বন্দরের চাকরি দেওয়ার নামে ভুয়া নিয়োগপত্র, গ্রেপ্তার ৫

প্রকাশিত: ৭:৫৫ অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০২০

এম. ইউছুফ।। চট্টগ্রামঃ
বেকারের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে কে না চায়। তাই তো চাকরি নামের একটি সোনার হরিণের পেছনে ছুটছে সবাই, আর তা যদি হয় সরকারি, তাহলে তো কথাই নেই।

চট্টগ্রাম বন্দরে চাকরি দেওয়ার কথা বলে কয়েকটা প্রতারক চক্র সরল মনের লোকদের সোনার হরিণ পাইয়ে দেবে বলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এমনকি চক্রটি বিশ্বাসের জন্য ভুয়া নিয়োগপত্রও দেখিয়ে থাকে। আবার অনেকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে একাধিক চক্র৷ যাদের বিচরণ দেশজুড়ে।

দিন দিন বেকার সংখ্যা বৃদ্ধির সুবাদে তারা আরো সক্রিয় হয়ে উঠছে। যুবকদের সরকারি চাকরির সোনার হরিণ পাইয়ে দেওয়ার স্বপ্নটি রীতিমতো দুঃস্বপ্নে পরিণত হয় যখন জানতে পারে লাখ টাকা ব্যয়ে যে নিয়োগ পত্রটি মিলেছে সেটি ভুয়া৷
বাংলাদেশের সীমান্তের পঞ্চগড় থেকে সোহেল মিয়া নামের এক যুবককে চট্টগ্রাম বন্দরে চাকরি দেওয়ার নাম করে চট্টগ্রামে নিয়ে আসে এক প্রতারক চক্র। সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে চট্টগ্রাম বন্দরে অফিস সহায়ক পদে চাকরি দেবে বলে চক্রটি ইতিপূর্বে অগ্রিম পঞ্চাশ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

চট্টগ্রামে এনে ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে অবশিষ্ট টাকা দাবি করলে ভুক্তভোগী সোহেল মিয়ার পরিচিত এক লোক বিষয়টি চট্টগ্রামের এনডিসি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ রানাকে অবহিত করেন। মাসুদ রানা নিয়োগপত্রে স্বাক্ষরকারী চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) মো. মমিনুর রশিদকে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য ফোন করলে তিনি এটি ভুয়া নিয়োগপত্র বলে জানান।

এদিকে ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ রানা প্রতারক চক্রসহ সোহেল মিয়ার অবস্থান বের করেন। চট্টগ্রামে নগরীর আবাসিক হোটেল দুবাই-এর ২১১ নম্বর কক্ষে তারা অবস্থান করছিলেন।সাথে সাথেই চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)-এর এডিসি ইন্টেলিজেন্সকে জানানো হলে ডবলমুরিং থানার এসআই অর্নব বড়ুয়া সহ সাদা পোশাকে পুলিশের একটি টিম ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ রানা সহ সেখানে গিয়ে প্রতারক চক্রের রতন ও রেজাউল ইসলাম রেজা সহ পাঁচ সদস্যকে আটক করেন।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলার জন্য আটক পাঁচজনকে আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ডবলমুরিং থানায় হস্তান্তর করা হয়।