“পর্যটন শহর চায়ের দেশ- শ্রীমঙ্গল”

প্রকাশিত: ৯:০৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩১, ২০২০

শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার থেকে মোঃ সাইফুল ইসলাম, শিক্ষক।

     ঘুরে আসুন পর্যটন শহর চায়ের দেশ -শ্রীমঙ্গল ।

ছোট্ট এক ছিমছাম শহর। পরিচ্ছন্ন রাস্তা দিয়ে হাঁটলে মনে হবে সব গোছানো । শহরের সব স্থাপনার মাঝে রয়েছে নান্দনিকতার ছাপ। বলছিলাম মৌলভীবাজার জেলার একটি উপজেলা চায়ের রাজধানী খ্যাত শ্রীমঙ্গলের কথা। শ্রীমঙ্গল উপজেলাটি বেশ বড় হলেও শহরটি বেশ ছোট। ইতিমধ্যে নিরাপদ শহর হিসাবে দেশি বিদেশি পর্যটকদের আস্থা অর্জন করেছে। আকাশ থেকে দেখলে মনে হয় চা বাগানের বুক চিরে জেগে উঠছে অপরুপ সৌন্দর্য্যের এক সবুজ শহর। শহরের বাহিরে আপনি যে দিকে-ই তাকাবেন দুচোখ জুড়ে দেখবেন চায়ের বাগান। যা দেখলে চোখ জুড়ে খেলে যাবে এক অপরূপ সৌন্দর্য ও সবুজের সমারোহ। আর শহরের চার পাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে দেশের সব আকর্ষণীয় সব পর্যটন কেন্দ্র গুলো। ঈদের ছুটিতে আপনি বন্ধু-বান্ধব অথবা স্বপরিবারে বেড়িয়ে আসতে পারেন চায়ের দেশ শ্রীমঙ্গলের সব আকর্ষণিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলো। তাই যারা আসতে ইচ্ছুক তাদের জন্য শ্রীমঙ্গলের কয়েকটি আকর্ষণীয় স্থানের কথা বলছি-

চা বাগানঃ চা বাগান মানেই ‘অ্যাডভেঞ্চার’ বা রোমাঞ্চ। সবুজের চাদরে মোড়ানো চা বাগান পর্যটকদের কাছে খূবই আকর্ষণীয়। সিলেট বিভাগের ১৩৮টি চা বাগানের মধ্যে শুধু শ্রীমঙ্গলে রয়েছে ৩৮টি । এ জন্য শ্রীমঙ্গলকে চায়ের রাজধানীও বলা হয়। এতো চা বাগান, আপনি কোন বাগান দেখতে যাবেন সিদ্ধান্ত নিতে কষ্ট হবে। কারণ শ্রীমঙ্গলের পূর্বদিকে কিছূ অংশ হাওর ছাড়া পুরো উপজেলা জুড়ে শুধু চা বাগান। আপনি যখন মাইলের পর মাইল চা বাগানের ভিতর দিয়ে চলবেন তখন আপনার মনে হবে বিশ্বের সকল সৌন্দর্য্য যেন আপনার সামনে। মনে হবে কোনো দক্ষ শিল্পী যেন মনের মাধুরী মিশিয়ে স্তরে স্তরে সবুজকে সাজিয়ে রেখেছে।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানঃ সীমিত শহরের ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে এখনও মানুষ পেতে চায় শ্যামল অভয়ারণ্যের ছোঁয়া কিংবা একটু নিস্তব্ধতার একাকিত্ব। আর আপনি তা পেতে চাইলে আসতে পারেন লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে। শ্রীমঙ্গল থেকে ভানুগাছ-কমলগঞ্জ রাস্তায় ৭ কিলোমিটার এগুলেই লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। ট্রপিক্যাল ফরেস্ট’ খ্যাত জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রানীর মহামিলনের নান্দনিক প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্য্য মন্ডিত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। জীববৈচিত্র্যে ভরপুর এই উদ্যানে পশু-পাখি দর্শনের জন্য একটি  আকর্ষণীয় স্থান। যেখানে উঁচু-নিচু পাহাড়ের গায়ে সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে হাজার হাজার প্রজাতির লাখ লাখ বৃক্ষ। মাঝে মাঝে বৃক্ষ সারির মগডালে চোখ রাখুন দেখবেন বানর আর হনুমান লাফালাফি করছে। একটু ভেতরে প্রবেশ করলে আপনার চোখে পড়বে খাটাস, বনমোরগ, উল্লুক, মেছোবাঘ, বন বিড়ালসহ বিভিন্ন জীবজন্তু আর পার্কের বিশাল বিশাল বৃরাজি, জীবজন্তুর হুঙ্কার, ঝিঝি পোকার শব্দ, বানরের লাফালাফি, ঝাঁকঝাঁক উল্লূকের ডাকাডাকি একটু সময়ের জন্য হলেও আপনার ব্যস্ত জীবনের কান্তি দুর করে মনে এনে দেবে প্রশান্তির ছোঁয়া।

