“প্রতিশোধ নিতেই চার মাসের শিশুকে গলা কেটে হত্যা করি”

প্রকাশিত: ৪:২২ অপরাহ্ণ, জুলাই ৮, ২০২০

রাজধানীর আদাবরে চার মাস বয়সী শিশু সাদিয়াকে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে ব্লেড দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে প্রতিবেশী পারভীন আক্তার। হত্যাকাণ্ডের পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এ হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন তিনি।

গ্রেফতারকৃত পারভীন আক্তার দায় স্বীকার করে বলেন, আমার দুই সন্তান সাদিয়াদের ঘরে গেলে গালিগালাজ ও মারধর করতেন তার মা বাবা। এর প্রতিশোধ নিতেই এবং ‘উচিত শিক্ষা’ দিতেই সাদিয়াকে খুন করেন পারভীন।

তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার হারুন অর রশিদ বুধবার দুপুরে নিজ কার্যালয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ।

তিনি বলেন, গত শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে উত্তর আদাবর ৩৮/১০ একটি বাসা থেকে গলাকাটা অবস্থায় চার মাস বয়সী শিশু সাদিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে উঠে আসে প্রতিবেশী পারভিন আক্তারের সঙ্গে নিহত শিশু সাবিহার বাবা শাহজাহান ও মা মুর্শিদা বেগমের সাথে পারিবারিক দ্বন্দ্বের বিষয়। ওই ঘটনায় আদাবর থানায় একটি মামলা হয়। পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করে।

তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার হারুন অর রশিদ বলেন, পুলিশ পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ, প্রযুক্তি সহায়তা ও গােপন সূত্রের ভিত্তিতে গত ৫ জুলাই ভুক্তভোগীর প্রতিবেশী পারভিনকে (২৪) গ্রেফতার করে। পরে আদালতের নির্দেশে তিনদিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সাদিয়াকে হত্যার দায় স্বীকার করেন।

জানা যায়,  পারভীন গৃহিণী। তিনি ৫ মাস আগে ঢাকায় আসেন। তার স্বামী একজন রিকশাচালক। সাদিয়ার বাবা একজন দিনমজুর ও দাদা বস্তির ম্যানেজার। পারভীনের স্বামীকে বাসার সামনে সাদিয়ার দাদা দোকান করতে না দেয়ায় তাদের মধ্যে মনোমালিন্য শুরু হয়। এছাড়া পারভিনের দুই বছর ও চার বছরের দুটি সন্তান সাদিয়াদের বাসায় গেলে সাদিয়ার বাবা-মা তাদের গালিগালাজ ও মারধর করতেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ ও শত্রুতার সৃষ্টি হয়।

উপ-কমিশনার হারুন অর রশিদ বলেন, ব্যবসা করতে না দেয়া, সন্তানদের গালিগালাজ ও মারধর করার কারণে পারভিন সাদিয়ার মাকে একটি ‘উচিত শিক্ষা’ দেয়ার পরিকল্পনা করেন। ঘটনার দিন সাদিয়ার মা তাকে ঘুম পাড়িয়ে রান্না করতে গেলে পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘরে ঢুকে ব্লেড দিয়ে গলা কেটে হত্যা তাকে হত্যা করেন পারভীন। তিনি একাই এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটান। পারভিন আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন এবং তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ব্লেডটি উদ্ধার করা হয়। খুব দ্রুতই শিশু সাদিয়া হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।


Categories