প্রসঙ্গ এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি

যার যেখানে ব্যাথা সেখানেই হাত

প্রকাশিত: ৪:১৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৬, ২০২০

যুগের পরিবর্তন হচ্ছে। জীবন যাত্রার মানের পরিবর্তন হচ্ছে। দেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে পৌঁছে গেছে। উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় দ্বিতীয়। কিন্তু পরিবর্তন হচ্ছে না বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ভাগ্যের। এখনো পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি বদলি প্রথার। যেখানে বদলি প্রথা প্রতিটি পেশায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা ব্যবস্থায় বদলি প্রথার গুরুত্ব অপরিসীম। যা বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থায় নেই। এই বদলি প্রথা প্রচলিত না থাকার কারণে যতই দিন অতিবাহিত হচ্ছে ততই বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মাঝে শিক্ষক অসন্তোষ দেখা দিচ্ছে। বদলি প্রথা বাস্তবায়ন করার জন্য মানব বন্ধন সহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে শিক্ষকরা। শিক্ষা ব্যবস্থায় আন্দোলন চললে শিক্ষা ব্যবস্থার স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট হতে বাধ্য। শিক্ষা ব্যবস্থার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তাই বদলি প্রথা বাস্তবায়ন অতীব জরুরি। আমরা বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা সর্বক্ষণ চাই শিক্ষা ব্যবস্থার স্বাভাবিক পরিবেশ। অনেক শিক্ষক দূর দূরান্তে চাকরি করার ফলে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। কারণে অকারণে শিক্ষকদের হতে হয় লাঞ্ছিত। অনেক শিক্ষকের হাত পা বাধা থাকে ক্ষমতা বানদের হাতে তাই বন্দী দশায় অতিবাহিত করতে হয় চাকরি জীবন। নেই ব্যক্তি স্বাধীনতা, নেই কথা বলার অধিকার, নেই প্রতিবাদ করার অধিকার। সবদিক থেকে চাপ আর চাপ। চাপের ফলে দুর্বিষহ জীবন যাপন করতে হচ্ছে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের। এই সব চাপ থেকে মুক্তি পেতে তাই বদলি প্রথা একান্ত জরুরি। পরিবার পরিজন নিয়ে এক সাথে থাকার উপায় নেই বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক সমাজের। অনেক শিক্ষককে একাকীত্ব জীবন যাপন করতে হয়। যার প্রভাব পড়ে স্বাভাবিক জীবন যাপনে। আজ বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাস্তব জীবনে রক্তক্ষরণ হচ্ছে বদলির ব্যবস্থা না থাকার কারণে। যারা নিজ জেলা কিংবা থানার বাইরে শিক্ষকতা পেশায় আছেন তাদের থাকার জন্য প্রয়োজন সরকারি ন্যায় বাড়ি ভাড়া এবং চিকিৎসা ভাতা। কিন্তু বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা যে সামান্য বাড়ি ভাড়া এবং চিকিৎসা ভাতা পান তা দিয়ে কোন প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। বাড়ি ভাড়া মাত্র ১০০০ টাকা এবং চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা। বাংলাদেশের কোথাও ১০০০ টাকায় বাড়ি ভাড়া পাওয়া সম্ভব নয়। আর ৫০০ টাকায় চিকিৎসা ভাতা দিয়ে চিকিৎসার ব্যয়ভার করা সম্ভব হচ্ছে না। নিজ জেলা কিংবা উপজেলায় যদি বদলি প্রথা চালু থাকত তাহলে এই সমস্যার সমাধান প্রায় হয়েই যেত। আবার দেখা যাচ্ছে শিক্ষকরা বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে আপন গতিতে কিন্তু দেখা যাচ্ছে জাতীয়করণ ইসু নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে প্রায় অধিকাংশ সংগঠন। অনেকের মতামত জাতীয়করণই সকল সমস্যার সমাধান। আমরা জাতীয়করণের মাধ্যমে সব কিছু পেয়ে যাব। এটা বাস্তব সত্য কথা কিন্তু দেখা যাচ্ছে সংগঠন গুলোর মধ্যে ঐক্য না থাকার কারণে সেটাও আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থানে অনড়। কেউ কাউকে ছাড় দিয়ে এগিয়ে আসতে রাজি নয়। এমতাবস্থায় আমরা জাতীয়করণ কিংবা বদলি কোনটাই পাচ্ছি না। আমরা বদলি নিয়ে যদি এগিয়ে যাই তাহলে ক্ষতি কিসের। বদলি আদায় হয়ে গেলে জাতীয়করণের পথটা আরও সহজ হয়ে যাবে বলে আমি মনে করি। এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত। আপনারা একটু ভেবে দেখুন কোনটি আদায় করা সম্ভব হবে। জাতীয়করণ নাকি বদলি বিবেচনা করে দেখার জন্য অনুরোধ রইল। আমিও চাই সমগ্র বেসরকারি এমপিওভুক্ত এবং স্বীকৃতি প্রাপ্ত নন- এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি সহ জাতীয়করণ করা হউক। কিন্তু আমাদের মধ্যে অনৈক্য থাকার কারণে তাও সম্ভব হচ্ছে না। আগে আমাদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা আসলে কোনটা পেতে চাই জাতীয়করণ নাকি বদলি। জাতীয়করণ বর্তমান সময়ে গণ দাবিতে পরিণত হয়েছে এটা সত্য কিন্তু এর জন্য যা করা দরকার তা কিন্তু আমাদের বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এখনো পর্যন্ত সেই প্লাটফর্ম তৈরী করতে পারেননি। এজন্য আমাদের জাতীয়করণ আদায়ের দাবি পিছনে পড়ে গেছে।
তাই আমরা যদি বদলির দাবিতে ঐক্যমতে পৌঁছাইতে পারি তাহলে আশা করি আমরা সফলতা পাব ইনশাআল্লাহ। আসুন আমরা বদলির বিরোধিতা না করে সমর্থন দিয়ে এগিয়ে যাই জাতীয়করণ আদায়ে একধাপ। বদলি আদায় হয়ে গেলে জাতীয়করণ আদায় সহজ হবে।
সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে আসুন আমরা বদলির সফলতা কামনা করি।
ধন্যবাদান্তে
মোঃ আবুল হোসেন
কুকুটিয়া কে,কে,ইনস্টিটিউশন
শ্রীনগর, মুন্সিগঞ্জ


Categories