নওগাঁয় শিক্ষকের কাছে চাঁদাবাজী করার অভিযোগে ৫ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা!

প্রকাশিত: ৬:০৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ২, ২০২০

অহিদুল ইসলাম, নওগাঁ ।।
নওগাঁর মহাদেবপুরে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজীর অভিযোগে ৫ জনের বিরুদ্ধে এক কিন্ডার গার্টেন স্কুলের শিক্ষক গত ১ জুলাই বুধবার রাতে থানায় মামলা দায়ের করেছে। মামলা দায়েরের পর থেকে অভিযুক্ত সেই ৫ সাংবাদিক গাঢাকা দিয়েছে। মহাদেবপুর থানা মামলা নং ১ থানা পুলিশ জানায়, উপজেলা সদরের ঘোষপাড়া মোড় কলাবাগান এলাকায় বসবাসরত নিউ মালঞ্চ কিন্ডার গার্টেন স্কুলের সহকারী শিক্ষক আব্দুল মতিন এ মামলা দায়ের করেন।

মামলা বিবরণে জানা যায়, বরুন মজুমদার নতুন প্রভাত ও আমার সংবাদ মহাদেবপুর প্রতিনিধি, কাজী শামসুজ্জোহা মিলন বার্তা সম্পাদক মহাদেবপুর দর্পণ, সম্পাদক মহাদেবপুর দর্পণ কিউএম সাঈদ টিটো, ইউসুফ আলী সুমন দৈনিক যায়যায়দিন, দৈনিক রাজশাহীর মহাদেবপুর প্রতিনিধি এবং আমিনুর রহমান খোকন দৈনিক দূরন্ত সংবাদ মহাদেবপুর প্রতিনিধি গত ৬ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে আব্দুল মতিনের কলাবাগানস্থ বাসায় জোরপূর্বক প্রবেশ করে। এ সময় কিন্ডার গার্টেন স্কুল শিক্ষক আব্দুল মতিনকে ৬/৭ জন সমাপনী পরীক্ষার্থীকে পড়ানো দেখে ওই ৫ সাংবাদিক ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে এবং প্রাইভেট পড়ানোর অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজার ভয় দেখিয়ে এই স্কুল শিক্ষকের কাছে ১ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করেন। এ সময় ওই শিক্ষকের স্ত্রী চাঁদা দাবীর প্রতিবাদ করলে তার সাথেও অশালীন আচরণ করে বলে অভিযোগ করা হয়। এক পর্যায়ে ওই শিক্ষক ভ্রাম্যমান আদালতে সাজার ভয় এবং নিজের মান-সম্মান রক্ষার্থে এ সময় সাংবাদিক মজুমদারকে ১২ হাজার টাকা প্রদান করেন। চাঁদা দাবীর বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য ওই ৫ জন শিক্ষক আব্দুল মতিনকে হুমকি প্রদর্শন করে চলে যান।

এ বিষয়ে শিক্ষক আব্দুল মতিন বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ৫ম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষার্থীদের পড়া-শোনা বিঘ্নিত হচ্ছে। তিনি অভিভাবকদের অনুরোধক্রমে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সেদিনই প্রথম ৬/৭ জন সমাপনী পরীক্ষার্থীকে পড়ানো হচ্ছিল। প্রাইভেট পড়ানোর বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ফোনে ডেকে নিয়ে ভ্রাম্যমান আদালতে সাজা দেয়া হবে এমন ভয় দেখিয়ে তারা আমার কাছে ওই টাকা দাবী করেন বলে শিক্ষক আব্দুল মতিন জানান।

মামলার সত্যতা স্বীকার করে অফিসার ইনচার্জ মো: নজরুল ইসলাম জুয়েল বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পরে গতকাল ওই ৫ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।