ঢাকা, ২৩শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১১ই রমজান, ১৪৪২ হিজরি
Logo

নরসিংদীতে প্রশংসিত ডিসি সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন-এর কুইক রেসপন্স টিম

প্রকাশিত: ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ, জুন ২০, ২০২০

নানা প্রতিকূলতার মাঝেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কিছু নারীর অভূতপূর্ব সাফল্য সকল ব্যর্থতার সিঁড়ি ভেঙে উজ্জ্বল নক্ষত্রে আলোকিত হয়ে উঠেছে। এমনি এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনের স্বাক্ষর রেখে একজন সফল নারী জেলার সর্বোচ্চ কর্তা ব্যক্তি হিসেবে সকলের কাছের স্বজন হয়ে উঠেছেন নরসিংদীর জনবান্ধব জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং দেশের অভ্যন্তরে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত কমিটি, নরসিংদীর সম্মানিত সভাপতি সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন। তার সুদৃষ্টি ও নিজ উদ্যোগে প্রতিনিয়ত নতুন কিছু করে দেশ ও মানুষের কল্যাণে তৎপর থাকেন। করোনা মহামারীতে এমন কোন পদক্ষেপ নেই যা তিনি গ্রহণ করেননি। এই জেলার প্রতিটি মানুষের জীবন রক্ষার জন্য দিন রাত পরিশ্রম করছেন। ইতোমধ্যেই যার কাজ ও পরিকল্পনা প্রশংসিত হয়েছে সরকারের সর্বোচ্চ মহলে।
বিশেষ করে করোনাকালীন এই মহাদূর্যোগপূর্ণ সময়ে যখন চারপাশে ভেঙ্গে পরছে মানবিক মুক্তির দেয়াল, ক্রমশ বাড়ছে মানবিক বিপর্যয়, তখন তিনি একজন সম্মুখযোদ্ধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন নরসিংদীবাসীর পাশে। করোনায় বা করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত ব্যক্তির পাশ থেকে যখন পরম আপনজন আড়ালে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তখন সামগ্রিক সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়ান তিনি। এসব কিন্তু কেবল একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসকের দায়িত্ব পালনই নয়, বরং এ সবকিছুর সঙ্গে মিশে থাকে গভীর মানবপ্রেম। তাই তিনি দায়িত্বের বাহিরে নরসিংদীর প্রিয় মানুষের জন্য ভালোবাসা আর ভালো লাগা থেকে গঠন করেছেন দেশের একমাত্র কুইক রেসপন্স টিম।

কুইক রেসপন্স টিমঃ
করোনা আতঙ্কিত পৃথিবীতে যখন সন্তান বাবার লাশ হাসপাতালে ফেলে পালিয়ে যায়, স্বামী যখন স্ত্রীকে করোনাক্রান্ত ভেবে জঙ্গলে ফেলে রেখে যায়; স্ত্রী যখন প্রিয় স্বামীকে ঘরের ভেতর আটকে রেখে বাহির থেকে তালা লাগিয়ে আত্মগোপন করে, প্রিয়জনের লাশ যখন কেউ স্পর্শ করেন না করোনা ভয়ে, তখন নিজেদের জীবনের মায়া ত্যাগ করে মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে সৈয়দা ফারহানা কাউনাইনের মানবিক সৃষ্টি কুইক রেসপন্স টিম তাদের দাহ/দাফন করে মৃত্যু ব্যক্তির জীবনের শেষ সম্মান রক্ষা করছেন।

মৃত্যুর দুয়ারে মানবতার দৃষ্টান্ত কুইক রেসপন্স টিমঃ
মৃত্যু মানবজীবনের এক স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু স্বাভাবিক মৃত্যুও যেন চলমান বাস্তবতায় এক পরম আরাধ্য। যে ব্যক্তি জীবিতাবস্থায় ছিলেন সকলের প্রিয়। করোনা আক্রান্ত হয়ে বা উপসর্গে নিয়ে মৃত্যুবরণ করায় সেই ব্যক্তিটির ক্ষেত্রে মানবিক দাবি আজ হুমকির মুখে। এরকম মানবিক বিপর্যয় ঠেকাতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন- এর মানবিক কুইক রেসপন্স টিম।
যেখানে খাবার নেই কুইক রেসপন্স টিম খাবার পৌঁছে দেন। যেখানে ঔষধ নেই সেখানে ঔষধ পৌঁছে দেন। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়ি/ঘর লকডাউন নিশ্চিত করেন। রোগীর স্বাস্থ্যের খোঁজ খবর লিপিবদ্ধ করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। মুমূর্ষু রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেন কুইক রেসপন্স টিম। এক কথায় পরম আত্মীয়ের মতোই সেবা দিয়ে যাচ্ছেন করোনার এ মহা দুর্দিনে সকলের পাশে থেকে কুইক রেসপন্স টিম।

