নওগায় টাপেন্টা ট্যাবলেট খেয়ে দিশেহারা যুবকেরা!

প্রকাশিত: ৩:০৮ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২২, ২০২০

অহিদুল ইসলাম, নওগাঁঃ ক্রাইম স্পট-নওগাঁ,অন্তরালে ব্যাথা নাশক ট্যাবলেট টাপেন্টা,সাধারন যুবক কাজল যেভাবে ভয়ানক হয়ে উঠলো। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, মাদকের তালিকায় এক নতুন নাম ট্যাবলেট হান্ডেট?। ইতিমধ্যেই নওগাঁতে ব্যাপকহারে ট্যাবলেট হান্ডেট সেবীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে ছিচকে চুরি থেকে দূর্ধষ চুরির ঘটনাও। সম্পতি এমনই এক ভয়াভয় তথ্য বেড়িয়ে আসে (ব্যাথা নাশক ট্যাবলেট টাপেন্টা) ট্যাবলেট সেবনকারীর মুখ থেকে। যা পড়ে বা জেনে পাঠক মহলও সমাজের সচেতন মহল ক্ষনিকের জন্য হলেও থমকে যাবেন।

তবে, মূল ঘটনার পূর্বে আসুন জেনে নেই ভয়াভয় এমাদক সম্পর্কে। আসলেই মাদক সেবীদের কাছে ইতিমধ্যেই মাদকদ্রব্য হিসাবে যে, হান্ডেট ট্যাবলেট টি প্রিয় মাদক হিসাবে পরিচিত হয়ে ওঠেছে। সেটি পর্কৃতপক্ষে আমাদের দেশের সুনামধন্যও শীর্ষ ঔষুধ কোম্পানী, বাংলাদেশ গ্লোব ফার্মাসিটিউক্যালস লিমিটেড, এসকেএফ বাংলাদেশ লিমিটেড, অপসোনিন ফার্মা লিমিটেড এবং স্কয়ার ফার্মাসিটিউক্যালস লিমিটেড সহ বিভিন্ন ভালো মানের কোম্পানী গুলোর উৎপাদনকৃত মানুষের জীবন রক্ষাকারী ঐষুধ (ব্যাথানাশক ট্যাবলেট)।

সুনামধন্য কোম্পানীগুলোর উৎপাদনকৃত বিশেষকরে ব্যাথানাশক টাপেন্টাডল,পান্টাডল ও টাপেন্টা সহ একই গ্রুপের বিভিন্ন কোম্পানী কর্তৃক অভিন্ননামে বাজারজাত করা ব্যাথা নাশক ১০০ এমজি ট্যাবলেট গুলোকেই ভয়ানক মাদকদ্রব্য (হিরোইন ও ইয়াবা ট্যাবলেট) সেবনকারীরা প্রথমদিকে দামে সস্তা ও হাতের কাছেই ঔষুধের দোকান ফার্মেসীগুলোতে পাওয়ার কারনে সেবন শুরু করলেও বর্তমান এ গ্রুপের ট্যাবলেট সেবনকারীর সংখ্যা এতোটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, কোম্পানী গুলোর প্রকার ভেদে প্রতিটি ট্যাবলেট এর মূল্য ১২ টাকা থেকে ১৭ টাকা হলেও সেই ট্যাবলেট এখন কতিপয় ঔষুধের দোকানীরা মাদক সেবীদের কাছে প্রতি পিচ বিক্রি করছেন ১৮০ টাকা থেকে ২০০/২২০ টাকা পর্যন্ত। তথ্যমতে, বিশেষ করে হেরোইন ও ইয়াবা ট্যাবলেট সেবনকারীরাই হেরোইন ও ইয়াবা ট্যাবলেটের বিকল্প মাদক হিসাবে সেবন করছেন। একই সাথে হাতের কাছেই ঔষুধের দোকান ফার্মেসীগুলোতে পাওয়ায় দিনদিন এ (ব্যাথানাশক ট্যাবলেট) আসক্তীর সংখ্যাও বাড়ছে আশংখ্যাজনকভাবে। ইতিমধ্যেই মাদকের বিকল্প হিসাবে ব্যাথানাশক ট্যাবলেট সেবনে জড়িয়ে পরছেন কিশোর ও যুব-সমাজ, যার প্রভাবে ট্যাবলেট সেবনকারী কিশোর ও যুবকদের পরিবারেও প্রভাব পড়ছে সেই সাথেই নিস্ব হয়ে পড়ছেন একের পর এক পরিবার। ফলে ট্যাবলেট সেবনকারীরা জড়িয়ে পড়ছেন সিচকে চুরি সহ বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে।

