হলো কেন?
চার। ২০১৫ সালের জাতীয় পে কমিশনের আইন উপেক্ষা করে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের দুই বছর বার্ষিক প্রবৃদ্ধি দেয়া হলো না কেন?
পাঁচ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা সত্ত্বেও, সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দুই বছর বৈশাখী ভাতা দেয়া হয়নি কেন?
ছয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক সদিচ্ছায় প্রণীত জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ সংসদে অনুমোদিত সত্ত্বেও জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন অসম্ভব কেন?
সাত- প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত এবং শিক্ষকদের সতন্ত্র বেতন স্কেল নির্ধারণের প্রস্তাবই কী শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের অন্তরায়?
আঁট- এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের টাইমস্কেল বাঁ উচ্চতর স্কেল প্রাপ্তিতে পূর্বের ৮ বছরের পরিবর্তে ১০ বছরের নীতিমালা প্রণয়ন কেন? প্রভাষকদের দুই বছরের পরিবর্তে ১০ বছরে একটি উচ্চতর বাঁ টাইমস্কেল কোন কারণ?
নয়। এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীরা জাতীয় পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্তি স্বত্তেও বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা শতভাগ প্রাপ্য হবেন না কেন?
দশ – ২০১৮ নীতিমালায় শিক্ষকদের বদলীর নীতিমালা প্রণয়ন করেও তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেই কেন?
এগারো- একটি স্বাধীন দেশে উনপন্চাশ বছরেও শিক্ষাব্যবস্থার একটি স্বীকৃত শিক্ষা আইন নেই কেন?
বার- শিক্ষক কর্মচারীদের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও অবসর কল্যাণ ট্রাস্টে বাড়তি সুবিধা না দিয়ে অতিরিক্ত কর্তন কেন? কোন আইনে?
তেরো- এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের কেন পদোন্নতির ব্যবস্থা নেই? শিক্ষা প্রশাসনের কোন স্তরেই কেন তাদের কোন প্রতিনিধি  নেই?
চৌদ্দ – শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নে প্রতিভাবান শিক্ষকের বিকল্প নেই। তা সত্ত্বেও কেন পিএসসির আদলে শিক্ষক নিয়োগ কমিশন গঠন করা হয়নি?

সদুত্তর পাওয়া যাবে না জেনেও লিখেছি এই আশায় যে যদি কখনো কোন শিক্ষা কর্মকর্তাদের নজরে আসে। সর্বোপরি একটি কথা বলতে চাই, ধারাবাহিক সরকারের শিক্ষাক্ষেত্রে অনেক অবদান তা অস্বীকার করার উপায় নেই। অবকাঠামোগত উন্নয়ন বিদেশে ভ্রমণ গবেষণা অনেক হয়েছে এবার শিক্ষকদের শিক্ষকদের অভাব অভিযোগ দূরীকরণে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের ঘোষণা দিন। এর মাধ্যমে শিক্ষকদের মর্যাদাশীল করুন, মানোন্নত শিক্ষায় জাতি দাঁড়িয়ে যাবে।

মোঃ সাইদুল হাসান সেলিম
সভাপতি
বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম