নাসিরনগরে ‘চোখ ওঠা’ রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি।

প্রকাশিত: ৯:৫২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২২
মোঃ আছমত আলী, নাসিরনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

নাসিরনগরে ‘চোখ ওঠা’ রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় নাসিরনগর উপজেলার ঘরে-ঘরে বাড়ছে চোখ ওঠা রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা। গত এক সপ্তাহে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন এ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীসহ সহস্রাধিক বাসিন্দা।
জেলা-উপজেলায় সরকারি-বেসরকারি চক্ষু হাসপাতালে আক্রান্তদের ভিড় বাড়ছে। তাছাড়া, স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চোখ ওঠা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে দিন দিন।এই রোগটি চোখ ওঠা নামেই পরিচিত। রোগটি ছোঁয়াচে। তাই দ্রুত অন্যদের মধ্যে ছড়ায়।
উপজেলা স্বাস্হ্য কর্মকর্তা অভিজিৎ রায় বলেন , গরমে, বর্ষায় ও ঋতু পরিবর্তনের সময় চোখ ওঠা রোগের প্রকোপ বাড়ে। কনজাঙ্কটিভাইটিসের লক্ষণ হলো চোখের নিচের অংশ লাল হয়ে যাওয়া, চোখে ব্যথা বা অস্বস্তি। প্রথমে এক চোখ আক্রান্ত হয়। পরে অন্য চোখে ছড়িয়ে পড়ে। এ রোগে চোখ থেকে পানি পড়তে থাকে। চোখের নিচের অংশ ফুলে ও লাল হয়ে যায়। আলোয় চোখে অস্বস্তি বাড়ে।এছাড়া চোখ উঠলে কালো চশমা ব্যবহার করা ভালো। এতে চোখে স্পর্শ করা কমবে এবং ধুলাবালু, ধোঁয়া থেকে চোখ রক্ষা পাবে। আলোয় অস্বস্তিও কমবে। এছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শে ড্রপ ও ঔষুধ ব্যবহার করতে হবে।
ডাক্তার সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতিদিনই চোখ ওঠা রোগে আক্রান্ত রোগীরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন। উপজেলা সদর ছাড়াও গ্রাম এলাকায় বাড়ছে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা,তবে, তিনি বলেন, এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার তেমন কিছু নেই। এটি এক ধরনের ভাইরাসজনিত রোগ। এক সপ্তাহের মধ্যে তা সেরে যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই রোগটিকে কনজাঙ্কটিভাইটিস বা চোখের আবরণ কনজাঙ্কটিভার প্রদাহ বলা হয় এবং রোগটি আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ থেকে ছড়ায়। রোগীর ব্যবহারের রুমাল, তোয়ালে, বালিশ অন্যরা ব্যবহার করলে এতে আক্রান্ত হয়।
এছাড়া এটি বাতাসের মাধ্যমেও ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তিকে সাবান পানি দিয়ে কিছুক্ষণ পর পরই হাত পরিস্কার করতে হবে। কোন কারণে চোখ ভেজা থাকলে চোখ টিস্যু পেপার দিয়ে মুছে নিতে হবে। ব্যবহারের পর টিস্যু পেপারটি অবশ্যই ময়লার ঝুড়িতে ফেলে দিতে হবে।

Categories