অতি সম্পতি আপন (কাকা) চাচার বাড়িতে রাখা দোকানের (রিস্কা-ভ্যানের) পার্টস সামগ্রী চুরি করেন ভাতিজা। বিক্রিকালে ঘটনাটি ফাঁস হলে সেই যুবক ভাতিজা জনসম্মুখে ও প্রশাসনের কাছে প্রকাশ করেন এট্যাবলেট সম্পর্কে ভয়ানক তথ্য।
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার চৌমাশিয়া গ্রামের মৃত অনিল চন্দ্র বৌরাগীর ছেলে শ্রী নিমাই চন্দ্র (৩৬) বাড়ির পার্শ্বে নওহাটামোড় বাজারের একটি মার্কেটে (রিস্কা-ভ্যানের) পার্টস সামগ্রী’র দোকান করতেন। কয়েক মাস পূর্বে তার দোকান ঘড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার কারনে দোকানে থাকা আনুমানিক প্রায় ২ লাখ টাকা মূল্যের মালামাল নিজ বাড়িতে রেখে তিনি স্ব-পরিবারে সান্তাহার শহরে গিয়ে অটো-বাইক চালাতেন। গত ১৩ জুলাই সকালে নিমাই চন্দ্র’র আপন বড় ভাই স্বপনের যুবক ছেলে কাজল চন্দ্র (২৩) পার্শ্ববর্তী পাড়ায় দু’জনের কাছে পিতলের জগ ও কাপড় বিক্রি করেন তা দেখে নিমাই চন্দ্র’র প্রতিবেশীদেরকে জানালে, প্রতিবেশীরা মোবাইল ফোনে সান্তাহার শহরে থাকা নিমাই চন্দ্রকে খবর দেন।

খবর পেয়ে নিমাই চন্দ্র’র স্ত্রী সাধনা রানী তার মেয়ে সহ গ্রামে এসেই প্রতিবেশীদের কাছে বিস্তারিত শুনে গ্রামের লোকজন সহ বাড়িতে গিয়ে দেখতে পান যে, বাড়ির মূল দরজা ঠিক থাকলেও বাড়ির ভেতরের দরজা খুলে দেখতে পান দুটি ঘড়-ই এলোমেলো এবং স্টিলের বাক্স’র তালাও ভাঙ্গা। এসময় সাধনারানী প্রতিবেশীদের জানান যে, ঘড় থেকে পড়নের কাপড় ও কাসা-পিতলের থালা-বাসন ও একটি বাই-সাইকেল সহ দোকানের পার্টস সামগ্রী প্রায় সবই নেই। সাথে সাথে প্রতিবেশীরা পার্শ্ববর্তী ফিরোজ (৩২) নামের এক মাদক সেবীর শয়ন ঘড় থেকে কাজল চন্দ্রকে ধরে আনলে নেশার ঘোরে চুরির ঘটনা শিকার করে বর্ননা দেন ধৃত কাজল এবং সে টাপেন্টা নামক ব্যাথা নাশক ট্যাবলেট সেবনকারী বলেও শিকার করে ভয়াভয় তথ্যদিলে, গ্রামের লোকজন ঘটনাটি প্রতিবেদককে ফোনে জানিয়ে ঘটনাস্থলে যেতে অনুরোধ করেন।

