নওগায় গভীর নলকূপের পানি সেচের মূল্য বেশি নেওয়ার প্রতিবাদ করায় উক্ত কৃষকের জমিতে পানি সেচ বন্ধ! 

প্রকাশিত: ৭:২৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ৮, ২০২০

অহিদুল ইসলাম, নওগাঁঃ নওগাঁর মহাদেবপুরে বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের গভীর নলকূপের অপারেটর কর্তৃক কৃষকদেরকে জিম্মি করে পানি সেচ এর মূল্য বেশী নেওয়ার প্রতিবাদ করায় প্রতি-হিংসা মূলকভাবে প্রদীপ কুমার নামের এক কৃষকের জমিতে চলতী আমন মৌসুমে পানি সেচ না দেওয়ার অভিযোগ। মহাদেবপুর উপজেলার ভীমপুর ইউপির রসুলপুর গ্রামে অবস্থীত গভীর নলকূপের অপারেটর কর্তৃক পানি সেচ না দেওয়ার কারনে ঐ কৃষকের মোট ১৩ বিঘা জমি অনাবাদী থাকার আশংখ্যা দেখা দিয়েছে। অথচ ভুক্তভোগী কৃষক প্রদীপ কুমারের আবাদী জমিতেই রয়েছে ঐ গভীর নলকূপের পানি সাপ্লাই এর ৪ টি ভাল্ব, তারপরও দেওয়া হচ্ছেনা পানি সেচ।

ভুক্তভোগী কৃষকের অভিযোগ পেয়ে ৭ জুলাই মঙ্গলবার দুপুরে সরজমিনে প্রতিবেদক ঘটনাস্থল মহাদেবপুর উপজেলার ভীমপুর ইউপির রসুলপুর গ্রামের মাঠে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন।

ভুক্তভোগী কৃষক শ্রী-প্রদীপ কুমার প্রাং (৪৯) জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে রসুলপুর গ্রামে অবস্থিত ঐ গভীর নলকূপের আওতায় থাকা ১৩ বিঘা জমিতে পানি সেচ নিয়ে ধান চাষ করে আসছিলেন এবং বিগত ইরিবোরো মৌসুমেও ঐ গভীর নলকূপের অপারেটর সহ পরিচালনাকারীরা কৃষকদের এক প্রকার জিম্মি করে প্রতি বিঘা জমিতে পানি সেচ এর মূল্য ১ হাজার ৮ শত টাকা নেওয়ার ঘটনায় কৃষক প্রদীপ কুমার প্রাং সে সময় পানি সেচের চড়া মূল্য নেওয়ার প্রতিবাদ করেন। তারপরও অপারেটর ও তার লোকজন কৃষকদের এক প্রকার জিম্মি করেই ১ হাজার ৮ শত টাকা হিসাবেই টাকাদিতে বাধ্য করান, যার ফলে প্রতিবাদকারী কৃষক প্রদীপ কুমারও ১ হাজার ৮ শত টাকা প্রতি বিঘা জমিতে পানি সেচের মূল্যদিতে বাধ্য হোন। এরপর চলতী বর্ষালি মৌসুমেও ধান রোপনের জন্য কৃষক প্রদীপ কুমার গভীর নলকূপের অপারেটর মোবাইদুর চৌধুরী ওরফে ডবল চৌধুরীকে পানি সেচ দেওয়ার জন্য বললে অপারেটার মোবাইদুল চৌধুরী ওরফে ডবল চৌধুরী বর্ষালি মৌসুমে পানি সেচ দেওয়া যাবেনা বলে জানিয়ে দেন। ফলে কৃষক প্রদীপ কুমার নিরুপায় হয়ে একটি অ-গভীর নলকূপ (শ্যালো মেশিন বসিয়ে) মোট ১৩ বিঘার মধ্যে ৮ বিঘা জমিতে বর্ষালী পারিজা ধান রোপন করেন।