শ্যামলীঃ ভ্রমণ পিপাসুদের কথা ভেবেই লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতর শ্যামলীতে নির্মাণ করা হয়েছে একটি পিকনিক স্পট। প্রকৃতি প্রেমিক, ভ্রমণ বিলাসী ও সৌন্দর্য পিপাসুদের জন্য একটি দর্শনীয় স্থান এটি। আপনি আসবেন বলে শ্যামলীর এই শান্ত, অনাবিল সবুজ প্রকৃতির সাজে সেজে বসে আছে। এখানে রয়েছে নানা প্রকার বৃক্ষরাজি। দেশের আর কোথাও একই সাথে এত বৈচিত্র্যময় বৃক্ষ দেখা যায় না। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে ভানুগাছ সড়ক ধরে ৭ কিঃমি দুরে শ্যামলীর অবস্থান।

ভেষজ উদ্ভিদ বাগানঃ লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্কেই রয়েছে দেশের পূর্বাঞ্চলের একমাত্র ভেষজ বাগান আরোগ্য কুঞ্জ। মাগুর ছড়া গ্যাস কুপ পেরিয়ে প্রায় আড়াই কিঃ মিঃ পথ এগুলোই হাতের ডানদিকে চোখে পড়বে ভেষজ বাগান “আরোগ্য কুঞ্জ”। পার্কের ২ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এ ভেষজ বাগানে রয়েছে ৭৯ প্রজাতির ঔষধী গাছ।

বাংলাদেশ চা গবেষনা ইনস্টিটিউটঃ চারদিকে সারিবদ্ধ পাম, ইউক্যালিপটাস, একাশিয়া ইত্যাদি বৃক্ষরাজির শোভা। লেকের জলে ফুটন্ত লালপদ্ম। তারই মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই)। প্রকৃতি আর মানুষের হাতের ছোঁয়া গড়ে ওঠা এলাকাটির সৌন্দর্য্য নিঃসন্দেহে যে কাউকে মুগ্ধ করবে। চা গবেষনা ইনস্টিটিউট ছাড়াও এখানে রয়েছে একটি চা কারখানা। রয়েছে বিজ্ঞানাগার ও চা কারখানায় চা প্রক্রিয়াজাতকরণ দেখার সুযোগ।

