ঢাকা, ২৭শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ৩রা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

নিভে গেল ভাটি অঞ্চলের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র।


প্রকাশিত: ৭:১৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৮, ২০২২

                                   প্রফেসর মু. মুজিবুর রহমান

নিভে গেল ভাটি অঞ্চলের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাধীন সরাইল উপজেলার রাজাপুর গ্রামের মরহুম আজিজুর রহমান ওরুফে চান্দু মুন্সির ছেলে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃতিসন্তান, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, ভাটি অঞ্চলের গর্ব তথা আলোকিত ব্যক্তিত্ত, শিক্ষিত ছেলেমেয়েদের ছোট বড় চাকুরির অন্যতম নির্ভরতার প্রতীক, ভাটি অঞ্চলসহ বিভিন্ন অঞ্চলে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেয়ার সুনিপুণ কারিগর, আমিসহ শত শত শিক্ষিত বেকারদের নিয়োগ পত্রে যার স্বাক্ষর এখনো জ্বল জ্বল করে জ্বলছে।  ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ, আবদুস সাত্তার ডিগ্রি কলেজের সাংগঠনিক কমিটি / পরিচালনা পরিষদের সাবেক অন্যতম সদস্য, রোটারি ক্লাব অফ ব্রাহ্মণবাড়িয়া তিতাসের চার্টার প্রেসিডেন্ট, সর্বজন শ্রদ্ধেয় জনাব প্রফেসর মু. মুজিবুর রহমান স্যার উনার মেয়ের কাছে আমেরিকায় বেড়াতে গিয়ে গত কয়েকদিন আগে বাংলাদেশ সময় আনুমানিক রাত ১২/১২.৩০ ঘটিকার দিকে ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
সরাইল এলাকার কৃতি সন্তান সবার শিক্ষক না হয়েও যেন উনি সবার পরম প্রিয় শিক্ষক ছিলেন। প্রফেসর মু. মুজিবুর রহমান স্যার শুধু যাদের পড়িয়েছেন তাদেরই শিক্ষক ছিলেন না উনি সবার শিক্ষক, শিক্ষকেরও শিক্ষক অর্থাৎ ভাটি এলাকার মাঠির সন্তান ও এই মাঠির শিক্ষক।
May be an image of 1 person and sitting
প্রফেসর মু. মুজিবুর রহমান ছিলেন একজন অন্যতম সংগঠক। তিনি আরুয়াইল, পাকশিমুল, চাতলপাড়, গোয়ালনগর, ভলাকুট ও চুনটা ইউনিয়নের সমন্বয়ে ভাটি অঞ্চলের গ্রামীণ অবহেলিত উর্বর মেধা অন্বেষন ও উন্নয়নে গড়ে তুলেন “প্রতিভা সংঘ”। ব্রাহ্মনবারিয়াস্থ নিজের সুন্দর বাড়িকে করলেন প্রতিভা সংঘের প্রধান কার্যালয়।  ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে এক বিরল ঘটনা। কি প্রানবন্ত একজন সদালাপী হাস্যোজ্জ্বল বড় মনের মানুষ। যেমনি তাঁর মাটির দেহের বিশালতা তেমনি মনের প্রশস্ততা। প্রাণ প্রিয় ছেলে ও প্রিয়তমা স্ত্রী কে হারিয়েও সবসময় রয়েছেন হাসিখুশি আর প্রাণবন্ত যা কেবল বড় মন আর বড় মানের মানুষের পক্ষেই সম্ভব।
আজ স্যার নেই, সরাইল এলাকা আজ বড় অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন যা সকলকে বহুকাল বয়ে বেড়াতে হবে। মহান আল্লাহ পাকের ইচ্ছার বাহিরে কিছুই হয়না, আমেরিকায় মৃত্যুবরণ করায় আর ভৌগোলিক বৈচিত্র্যময় বিধিমালার জন্য প্রিয় স্যারের পবিত্র কবরে নিজ হাতে এক মুঠো মাঠি দিতে না  পারার দুঃখ অনেকেরই।  অনেক কষ্ট তবুও মহান আল্লাহ প্রিয় স্যারকে যেন সবসময় ভাল রাখেন।  শুধু আল্লাহ পাকের কাছে আকুল নিবেদন স্যার সকলকে যেভাবে আদর স্নেহ ও ভালবাসতেন আল্লাহ যেন স্যারকে তাঁর চেয়েও বেশি ভালবাসেন।
পরিশেষে কবি কাজী নজরুল ইসলামের করুন কবিতার এক লাইন স্যারের স্বরণে স্যারের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে লিখে শেষ করব।
“হটাৎ করে থেমে গেল আমার গানের বুলবুলি”।
উনার মৃত্যুতে আবদুস সাত্তার ডিগ্রি কলেজ পরিবার গভীর শোক প্রকাশসহ ও উনার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছে। মহান রাব্বুল আলামিন যেন উনার পরিবারের সকলকে এই শোক সইবার তৌফিক দান করেন। আমিন।