মানবিক বিপর্যয় রোধে কুইক রেসপন্স টিমঃ
১. রাতের আঁধারে মানবসৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা, মুষলধারায় বর্ষিত বারি যেন প্রকৃতির কান্না হয়ে ঝরতে ছিলো। এমন ঝড়ের রাতে প্রিয়জনের পাশে ছিলো না কোনো পরিবার পরিজন, সেদিন পাশে ছিলেন দৃঢ়চেতা কুইক রেসপন্স টিম। সকল মানবসৃষ্ট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ জয় করে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় বাবু দিলীপ কুমার দাসকে মহাকালের অংশে পরিণত করেন মানবিক কুইক রেসপন্স টিম।
২. করোনায় আক্রান্ত তীব্র শ্বাসকষ্টজনিত কারণে নরসিংদী সিভিল সার্জন অফিসে কর্মরত পরিসংখ্যানবিদ মৃত আব্দুল মতিন সাহেব এর (৫৮) লাশ স্বাস্থ্যবিধি মেনে দাফন সম্পন্ন করেন কুইক রেসপন্স টিম। উল্লেখ্য যে আব্দুল মতিন সাহেব নরসিংদীতে প্রথম করোনা পজিটিভ হওয়া রোগীদের একজন। প্রথমবার করোনা পজিটিভ হওয়ার পর চিকিৎসা নিয়ে তিনি সুস্থ হয়ে দাপ্তরিক কাজ করে আসছিলেন। গত ১৪/০৬/২০ তারিখ তার ২য় বার করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয় এবং ১৫ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৮টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
৩. টাইফয়েডে মারা যাওয়া সন্ধ্যা রানী দাসকে সৎকারে এলাকাবাসী ও কোনো আত্মীয়স্বজন এগিয়ে আসেনি। বিষয়টি শুধু অমানবিকই নয়, দুঃখজনকও। শহরের বানিয়াছল এলাকার নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। সৃষ্টিকর্তার হাতেগড়া বনি আদম অবহেলায় পড়ে থাকবে এটা অমানবিক। দায়িত্ব নিলেন মানবিক সৃষ্টি কুইক রেসপন্স টিম। শহরের মেঘনা নদীর তীরের শ্মশানে সনাতন ধর্মের নিয়ম অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে সম্মানের সাথে পরম শ্রদ্ধায় তার সৎকার করেন কুইক রেসপন্স টিম।
৪. মানবিক বিপর্যয় রোধে ধর্মীয়বিধি ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ১৬/০৬/২০ নরসিংদী সদর উপজেলার পশ্চিম ব্রাহ্মন্দী নিবাসী পাকিজা টেক্সটাইল মিলস্ এ কর্মরত করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু শ্যামল সাহাকে (৪১) হাজীপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের শ্মশানঘাটে শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন কুইক রেসপন্স টিম।
৫. ১২/০৬/২০ নরসিংদী সদর উপজেলার আমদিয়া নিবাসী রত্না আক্তার (২৮) করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেন মর্মে সিভিল সার্জন অফিস নিশ্চিত করেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায় তিনি ৮/৯ দিন যাবৎ জ্বর ও প্রচন্ড শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ধর্মীয়বিধি মোতাবেক যথাযথ সম্মানের সাথে তার দাফন সম্পন্ন করেন কুইক রেসপন্স টিম।
নরসিংদীর যেখানেই মানবিক বিপর্যয়, করোনায় মৃত্যু লাশ দাহ/দাফন কাফনে বাধা, স্বাস্থ্যবিধি ও ধর্মীয়রিতি উপেক্ষীত, খাদ্য সংকট বা চিকিৎসা/ঔষধ প্রয়োজন সেখানেই অবিরাম ছুটছেন মান্যবর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন- এর কুইক রেসপন্স টিম।

স্বাস্থ্য সচেতনাতা বৃদ্ধি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাঃ
ডিসি মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকান, কাঁচা বাজার, রাস্তা ঘাট ও গণপরিবহনে চলাচলের সময় যাতে জনসাধারণ আবশ্যিকভাবে মাস্ক পরিধান করে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে সে বিষয়ে নিয়মিত সকল উপজেলায় একযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে। সেইসাথে আবশ্যিকভাবে মাস্ক পরিধান করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে মাইকিং কার্যক্রম পরিচালনা ও বিনা মূল্যে মাস্ক বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়াও যথাযথভাবে সরকারি নির্দেশনার আলোকে গণপরিবহন পরিচালিত হচ্ছে কিনা তা সুক্ষভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে।