জান্নাতুল ফেরদৌস কমপ্লেক্সঃ মসজিদুল আউলিয়া খাজা শাহ্ মোজাম্মেল হক (রহ:) নামের মসজিসটি তুর্কি নকশায় নির্মিত।  সর্বাধুনিক কারোকাজ সমৃদ্ধ এই সুন্দর মসজিদ কমপ্লেক্সটি শহর থেকে প্রায় সাত কিঃমিঃ দূরে মোহাজিরাবাদ এলাকায় অবস্থিত। দৃষ্টিনন্দিত মসজিদটি দেখতে এবং নামাজ আদায় করতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন অসংখ্য পর্যটক। সমতল থেকে ৭০-৮০ ফুট উপরে পাহাড়ের চূড়ায় স্থাপিত মসজিদটিতে যেতে হয়  ১৩৯ টি সিঁড়ি পেরিয়ে। প্রায় ১৯ বিঘা জমির ওপর নির্মিত কমপ্লেক্সটির চারদিকেই রয়েছে সবুজ পাহাড়। আকর্ষণীয় চাইনা ঝারবাতি সজ্জিত মসজিদের পাশেই রয়েছে একটি হেলিপেড।

নীলকন্ঠ চা কেবিনের ১০ রঙের চাঃ রীতিমতো বিস্ময়কর,অবিশ্বাস্য! এক গ্লাস চায়ে ১০ টি লেয়ার। ভিন্ন ভিন্ন রঙ। আপনি শ্রীমঙ্গলে আসবেন কিন্তু রমেশ রাম গৌড়ের উদ্ভাবিত নীলকন্ঠ কেবিনে বসে এক কাপ ১০ রঙের চাইয়ের স্বাদ নিবেন না তা হতে পারে না! মনিপুরী পাড়ায় প্রবেশ পথে নীলকণ্ঠ চা কেবিনে এই চা পাওয়া যায় ।

টি রিসোর্টঃ টি-রিসোর্ট টি উঁচু-নিচু পাহাড়ে ঘেরা। অপূর্ব সৌন্দর্য্য মন্ডিত এই টি-রিসোর্টের চারিদিকে আছে হরেক প্রজাতির গাছ-গাছালি। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে ৩ কিলোমিটার দুরে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সড়কের পাশে ভাড়াউড়া চা বাগান সংলগ্ন ২৫.৮৩ একর জায়গার ওপর এই টি রিসোর্টের অবস্থান। অত্যন্ত সুসজ্জিত বিদেশী রেস্ট হাউসের সমতুল্য আসবাবপত্রসহ সকল সুযোগ সুবিধা রয়েছে। পর্যটকদের জন্য সুইমিংপুলসহ ১টি অত্যাধুনিক টেনিস কোর্ট ও ব্যাডমিন্টন কোর্ট ও রয়েছে। প্রতিটি কটেজে উন্নতমানের ড্রইং, ড্রাইনিং, কিচেন, স্টোর রুম, ফ্রিজরুম, বাথরুমসহ ঠান্ডা ও গরম জলের ব্যবস্থা রয়েছে।

হাইল হাওরঃ সিলেটের শষ্যভাণ্ডার খ্যাত প্রায় তিন শতাধিক বিল নিয়ে গঠিত হাইল হাওর। ঐতিহ্যবাহী হাইল হাওর প্রাকৃতিক সম্পদ, জীব-বৈচিত্র ও জীবন জীবিকার বিবেচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি। এলাকার প্রধান মৎস্য ভাণ্ডারটির সরকারি ও বেসরকারি প্রায় দুই শতাধিক মৎস্য ফিশারি, শতাধিক হাঁসের খামার ও  অর্ধশত গরু-মহিষের বাথান। শতাধিক ফিশারি রয়েছে ।হাইল হাওরের মাছ স্বাদে আভিজাত্যতা আছে, তাই দামও বেশি। শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরে গেলে আপনি নৌকায় ভ্রমণ করে এর অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।  ভোরে হাওরের চারপাশে হাজার হাজার মৎস্যজীবীর মাছ আহরণের দৃশ্য অত্যন্ত মোহনীয়। বিকেলের হাইল হাওর থাকে  পাখিদের দখলে।

