বন্য পরিস্থিতি ভয়াবহরূপ ধারণ করছে।

প্রকাশিত: ৮:৫৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০২০

গত জুনের শেষে এক দফা বন্যায় কুড়িগ্রাম সদরের পাটেশ্বরী গ্রাম প্লাবিত হয়ে গ্রামীণ সড়ক ডুবে গিয়েছিলো।ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে মাঠের ফসল,গাছপালা, পশুপাখি।

একটানা কয়েক দিন কমার পর আবারও বাড়তে শুরু করেছে নদ-নদীর পানি। শুক্রবার তিন নদীর পানি চারটি পয়েন্টে বিপদ সীমার উপর দিয়ে বইতে শুরু করেছে।ফলে সঙ্কা বেড়েছে বহুলাংশে।

আগামী কয়েকদিনের মধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন হিমালয় পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার প্রদেশে ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর।

ফলশ্রুতিতে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও আপাময় মেঘনা অববাহিকার নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ার আভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

চলতি মৌসুমে উজানের ঢলে জুনের শেষ সপ্তাহে নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করে। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে ১৭টি স্টেশনে নদীর পানি ছিল বিপদ সীমার উপরে। তা হ্রাস পেতে পেতে বৃহস্পতিবার সব স্টেশনে বিপদ সীমার নিচে নেমে এলেও শুক্রবার আবার বাড়তে শুরু করেছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া জানান, বহ্মপুত্র-যমুনা, উত্তরাঞ্চলের তিস্তা-ধরলা এবং উত্তর পূর্বাঞ্চলের আপার মেঘনা অববাহিকার নদ-নদীর পানি বাড়ছে। তাতে আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। তবে পদ্মা-গঙ্গার পানি আগামী ২৪ ঘণ্টায় স্থিতিশীল থাকতে পারে।

তিনি জানান, দেশের নদ-নদী গুলোর ১০১টি পর্যবেক্ষণ পয়েন্টের মধ্যে ৫৭টিতে শুক্রবার পানি বেড়েছে। এর মধ্যে সুরমা নদী কানাইঘাট ও সুনামগঞ্জ পয়েন্টে, যদুকাটা নদী লরেরগড় এবং গুড় নদী সিংড়া পয়েন্টে বিপদ সীমার উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র আগামী দুই সপ্তাহের পূর্ভাসে জানিয়েছে, উজানের ভারি বর্ষণে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির এ প্রবণতা আরও ৮-১০ দিন অব্যাহত থাকবে। তাতে বন্যার বিস্তারের সঙ্গে ভোগান্তিও দীর্ঘায়িত হতে পারে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংক্ষিপ্ত পূর্বাভাসে জানানো হয়, ৮ জুলাই থেকে মৌসুমি বায়ু ফের সক্রিয় হওয়ায় উজানে ভারতের অরুণাচল, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, সোমবারের মধ্যে বেশ কিছু পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। তাতে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, পাবনা, নওগাঁ ও নাটোর জেলার নিম্নাঞ্চললে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

কোথাও কোথাও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। উজানের ভারি বর্ষণের উপর নির্ভর করে বন্যা পরিস্থিতি কোথাও কোথাও জুলাইয়ের চতুর্থ সপ্তাহ পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উত্তরাঞ্চলে তিস্তা-ধরলার পানি এভাবে বাড়তে থাকলে লালমনিরহাট, নীলফামারী ও রংপুর জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্প মেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ধারণা করা হচ্ছে পদ্মা-গঙ্গা অববাহিকায় শনিবার থেকে নদ-নদীতে পানি বাড়তে পারে। রোববার থেকে কোথাও কোথাও বিপদ সীমার উপর দিয়ে পানি বইতে পারে।

ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর এবং চাঁদুপুর জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।যা জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারে।

এভাবে বর্ষণ অব্যাহত থাকলে পাহাড়ি ঢলে মেঘনা অববাহিকায় চার-পাঁচ দিন পানি বাড়তে পারে। তাতে সিলেট,সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোণার নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দিতে পারে।

আরও ধারণা করা হচ্ছে যে,নতুন করে ২৩টি জেলা বন্যায় প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। সেসব জেলায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করতে ইতোমধ্যে ডিসিদের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

এমনিতেই করোনার প্রাদুর্ভাব, পাশাপাশি বন্যার কারণে দিশেহারা বন্যা দুর্গত এলাকার জনগণ।


Categories