বই পড়ার আনন্দ

প্রকাশিত: ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৫, ২০২০
 মানুষ সভ্যতা প্রকাশের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম বই। আমাদের চারপাশে রয়েছে বিচিত্র স্বাদের বিচিত্র সব বই। উপন্যাস, নাটক ,গল্প, ইতিহাস, সাহিত্য, দর্শন, ভূগোল, বিজ্ঞান, আইন প্রভৃতি বিষয় বই থেকে মানুষ লাভ করে আনন্দ, শিক্ষা ও জ্ঞান। একেক ধরনের বই মানুষকে একেক ধরনের আনন্দ দিয়ে থাকে। মানুষ তার রুচি ও শখের সাথে সঙ্গতি রেখে বই নির্বাচন করে থাকে। অতীতের ঐতিহ্য,নানা চিন্তার অনুশীলন ও বিচিত্র ভাবনা ধারা সংরক্ষিত হয়েছে গ্রন্থ রাজির মাঝে। বই স্থান পেয়েছে বিভিন্ন জাতির ইতিহাস -ঐতিহ্য,বিচিত্র জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্প-সাহিত্যের স্রোতধারা। সে ধারার সঙ্গে মিলনেই ঘটে মানুষের আত্মপ্রকাশ। বিচিত্র বই পাঠ করে মানুষ আনন্দের অনুভূতি লাভ করে থাকে। মানুষ কেবল খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকার জন্য পৃথিবীতে আসে নি। তার মনে অনেক স্বাদ,অনেক স্বপ্ন। সে পেতে চাই জগতের অফুরন্ত আনন্দ। বই পড়লে আমরা কেবল নানা বিষয়ে জ্ঞানই লাভ করি না, পাই অনন্ত নির্মল আনন্দধারা। কবি ওমর খৈয়াম দুঃখ-কষ্টময় বাস্তব সংসারে নিষ্কলুষ আনন্দের রোমান্টিক পরিবেশ কল্পনা করেছেন। তাঁর সেই কাল্পনিক জগতে রয়েছে প্রিয়শী রুটি, মদ, নির্জন বনভূমি এবং একটি মহৎ গ্রন্থ। বলাই বাহুল্য,কবির উল্লেখিত জিনিসগুলোর মধ্যে কেবল বই চিরনবীন,চিরঅমর আনন্দ সাথী হিসেবে টিকে থাকতে পারে।কবি ও দার্শনিক ওমর খৈয়াম যথার্থই বলেছেন রুটি মদ ফুরিয়ে যাবে প্রিয়ার কালো চোখ ঘোলাটে হয়ে আসবে কিন্তু নির্জন নিরালায় একটি সুন্দর মানের বই পাইতাম তবেই নিজেকে ধন্য মনে করতাম।মানুষ যখন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে, বার্ধক্য জরা-ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে যায়, তখন সে বড়ই নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ে। মানুষের সেই নিঃসঙ্গ মুহূর্তে কেবল একটি সুন্দর বই-ই প্রকৃত বন্ধু মতো আনন্দ দিয়ে পারে। যে মানুষ বই পড়ে,সে মুক্তকণ্ঠ বলতে পারে, ‘মুক্ত করো হে সবার সঙ্গে,মুক্ত করো হে বন্ধু।”” আমরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বুড়ো বাংলা” বইটি পড়লে সেই কাল্পনিক সুবচনী হাঁসের ডানায় চড়ে বাংলাদেশের জলাভুমি থেকে সুন্দর হিমালয়ের মানস- সরোবর অবধি এক রোমান্টিক ভ্রমণের আনন্দ লাভ করতে সক্ষম হই। অথবা আমেরিকান উপন্যাসিক এ্যার্নেস্ট হেমিংওয়ে রচিত উপন্যাসটি পড়লে বৃদ্ধ সেন্টিয়াগোর করুন জীবন গাঁথা জেনে অভিভূত হয়ে যাই। অথবা শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘শ্রীকান্ত”, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের “পথের পাঁচালী”, মীর মশাররফ হোসেনের বিষাদ সিন্ধু,নিদেনপক্ষে ঠাকুরমার ঝুলির রসালো গল্পগুলো আমাদের অশান্তির যে অমিয়ধারা স্পর্শ করে যায় তা অন্য কোন কিছু থেকে সম্ভব নয়। প্রকৃতপক্ষে বই চির আনন্দের উৎস, চির সজীব। বই মানুষকে চিরকাল দান করেছে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা ও আনন্দ। বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তের নিসর্গ,প্রকৃতি, জীবনধারা ও জ্ঞানের কথা আমরা বইয়ের পাতা থেকে সংগ্রহ করি। কাজেই আমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ রুচি অনুসারে বই বেছে নিতে পারি এবং আমাদের বাছাই করা বই চিরকালের আনন্দ খুঁজে পেতে পারি।
লেখক: মোঃ নুরুল ইসলাম, বগুড়া ।

Categories