বাইক্কা বিলঃ শ্রীমঙ্গলে অবস্থতি বাইক্কা বিল হাইল হাওরের প্রাণ। সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে পাখি ও মাছের অভয়াশ্রম। বার মাসই সেখানে পাখি দেখা য়ায়। শুধু পাখি নয় এখানে রয়েছে বড় বড় দেশীয় প্রজাতির মাছ ।পাখি দেখার জন্য নির্মিত হয়েছে ৩তলা বিশিষ্ট টাওয়ার।  প্রত্যেক তলাতেই রয়েছে ১টি করে শক্তিশালী বাইনোকোলার।

মাগুর ছড়া গ্যাস্কূপঃ ১৯৯৭সালের ১৪ জুন গভীর রাতে এ গ্যাসকুপে ড্রিলিংয়ের সময় অগ্নি বিস্ফোরণে আশপাশের খাসিয়া পুঞ্জি, চা বাগান, রেল লাইন, সবুজ বনাঞ্চল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এই গ্যাসকুপটি এখন পরিত্যক্ত এবং সংরতি এলাকা। চারদিকে কাঁটাতারের বেড়া। দর্শনার্থীরা এ এলাকায় বেড়াতে এসে অবাক বিস্ময়ে অবলোকন করে মাগুরছড়ার দৃশ্যাবলী।

খাসিয়া পান পুঞ্জিঃ শ্রীমঙ্গলের যে বিষয়টি আপনাকে ভিন্ন এক অনুভুতি দিবে তা হলো খাসিয়া উপজাতিদের খাসিয়া পুঞ্জি। উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ের উঁচুটিলায় খাসিয়াদের বাসস্থান দেখতে পাবেন। টিলার পর টিলার যতোদুর পর্যন্ত দৃষ্টি যায় শুধুই পান গাছের সারি চোখে পড়বে।

ডিনস্টন সিমেট্রিঃ শতবর্ষের স্মৃতিবিজড়িত ডিনস্টন সিমেট্রি। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে প্রায় ১৫কিলোমিটার দূরে ডিনস্টন চা বাগানে এর অবস্থান। পাহাড়টিলায় ঘেরা চিরসবুজ চা বাগানের ভেতর সুনসান নিরবতার মাঝে ডিনস্টন সিমেট্রিতে ঘুমিয়ে আছেন ৪৬জন বিদেশী নাগরিক।

মণিপুরী পল্লীঃ স্বতন্ত্র কৃষ্টি-সভ্যতা, ভাষা-সংস্কৃতি, আচার-আচরণসমৃদ্ধ এক বৈশিষ্ট্যময় জনগোষ্ঠীর জীবনপ্রণালীর সঙ্গে পরিচিত হতে চাইলে আপনি এই পাড়ায় যেতে পারেন। এই পাড়ায় আপনি মণিপুরী মেয়েদের তাঁতে কাপড় বুননের দৃশ্য প্রত্যক্ষ করতে পারেন। তাছাড়া আপনার পছন্দমতো শাড়ি, চাদর, ওড়না, বেড কভার ইত্যাদি ক্রয় করতে পারেন। খাসপুরে রয়েছে মোয়ারাংথেম গোবিন্দের স্মৃতিস্তম্ভের ধ্বংসাবশেষ । যা একটি ঐতিহাসিক নির্দশন।

রাবার বাগানঃ শ্রীমঙ্গলে রয়েছে বন শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন, সিলেট এর নিয়ন্ত্রণে  সরকারী ৪টি রাবার বাগান। এছাড়াও বেসরকারি রাবার বাগান আছে বেশ কয়েকটি। আপনি ইচ্ছে করলে যে কোন একটি রাবার বাগান ঘুরে দেখতে পারেন এবং জানতে পারেন কিভাবে রাবার তৈরি হয়,। আপনি যখন হাজার হাজার রাবার গাছের মধ্য দিয়ে হাটবেন তখন আপনি দেখবেন গাছের ডালপালা পুরু আকাশটাকে ঢেঁকে রেখেছে। বাগানের ভিতরে রাবার গাছের ঝরা পাতার দৃশ্য আপনি ক্যামেরা বন্ধি না করে পারবেন না।