কুইক রেসপন্স টিমের মহা নায়ক মো: শাহ্ আলম মিয়াঃ
যুদ্ধে যেতে হবে। তাই সেজেগুজে সকাল সকাল বের হয়ে পরেন করোনা যোদ্ধা মো: শাহ আলম মিয়া। তবে এ যুদ্ধ কোনো দেশ কিংবা শত্রুর সাথে নয়। নিজ দেশে অচেনা অজানা অদৃশ্য এক মহা শক্তির সাথে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশের স্বার্থে মান্যবর জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন- এর আদেশে দায়িত্ব পালনে যিনি সদা প্রস্তুত থাকেন তিনি হলেন করোনা সম্মুখ যোদ্ধা মো: শাহ আলম মিয়া।
সারাদিন ভেজালবিরোধী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, করোনা আক্রান্ত রোগীর বাড়ি লকডাউন, ঔষধ পৌঁছে দেওয়া, করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে দাফন ও সৎকার করে ক্লান্ত কিংবা বিরক্ত হননি তিনি। সন্ধ্যার পর বসেন অফিসে। সারাদিন জমে থাকা গুরুত্বপূর্ণ শত শত ফাইল যাছাই বাছাই করে সই করতে হবে। হাজারো মানুষের জায়গা জমির সমস্যার সমাধান করতে হবে। এইভাবে চলতে থাকা রাত ১২টা-১টা পযর্ন্ত। মাঝে মধ্যে সদর ভূমি অফিসে যাবার সুযোগ হয় আমার। সেই সুবাধে নিজের চোখে দেখেও বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়, একজন মানুষ এতো ধৈর্য আর পরিশ্রম কীভাবে করতে পারেন। জীবনের প্রতিটি দিন এইভাবেই চলছে করোনা যোদ্ধা মো: শাহ আলম মিয়া’র।

করোনায় আক্রান্ত/উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণকারী স্বজনদের অভিব্যক্তিঃ
মো: ওয়ালি উল্লাহ
সারাদেশে অনন্য এক দৃষ্টান্ত মাননীয় জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন স্যার- এর নির্দেশনায় ও পর্যবেক্ষণে গড়া কুইক রেসপন্স টিম। যার প্রধান সেনাপতি মো: শাহ আলম স্যার। নরসিংদীবাসীর জন্য আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমত ও নিয়ামত। দুআ করি দেশদরদী, মানবদরদী জেলা প্রশাসক জয় হোক আপনার।
সেবন্তী রানী দাস
করোনার মহামারীর এই সময়ের দৃশ্যপটটা অন্য রকম হতে পারতো যদি সরকারী নির্দেশনা আমরা মেনে চলতাম। আমাদের নরসিংদীর সুযোগ্য জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন মহোদয় এই করোনা মহামারীর সময় এমন কোন পদক্ষেপ নেই যা মানব কল্যাণে গ্রহণ করেননি। এই জেলার প্রতিটি মানুষের জীবন রক্ষার জন্য দিন রাত পরিশ্রম করছেন। তিনি আমাদের হৃদয়ে আত্মীয়র মতোই স্থান করে নিয়েছেন।
সঙ্কর দা
প্রিয় জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন মহোদয়, আপনি হয়তো একদিন এই জেলায় থাকবেন না, কিন্তু আপনি যে স্মৃতি, মায়া, মমতা, আর ভালোবাসা আমাদের দিয়েছেন, নরসিংদী জেলার মানুষ তা কোনো দিন ভুলবে না, প্রতিটি সেক্টরে আপনার যে অবদান আমরা নরসিংদীবাসী দেখতে পাচ্ছি, বিশেষ করে সাহসের সাথে যেভাবে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করছেন, আমাদের হৃদয়ে আপনি চিরদিন জড়িয়ে থাকবেন।
শাহজাহান মোল্লা
ডিসি সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন মহোদয়, মহান সৃষ্টি কর্তার অশেষ কৃপায় আপনাকে সব সময় যেন সুস্থ রাখেন, যাতে আরো অনেক অনেক বেশি দেশের সেবা করে যেতে পারেন। শুধু ধন্যবাদ নয় অনেক অনেক ধন্যবাদ মহান আল্লাহ যাতে আপনাকে ভালো রাখেন।
রাশিদুল ইসলাম শান্ত
প্রিয় জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, আপনার তুলনা হয় না। গরীব দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন ধন্যবাদ আপনাকে। নরসিংদীর করোনা প্রশমনে আপনার সাহসী ও সময়োপযোগী ভূমিকা নরসিংদীর ইতিহাসে অবিস্মরণয় হয়ে থাকবে।