খবর পেয়ে প্রতিবেদক (সাংবাদিক) অহিদুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন সরজমিনে ঘটনাস্থলে পৌছালে এসময় (কাকা) চাচার বাড়িতে চুরি করে ধরাপড়া ভাতিজা কাজল চন্দ্র বলেন, আমি ভুল করেছি এবং এ ভুলের জন্য আমি নিজে দায়ী নয় দাবি করে প্রতিবেদককে জানান, গ্রামের মৃত ময়েন এর ছেলে ফিরোজ হোসেন (৩২) এর পাল্লায় পড়ে আমি সহ আমাদের গ্রামের মুসলিম পাড়া ও পাহান পাড়ার মোট ১৪/১৫ জন সবাই টাপেন্টা নামক ব্যাথা নাশক ট্যাবলেট সেবন শুরু করলেও এখন আর ছারতে পারছিনা, টাপেন্টা ট্যাবলেট সেবন না করলে আর থাকতেও পারিনা। এ ব্যাথা নাশক ট্যাবলেট টাপেন্টা কোথায় পাওয়া যায় জানতে চাইলে, কাজল বলেন সরস্বতীপুর বাজারের অন্তিম এর দোকান থেকে অন্যদের মতো আমিও প্রতিদিনই ২/৩ পিচ করে নিয়ে এসে ইয়াবা ট্যাবলেট এর মতো করেই সেবন করি জানিয়ে আরো বলেন, ঔষুধের দোকানী অন্তিম প্রতিটি ট্যাবলেট ২০০ থেকে ২২০ টাকাকরে মূল্য নেয় আমাদের কাছে।

এ সময় কাজল চন্দ্র বলেন, আমি ঐ ট্যাবলেট খাওয়ার কারনে নেশাগ্রস্থ্য হয়ে নিজের চাচার বাড়িতে চুরি করেছি এবং আমার সাথে চুরিতে জড়িত রয়েছেন টাপেন্টা ট্যাবলেট সেবনকারী অপর সহযোগী ফিরোজ হোসেন। আমি ও ফিরোজ কয়েকদিন ধরে চাচার ঘড়ে চুরি করে বাই-সাইকেল সহ মালামাল একই গ্রামের ইসরাফিল নামে এক ব্যাক্তির কাছে জমা রেখেছি এবং সে আমাকে প্রায় ৩ হাজার টাকা দিয়েছে সেই টাকাও আমার সহযোগী ফিরোজ নিয়ে চলে যাওয়ায় আমি ফের চাচার ঘড় থেকে কাসার থালা, গ্লাস সহ পিতলের জগ ও কাপড় নিয়ে গ্রামের জৈনক দু’ব্যাক্তির স্ত্রীর কাছে বিক্রি করে আমি ধরা পরেছি। একই সময় সে আরো বলেন, ইসরাফিলের সহযোগীতায় চাচার ঘড় থেকে আনা বেশকিছু পার্টস সামগ্রী ইতিপূর্বেও নওহাটামোড়, সরস্বতীপুর ও ধনজইল বাজারে দোকানে বিক্রি করে টাপেন্টা ট্যাবলেট সেবন করেছি টাপেন্টা না খেলে থাকতে পারিনা বলেও এসময় জানায় ধৃত কাজল চন্দ্র। এরিমাঝেই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছেন নওহাটামোড় পুলিশ ফাঁড়ির এ এস আই সঙ্গীয় ফোর্স সহ।

তিনি ও উপস্থিত লোকজনের সামনে ঘটনার বর্ণনা কাজলের মুখ থেকে শুনে এবং চুরি যাওয়া বাড়ির ঘড় দেখে বাড়ির মালিক নিমাই চন্দ্রকে না পেয়ে তার স্ত্রী সাধনারানী সহ প্রতিবেশীদের বলেন যে, নিমাইকে খবর দিয়ে নিয়ে আসেন মামলা করতে থানায় যেতে হবে বলে দুপুর একটারদিকে জনতা কর্তৃক আটককৃত কাজলকে ফাঁড়ি হেফাজতে নেয় পুলিশ। এরপর ফাঁড়ি পুলিশ মামলা দায়ের করার জন্য একাধিক বার যোগাযোগ করলেও চুরি যাওয়া বাড়ির মালিক বাড়িতে না আসায় এবং নিমাই চন্দ্র’র স্ত্রী সাধনারানী ও সে সময় মামলা করা ত দূরের কথা ফাঁড়িতে না গিয়ে গোপনে চুরি যাওয়া মালামাল যেসব প্রতিবেশীদের কাছে বিক্রি করেছে সে-গুলো কিছু উদ্ধার করতে থাকেন।