আনারস বাগানঃ স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয় শ্রীমঙ্গলের আনারসের খ্যাতি রয়েছে দেশ জুড়ে।  রেল অথবা সড়ক পথে ভ্রমন করলে রাস্তার দু’পাশে আনারস বাগান দেখতে পাবেন।

আগর বাগানঃ শ্রীমঙ্গলে রয়েছে বেশ কয়েকটি আগর বাগান। পাহাড়ের ঢালে ঢালে আগর চাষের দৃশ্য আপনাকে আপ্লুত করবে।

লেবু বাগানঃ খুব ভোর উঠে যদি শ্রীমঙ্গলের বাজারে যান, তাহলে দেখবেন শুধু লেবু আর লেবু। নিজের চোখকেই অবিশ্বাস্য মনে হবে এতো লেবু শ্রীমঙ্গলে জন্মে।

ভাড়াউড়া লেকঃ চারদিকে চা বাগান মাঝখানে বিশাল এলাকা জুড়ে রয়েছে একটি লেক। লেকে রয়েছে জলপদ্মের মেলা।দেখবেন শাপলা ফুল পরিপূর্ণ লেকটিতে হরেক রকম পাখির সমাহার। লেকের পাশের হেঁটে চলার পথটি এতোই সুন্দর যে, হাঁটার কান্তি আপনিই ভুলে যাবেন।

ওফিং হিলঃ চমৎকার একটি জায়গা অফিং হিল। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে কালিঘাট হয়ে হাতের বাম দিকে ইটা বিছানো রাস্তা ধরে পেয়ে যাবেন হুসনাবাদ চা বাগান। আর  একটু এগুলোই পাহাড়ের ভিতরে পাবেন একটি লেক। শাপলা, জলপদ্মে ভরা লেকটির এক পাশ থেকে অপর পাশে দেখবেন শত শত পাকৌড়ি আর সরালী ভাসছে। লেকটি এঁকে-বেঁকে অনেক দুর চলে গেছে। একটু দুর বিধায় এ লেকে পর্যটকদের ভীড় হয় কম।

বার্নিস টিলার আকাশ ছোঁয়া সবুজ মেলাঃ বার্নিস টিলার নামটা শুনেই মনে মধ্যে অজানাকে জানার জন্য আচমকা একটা শিহরণ দিয়ে উঠবে। আকাশ ছোঁয়া সবুজ মেলা দেখতে হলে আপনাকে অবশ্যই যেতে হবে বালিশিরা ভ্যালীর বার্নিশ টিলায়। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে কালিঘাট রোড হয়ে জিপে চড়ে পিচ রাস্তা ধরে প্রায় ৫ কি: মি: পথ এগুলেই পাবেন ফিনলে হাউজ। সেখান থেকে রাস্তা চলে গেছে চা বাগানের বুকচিড়ে কাঙ্খিত বার্নিশ টিলার দিকে। দেখতে পাবেন সু-উচ্চ টিলারাশি। আস্তে আস্তে যখন আপনি একটি টিলায় উঠে পড়বেন তখন আপনার বিশ্বাস করতেই কষ্ট হবে আপনি ভূ-পৃষ্টে দাঁড়িয়ে আছেন। মনে হবে বিমান কিংবা হেলিকপ্টার থেকে শ্রীমঙ্গল দেখছেন। টিলার একপাশে শুধু চা বাগান অন্যপাশে একের পর এক সবুজ টিলা।

