প্রাক প্রাথমিক থেকেই ছন্দের তালে তালে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে

প্রকাশিত: ৫:৪৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০

 

সকালে খালি পেটে পান্তা ভাত-পেয়াজ দিয়ে খেলে সারাদিন যত ভালো খাবারই খাওয়া হোক ঢেকুর দিলে সকালের পান্তা পেয়াজের ঘ্রাণই আসবে৷

প্রাক প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা মানে শিশুর শিক্ষাকাল শুরু৷ এ সময় যে শিক্ষা শিশুরা পায় সারাজীবন যত উচ্চ শিক্ষাই গ্রহণ করুক প্রাথমিক শিক্ষাটাই বারবার মনে পড়ে এবং সে শিক্ষাটা তার ভবিষ্যত জীবনে প্রভাব বিস্তার করে৷

জর্জ বার্নার্ড শ শিক্ষা সম্পর্কি বলেছিলেন, শিক্ষায় ”Reading, writing, Arithmetic এর সাথে ৪র্থ বিষয় religion থাকতে হবে৷ তবে প্রথম ৩ টির সাথে religion না থাকলে ৫ম টি চলে আসবে৷ আর সেটা হলেো Rascal.” শ এর উক্তির বাস্তবতা আমরা ইতিমধ্যেই টের পাচ্ছি৷

দেশ ও জাতির সেবায় একজন সত্যিকারের সুশিক্ষিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে শিশুদেরকে অবশ্যই অন্যন্য বিষয়ের পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষা প্রদান করতে হবে৷ ধর্মই মানুষকে সৎ, আদর্শিক ও নৈতিকতার পথে ধাবিত করে৷ যে শিশুর শিক্ষাটা শুরু হয় ধর্মীয় সঠিক মূল্যবোধ দিয়ে সে শিশু কখনো দূর্নীতিপরায়ণ হতে পারে না৷

এক সময় মক্তবভিত্তিক শিশু শিক্ষা প্রতিটি পাড়া মহল্লায় চালু ছিল৷ শিশুরা মক্তব থেকে গজলের তালে তালে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের বাণী পড়তো ও মুখস্ত করতো যা তাদের পর্রবতি জীবনে মনে পড়তো এবং মানুষ আজকালের মত এত জটিল, কুটিল ও দুর্নীতিপরায়ণ ছিল না৷ এখন মক্তব দখল করেছে কিন্ডার গার্টেনে৷ সকালে ঘুম থেকে উঠেই ক্যাপ- টাই পড়ে কেজি স্কুলের দিকে ছুটি অর্থহীন ও নীতি-নৈতিকতার নেই এরকম কিছু কবিতা ও শব্দগঠন শিখে৷ তার সাথে প্রাথমিক বিদ্যালয়েও শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রাক প্রাথমিক পাঠদানে ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার নেই৷ যে শিক্ষা শুরু হয় বাদ্যের তালে তালে সংগীত দিয়ে সে সকল শিশুরা বড় হয়ে উচ্চ শিক্ষিত হলেও তাদের মনে নীতি-নৈতিকতা ও আদর্শিক কোনো কথা আর মনে আসে না৷ মনে ঘুরপাক খায় শুধু টাকা আর ক্ষমতা৷ দেশের সম্পদ অবৈধভাবে ভোগ করার বাসনা মনে ধারন করে থাকে৷
জীবন পরিচালনায় ক্ষমতা ও টাকার প্রয়োজনীয়তা এবং অপ্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে পাঠ্য বইয়ে সুনির্দিষ্ট পাঠ সংযোগ করতে হবে৷ পাঠের সাথে সাথে ডকুমেন্টারীর মাধ্যমে জীবন ধারনে অর্থ ও প্রতিপত্তির প্রয়োজনীয়তার নির্দিষ্টতা ও অপ্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে মাইন্ড ফ্রেস ও মগজ ধোলাই করতে হবে৷