অবশেষে নিমাই চন্দ্রর প্রতিবেশী শ্রী-শুকুমার চন্দ্রকে সাথে নিয়ে টাপেন্টা ট্যাবলেট সেবনকারী কাজল চন্দ্রকে ঐদিন রাতেই মহাদেবপুর থানার মাধ্যমে ভ্রাম্যমান আদালতে সোর্পদ করেন পুলিশ। ভ্রাম্যমান আদালতে নিজের দোষ শিকার করে বলেন, যে স্যার টাপেন্টা ট্যাবলেট না সেবন করলে আমি থাকতে পারিনা। এসময় ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক মহাদেবপুর ও উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা, নির্বাহী মাজিস্ট্রেট আটককৃত কাজল চন্দ্রকে ৩ মাস জেল সাজাঁদিলে রাতেই পুলিশ সাজাঁপ্রাপ্ত আসামী কাজলকে নওগাঁ জেল-হাজতে প্রেরন করেন। কাজলের সাজাঁ হওয়ার পর থেকে তার দু’জন সহযোগী গাঁ-ঢাকাদিয়েছেন।

অপর দিকে একই গ্রামের ১৪/১৫ জন কিশোর ও যুবক টাপেন্টা ট্যাবলেট এ আসক্ত এমন তথ্য বেড়িয়ে আসার পর থেকে চৌমাশিয়া গ্রাম সহ আসে-পাশের গ্রামের লোকজন এর মাঝে তোলপাড় চৃষ্টি হয় এবং সবাই ইতিপূর্বে একের পর এক দিন-দুপুরে গবাদীপশু ছাগল সহ সিচকে চুরির সাথে টাপেন্টা ট্যাবলেট সেবনকারীরা জড়িত সন্দেহ করে ঘটনাটি ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সদ্য আটককৃত কাজলের (কাকা) চাচা নিমাই চন্দ্রকে বললে অবশেষে ১৯ জুলাই রবিবার এব্যাপারে একটি অভিযোগ করেছেন থানায় জানিয়ে নিমাই চন্দ্র বলেন, ফিরোজ হোসেন ও ইসরাফিল এর পাল্লায় পড়ে আমার ভাতিজা কাজল চন্দ্র ও টাপেন্টা ট্যাবলেটে আসক্ত হয়ে পড়েন এবং আমার বাড়ি থেকেই সাংসারিক ও দোকানের প্রায় ১ লাখ ৫৬ থেকে ৬০ হাজার টাকা মূল্যের মালামাল চুরি করেন। অপরদিকে কোন অসাধু ঔষুধ ব্যবসায়ীরা অসৎ উদ্দেশ্য মাত্র ১২ থেকে ১৭ টাকা মূল্যের ব্যাথা নাশক ট্যাবলেট টাপেন্টা সহ একই গ্রুপের ট্যাবলেট মাদক হিসাবে বিক্রি করছেন তারা সহ সেবনকারী ও একই সাথে চুরিকৃত মালামাল ক্রয়কারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য মহাদেবপুর থানার মানবিক ওসি মোঃ নজরুল ইসলাম জুয়েল সাহেব সহ কর্মকর্তাদের আশুদৃষ্টি কামনা করেছেন ভূক্তভোগী সহ সচেতন মহল।

উল্লেখ্য যে- ইতি পূর্বেও ব্যাথানাশক দেশীয় কোম্পানীর এ ট্যাবলেট গুলো মাদক (ইয়াবা ট্যাবলেট ও হেরোইন সেবীরা) মাদকের বিকল্প হিসাবে সেবন করছে বলে বিভিন্ন মিডিয়াতে সংবাদ প্রকাশের পর গত ৮ জুলাই সরকারীভাবে মাদক প্রশাসন মাদক (খ) তালিকায় নিয়েছে এবং ইতি মধ্যেই বেশ কয়েকটি ঔষুধ কোম্পানী ব্যাথা নাশক এ ট্যাবলেট উৎপাদন বন্ধও করেছেন বলেও জানা গেছে।

 


Categories