এমত অবস্থায় চলতি আমন ধান রোপন মৌসুমে গভীর নলকূপের পানি সেচ দেওয়া শুরু করলে আমি ধান রোপনের জন্য আমার ৫ বিঘা জমিতে পানি সেচ দেওয়ার জন্য অপারেটার মোবাইদুর চৌধুরী ওরফে ডবল চৌধুরী, পরিচালনা কমিটির সদস্য রিপন, হরেন ও দিপেন সহ গভীর নলকূপের ড্রেনম্যানকে বললে তারা আমাকে সাফ জানিয়ে দেন যে, যেহতু আমি অ-গভীর নলকূপ স্থাপন করে ৮ বিঘা জমি বর্ষালি পারিজা ধান চাষ করেছি এজন্য আমার জমিতে পানি সেচ দেওয়া হবেনা বলেও জানিয়েছেন কৃষক প্রদীপ কুমার।

এছাড়াও গভীর নলকূপটি’র আওয়াতাধীন কৃষকদেরকে এক প্রকার জিম্মি করে পানি সেচের মূল্য বেশী নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
রসুলপুর গ্রামের মৃত ওসমান আলী মন্ডলের ছেলে ও ঐ গভীর নলকূপ সমবায় সমিতির সদস্য কৃষক আজিজার রহমান (৬০) বলেন, গভীর নলকূপটি সমবায় সমিতির মাধ্যমে ২২ জন সদস্য নিয়ে পরিচালিত হলেও পর্কৃতপক্ষে অপারেটর মোবাইদুর চৌধুরী ওরফে ডবল চৌধুরী এক প্রকার কৃষকদের জিম্মি করে রেখেছেন। তিনি আরো বলেন, ২২ জন সদস্যর মধ্যে আমিও একজন, তারপরও চলতি বর্ষালি মৌসুমে আমার জমিতেও পানি সেচ না দেওয়ার কারনে আমি শ্যালো মেশিন বসিয়ে ৮ বিঘা জমিতে পারিজা ধান রোপন করেছি।

এসময় তিনি সহ আরো দু’জন কৃষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আসলে বলার বা প্রতিবাদ করার কেউ নেই বলেই আমাদের (কৃষকদের) এক প্রকার জিম্মি করেই পানি সেচ এর চড়া মূল্য নিচ্ছেন অপারেটর মোবাইদুর চৌধুরী ওরফে ডবল চৌধুরী। বিগত ইরিবোরো মৌসুমে কৃষকদের কাছে থেকে বিঘা প্রতি পানি সেচের মূল্য ১,৮০০/= টাকা করে তুলেছেন এবং চলতি আমন মৌসুমেও প্রতিবিঘা জমিতে পানি সেচের মূল্য ১,০০০/= নির্ধারন করেই তবে কৃষকদের জমিতে পানি সেচ দিচ্ছেন অপারেটর।

এব্যাপারে ৭ জুলাই মঙ্গলবার সন্ধায় মোবাইল ফোনে রসুলপুর গভীর নলকূপের অপারেটর মোবাইদুর চৌধুরী ওরফে ডবল চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে, সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার সাথে সাথে তিনি বলেন, বেশী জমিতে পানি না নিয়ে শ্যালো মেশিন বসিয়ে পারিজা ধান রোপন করেছেন কৃষক প্রদীপ কুমার প্রাং এজন্য তার অপর ৫ বিঘা জমিতে পানি সেচ দেওয়া বন্ধ করা হলে, কৃষক প্রদিপ কুমার প্রাং তার জমিতে থাকা গভীর নলকূপের ড্রেন কেটেছেন এবং প্রদীপ কুমারের আবাদী জমিতে গভীর নলকূপের ৪ টি ভাল্ব ও ড্রেন রয়েছে, সেই ড্রেন ও কাটার কথা বলেছেন প্রদীপ কুমার এজন্য আমরা মহাদেবপুর বরেন্দ্র অফিসে এসেছি জানিয়ে গভীর নলকূপের অপারেটর মোবাইদুর চৌধুরী ওরফে ডবল চৌধুরী আরো বলেন, আমি অফিসে বসেই মাঠ থেকে ফোনে জানতে পেরেছি যে ঘটনাস্থলে আপনি (সাংবাদিক) গিয়েছেন বলেই তিনি উল্টো সাংবাদিককে প্রশ্ন করেন যে, আমাদের না জানিয়ে আপনে মাঠে কেন গেলেন আর আপনে যে গিয়েছেন সে বিষয়টিও আমি ফোনে লাউড স্পিকার দিয়ে অফিসে বসে সহকারী প্রকৌশলীকে শুনিয়েছি।