প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন করে যোগ্য ও আদর্শিক মাওলানা নিয়োগ দেয়া এখন সময়ের দাবী৷ প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির শিশুদেরকে একজন মাওলানা শিক্ষকের নেতৃত্ব প্রতিদিন এক ঘন্টা ধর্মীয় শিক্ষা দেয়া প্রয়োজন৷ অনুরূপভাবে অন্য ধর্মের শিশুদের বেলায়ও স্ব স্ব ধর্ম প্রযোজ্য হবে৷ সে শ্রেণি কার্যক্রমে ধর্ম ও নৈতিকতা সম্বলিত কিছু বাণী ও আসমানি বাণী শিশুদেরকে ছড়ার তালে তালে শেখানো উচিত৷ যে শিশু প্রাক প্রাথমিক থেকেই ধর্মীয় ও নৈতিকতার বুলি মাথার জায়গা করে নিবে সে শিশু বড় হয়ে দুর্নীতিপরায়ণ হয়ে রাষ্ট্রীয় ও অন্যের সম্পদ লুন্ঠনসহ রাহাজানির অবৈধ পথে প্রবেশ করবে না৷ অর্থহীন ও নীতিহীন বুলি সংস্কৃতির নামে বাদ্যের তালে তালে শিশুকাল থেকেই শিশুদের মাথায় জমাট বাধলে সেগুলো থেকে ভবিষ্যতের শিক্ষার্থীকে নৈতিকতার পথে সাথে কিছুই সহায়তা করবে না৷ বরং বাদ্যের তাল ও নীতি নৈতিকতাহীন ছন্দ শিশুর মগজে ঢুকে পরবর্তি জীবনে দুর্নীতি পরায়ন হতে সহায়তা করবে৷ ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান করতে পারলে ধর্ম থেকে প্রাপ্ত নীতি নৈতিকতা ভবিষ্যৎ জীবনে প্রভাব বিস্তার করবে৷ অন্যথায় বার্নাড শ এর মতে ব্রেইনে rascal বুদ্ধি প্রবেশ করতে পারে৷

আজ থেকে কয়েক দশক পূর্বে যখন মক্তব শেষ করে শিশুরা স্কুলে যেত তখন শিশুদের মেধার বিকাশ কম হয় নাই৷ বরং তুলনামুলকভাবে তারা অধিক মেধাবী ও জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন৷ কিন্তু তাদের মাথায় এত দুর্নীতির চিন্তা ঘুরপাক খেত না৷ কিন্তু এখন পরিস্থিতি জটিল থেকে আরো জটিল হচ্ছে৷ একজনের দুর্নীতি দেখে অন্যজন পিছপা না হয়ে পাল্লা ধরে দুর্নীতির প্রতিযোগিতায় যেন মেতে উঠেছে৷ প্রায় ১৬ কোটি জনসংখ্যার এ দেশে সরকার প্রতিটি মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়৷ সবাই স্ব স্ব অবস্থান থেকে নীতিপরায়ণ হয়ে দেশ প্রেমে উদ্ভোদ্ধ হতে হবে৷

পরিশেষে বলতে হয়, লোভ-লালসা ও দুর্নীতিপরায়ন হয়ে শিশু জন্মায় না৷ শিশু পানির মত যে যে পরিবেশ ও শিক্ষা প্রদান করা হয় সে পরিবেশের সাথে খাপ খেয়ে সে শিক্ষাই গ্রহণ করে৷ পৃথিবীর কিছু উন্নত দেশে বাংলাদেশের বহু শিক্ষিত লোক উচ্চ পদে চাকরি করে৷ কিন্তু অদ্যাবদি কোন বাঙ্গালী বিদেশের অফিসে দুর্নীতি করেছে এমন বড় ধরনের রেকর্ড পত্র পত্রিকায় দেখা যায় নাই৷ কিন্তু স্বদেশে বড় চেয়ার পেলে যেন বড় দুর্নীতিবাজ হয়! কারণ সে পরিবেশ সেখানে নেই এবং একজন থেকে অন্যেরা অনুপ্রেরণা পায় না৷ তাই প্রতিটি শিশুকে স্ব স্ব ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামুলক করে পরিবেশ সৃষ্টি করে দিতে পারলে নীতি নৈতিকতা প্রতিটি মানুষের মনেই একদিন স্থান পাবে বলে আশা করতে পারি৷

লেখক- মোহাম্মদ মহসিন মিয়া
সহকারী প্রধান শিক্ষক৷

 


Categories