বন্যায় স্বাস্থ্য সচেতনতা ও করণীয়

প্রকাশিত: ৮:৩৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৯, ২০২০

নূরুল ইসলাম ,বগুড়া :

উত্তরাঞ্চলের বন্যা উপদ্রুত এলাকার নিম্নাঞ্চলসহ বসতবাড়ির অনেক অংশেই পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় পানীয় জল ও বর্জ্য পদার্থ মিলেমিশে একাকার। এ সময় স্বাস্থ্যসচেতন না হলে দেখা দিতে পারেডায়রিয়া,আমাশয়, টাইফয়েট,পেটের পীড়া, হেপাটাইটিস, চর্মরোগ সহ নানা রোগ ।তাই অবহেলা না করে এ বিষয়ে নিতে হবে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ। বন্যার সময় পানির উৎস দূষিত হয়ে যায় ।তাই পানি ভালোমতো ফুঁটিয়ে ঠান্ডা করে পান করা সহ গৃহস্থালির অন্যান্য কাজেও ব্যবহার করতে হবে ।বন্যার পানিতে টিউবওয়েল তলিয়ে গেলে এক কলস পানিতে তিন-চার চামুচ ব্লিচিং পাউডার মিশিয়ে টিউবওয়েলের ভিতরে সেই পানি ঢেলে আধাঘন্টা চেপে পানি বের করে ফেলে দিয়ে সেই পানি খাওয়ার উপযোগী হতে পারে। ব্লিচিং পাউডার না থাকলে একঘন্টা ঘন্টা টিউবওয়েলের পানি চেপে বের করে ফেলতে হবে। তবে নিরাপত্তার জন্য টিউবওয়েলের পানি ও ভালো মতো ফুটিয়ে নেওয়া উচিত ।পানি ছেঁকে জ্বলন্ত চুলায় একটানা ৩০ মিনিট টগবগিয়ে ফুটিয়ে তারপর ঠাণ্ডা করতে হবে ।পানি ফুটানোর ব্যবস্থা না থাকলে প্রতি দেড় লিটার খাবার পানিতে ৭.৫ মিলিগ্রাম হ্যালোজেন ট্যাবলেট ,৩ লিটার পানিতে ৫০ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট আধাঘন্টা থেকে ১ ঘন্টা রেখে দিলে পানি বিশুদ্ধ হয়। পানির ট্যাংকের প্রতি ১ লিটার পানিতে ২৫০ গ্রাম ব্লিচিং পাউডার ১ ঘন্টা রাখলেন বিশুদ্ধ হবে।বন্যায় প্রধান স্বাস্থ্য সমস্যা ডায়রিয়া। এজন্য খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুতে হবে ।পায়খানা করার পর একইভাবে হাত পরিষ্কার করতে হবে। ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা শুরু হলে পরিমাণ মতো খাওয়ার স্যালাইন খেতে হবে ।দুই বছরের কম শিশুকে প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর ১০ – ১২ চা চামুচ এবং ২ থেকে ১০ বছরের শিশুকে ২০ – ৪০ চা চামুচ খাওয়ার স্যালাইন বা ওআরএস না থাকলে বিকল্প হিসেবে লবণ গুড়ের শরবত খাওয়াতে হবে।পাশাপাশি ভাতের মাড়, চিড়ার পানি, ডাবের পানি ,কিছু পাওয়া না গেলে শুধু নিরাপদ পানি খাওয়ানো যেতে পারে। এ সময় শিশুর পুষ্টিহীনতা রোধে খিচুড়ি খাওয়ানো যেতে পারে। এ ছাড়াও ভিটামিন “এ’ক্যাপসুল খাওয়ানো যেতে পারে । যদি পাতলা পায়খানা ও বমিরমাত্রা বেড়ে যায় তাহলে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বা চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে। বন্যায় পচা-বাসি খাবার খেতে বাধ্য হয়ে অসংখ্য মানুষ। ফলে ছড়িয়ে পড়ে ডায়রিয়াসহ অন্যান্য তান্ত্রিক রোগ। খিচুড়ি খাওয়া এ সময় স্বাস্থ্যোপযোগী । খাবার প্লেট সাবান ও নিরাপদ পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। পানি বেশি খরচ হয় বলে অনেকে প্রথমে একবার স্বাভাবিক পানিতে থালাবাসন ধুয়ে তারপর ফুটানো পানিতে ধুয়ে নেন। কিন্তু এটা ঠিক নয়। এতে থালা বাসনে অনেক ধরনের জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে ,যা পরে পরিষ্কার পানিতে ধুলেও দূর হতে চায় না ।তাই খাবার গ্রহণের আগে থালা-বাসন পরিষ্কার বিশুদ্ধ পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।বন্যায় সময় মলত্যাগে সর্তকতা অবলম্বন খুব জরুরী। যেখানে সেখানে মলত্যাগ করা উচিত নয়। এতে পেটের পীড়া ও কৃমির আক্রমণ বেড়ে যায় ।সম্ভব হলে একটি নির্দিষ্ট স্থানে মলত্যাগ করতে হবে এবং মল ত্যাগের পরে সাবান বা ছাই দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে ফেলতে হবে কেননা বক্র কৃমির জীবন খালি পায়ের পাতার ভেতর দিয়ে শরীরে সংক্রমিত হয় ।এ সময় বাসার সবাইকে কৃমির ঔষধ খাওয়ানো উচিত তবে দুই বছর বয়সের নিচের শিশুদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বন্যার সময় ঘটে আকস্মিক নানা দুর্ঘটনা ।সাধারণত বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা, পানিতে ডুবে যাওয়া, সাপ ও পোকা-মাকড়ের কামড়ের ঘটনা বেশি ঘটে। এবছরের সাপের কামড়ে মারা গেছে অনেক মানুষ ।এছাড়া পানির নিচে বহু বৈদ্যুতিক টাওয়ার খুটি ট্রান্সফারের লাইনের তার ডুবে থাকে। এ সময় এসব বৈদ্যুতিক লাইনের নিচে দিয়ে নৌকা চালানো বা চলাচলের ক্ষেত্রে খুব সতর্ক হতে হবে ।তার ছিড়ে গেলে বা পানিতে পড়ে থাকলে তা স্পর্শ না করে বিদ্যুৎকর্মীদের জরুরিভাবে খবর দিতে হবে।


Categories