এসময় প্রতিবেদক অপারেটরকে বলেন যে, ঘটনাস্থলে মাঠে যেতে আপনার অনুমতি নিয়ে যেতে হবে নাকি, এমন প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তিনি এড়িয়ে যান। ফের তাকে জানানো হয় আমি নিজে ঘটনাস্থলে মাঠে গিয়ে দেখেছি প্রদীপ কুমার এর জমিতে থাকা কোন ড্রেন ত কাটা হয়নি সব ড্রেনই রয়েছে এবং ড্রেনদিয়ে পানিও সেচ দিচ্ছে ড্রেনম্যান। এমন কথা শুনে, অপারেটর মোবাইদুর চৌধুরী ওরফে ডবল চৌধুরী বলেন, তাই আমি ত মাঠে যায়নি আমি ড্রেন কাটার কথা শুনেছিলাম, এসময় পানি সেচ এর মূল্য বেশী নেওয়ার কথা তুলতেই তিনি ফোন কেটে দেন।
পানি সেচের মূল্য বেশী নেওয়া ব্যাপারে জানতে ঐ গভীর নলকূপ পরিচালনাকারী সমবায় সমিতির সদস্য রিপন চন্দ্র মন্ডলের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মহাদেবপুর আছেন জানিয়ে কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

এব্যাপারে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সহকারী প্রকৌশলীর মহাদেবপুর কার্যালয়ে ৭ জুলাই মঙ্গলবার বিকাল সারে ৩টায় গিয়ে অফিসে সহকারী প্রকৌশলীকে না পেয়ে এক পর্যায়ে অফিস থেকেই সহকারী প্রকৌশলী কাজী আশেকুর রহমান এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি ৩টা পর্যন্ত অফিস করেছি কিছুক্ষন পূর্বেই আমি ৩য় তলায় (অফিসের উপরে বাসায়) উঠে এসেছি এবং আমার চোখেঁ সমস্যার জন্য ড্রপ দিয়েছি এজন্য নিচে (অফিসে) আসতে পারছিনা জানিয়ে তিনি বলেন, ভুক্তভোগী কৃষক এর নাম ও মোবাইল নং সহ ঠিকানা এবং গভীর নলকূপের অপারেটর এর নাম ও মোবাইল নং একটি কাগজে লিখে অফিস স্টাফদের কাছে রেখে যান আশু পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানালে ঐ সময় ভুক্তভোগী কৃষক এর নাম ও মোবাইল নং সহ ঠিকানা অফিসে দিয়ে আসা হলেও আজ ৮ জুলাই বুধবার বিকালে সংবাদ লেখার সময় পর্যন্ত এব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বা ভুক্তভোগী কৃষকের সাথে কেউ যোগাযোগও করেনি বলেই জানাগেছে।

এব্যাপারে-ঐ গভীর নলকূপের আওয়াতাধীন কৃষকরা যেন কোন প্রকার হয়রানী বা জিম্মি’র শিকার না হয়ে সরকারী নির্ধারীত মূল্যে পানি সেচ পান এবং কৃষক প্রদীপ কুমারও যেন তার জমিতে পানি সেচ নিয়ে ফসল ধান চাষ করতে পারেন এমন আশু পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সহকারী প্রকৌশলী মহাদেবপুর সহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশুদৃষ্টি কামনা করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।


Categories