যজ্ঞ কুন্ডের ঝর্ণাঃ শ্রীমঙ্গলে এসে শুধু সবুজের ছোঁয়া নিবেন তাতো হয়না একটু পানির ছলছল শব্দ শোনাওতো দরকার। তাই চলে যান শহরের কাছাকাছি জাগছড়া চা বাগানের ১৪নং সেকশনে যজ্ঞ কুন্ডের ধারায়। সেখানে রয়েছে অপরূপ সৌন্দর্য সমৃদ্ধ শ্রীমঙ্গলের একমাত্র ঝর্ণা। যারা এ ঝর্ণাকে প্রথম দেখবেন তারা অবশ্যই বিস্মিত হবেন। এটিও অপরূপ একটি সৃষ্টি। ঝর্ণাটি দেখতে আপনি শ্রীমঙ্গল শহর থেকে মৌলভীবাজার রোড হয়ে কাকিয়াবাজার নেমে ডান দিকে জাগছড়া চা বাগানে যাবেন । সামনে এগিয়ে গেলেই শোনতে পাবেন শা শা শব্দ। নেমে পড়বেন পাহাড়ী ছড়ায় দেখবেন কোন যাদুকর মাটিতে অপরূপ কারুকাজ করে পানি প্রবাহের পথ করে দিয়েছেন।

নির্মাই শিববাড়ীঃ শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্যবাহী নির্মাই শিববাড়ী ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে একটি আকর্ষণীয় স্থান। এখানে শিব মন্দিরের পাশেই রয়েছে ৯ একর জায়গা জুড়ে বিশাল একটি দিঘী। দিঘীর চারপাশে বিশাল এলাকাজুড়ে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ সারি।

সিতেশ বাবুর চিড়িয়াখানাঃ সিতেশ রঞ্জন দেব একজন প্রকৃতি প্রেমী । একজন প্রবীন প্রাণী সংরণবিদ ও পরিবেশবিদ। পশ্চিম ভাড়াউড়া এলাকায় সম্পুর্ন ব্যাক্তিগত উদ্যোগে তিনি গড়ে তুলেছেন মিনি চিড়িয়াখানা খ্যাত বন্য প্রাণী ফাউন্ডেশন। নাম মাত্র প্রবেশ মূল্যে যে কেউ চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করতে পারে।

মাধবপুর লেকঃ শ্রীমঙ্গলের অন্যতম পর্যটনের স্থান মাধবপুর লেক। এটি শ্রীমঙ্গল শহর  থেকে ১৫ কি: মি: পূর্বে শ্রীমঙ্গলের পাশ্ববর্তী কমলগঞ্জের মাধবপুর চা বাগানে। গাড়ি থেকে নামতেই আপনার চোখে পড়বে চারদিকে সবুজ পাহাড়। কাশফুলের সাদা পাহাড়। নীল আকাশের নিচে সবুজের গালিচা, তারই একপাশে শরতের বাতাসে দোল খেয়ে যাচ্ছে কোমল কাশফুল গুলো। পাশাপাশি উঁচু-উঁচু টিলা। সমতল চা  বাগানে শত শত গাছের সারি। হয়তো এরই মাঝে একঝাঁক পাখি আপনাদের আমন্ত্রণ জানাবে তার সুরের মুর্চ্ছনায়।হাজার হাজার ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকদের পদভারে পুরো বছরই মুখরিত থাকে এ লেক।

কিভাবে আসবেনঃ প্রতিদিন ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গলের পথে চারটি আন্তঃনগর ট্রেন যাত্রা করে কমলাপুর রেলষ্টেশন থেকে। এছাড়া সায়েদাবাদ ফকিরাপুল থেকে বাসে চড়ে আসতে পারবেন চায়ের দেশ শ্রীমঙ্গলে।

কোথায় থাকবেনঃ একটি পাঁচ তারকা হোটেল সহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক মানের রিসোর্ট রয়েছে শহরের আসেপাশে। আপনি কোলাহল মুক্ত পরিবেশে থাকতে চাইলে আপনার জন্য চা বাগানের ভিতর সরকারি ও আধা সরকারী সংস্থাগুলোর বেশ কিছু বাংলো রয়েছে । । এ ছাড়া শ্রীমঙ্গল শহরে ২০ টিরও বেশি আবাসিক হোটেল রয়েছে।


Categories