নওগাঁয় প্রতিবন্ধী ছাত্রীকে ধর্ষণ, শালিশে জুতা পেটা ও জরিমানা দেওয়ার পরও শ্রীঘরে দাদু

প্রকাশিত: ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৯, ২০২২

অহিদুল ইসলামঃ নওগাঁর মান্দায় প্রতিবন্ধী শিশু শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর ৮ হাজার টাকার মাধ্যমে ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মাতবরদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের বড় চকচম্পক গ্রামের সদর উদ্দিনের ছেলে আশরাফুল ইসলাম ওরফে শুটকা (৩৫)কে মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০ টার দিকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

স্থানীয়রা সূত্রে জানা যায়, গত ৬ জানুয়ারি বেলা ১১ টার দিকে মাছ ধরার কথা বলে খালের পাড়ের একটি সরিষার খেতে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। সম্পর্কে তিনি ওই শিশুটির দাদু হন।

ভিকটিম শিশুটির মা জানান, তাঁর মেয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী ও স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। আমার মেয়েকে এ পাশবিক নির্যাতন করেন আমার মামা শ্বশুর। পরে অসুস্থ মেয়েকে বাড়ি পৌঁছে দেন মামা শ্বশুর পরিবারের লোকজন। এ সময় আমার স্বামী বাড়িতে ছিলেন না। রাতে বাড়ি ফিরলে তাকে ঘটনার বিষয়ে অবহিত করি। স্থানীয়ভাবে মেয়েকে চিকিৎসা দিয়ে তাকে সুস্থ করে তোলা হয়েছে।

ভিকটিমের দাদা নেকবর আলী মোল্লা বলেন, নাতনিকে ধর্ষণের ঘটনায় গত ৯ জানুয়ারি রাতে প্রতিবেশী আনোয়ারা বিবির নেতৃত্বে তাঁর বাড়িতে সালিসের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে এলেঙ্গা গ্রামের নাসির উদ্দিন, স্থানীয় কামাল হোসেন, সৈয়দ আলী সরদার, দীনু কবিরাজ, আব্দুল জলিল, বাবুল হোসেন লেদু, জিন্নাতুন নেছাসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, সালিসে ধর্ষণের কথা স্বীকার করায় তাঁকে জুতা পেটা করেন মাতবরেরা। পরে শিশুটির চিকিৎসার জন্য আট হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

সালিসের আয়োজক আনোয়ারা বিবি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি নিজেদের মধ্যে হওয়ায় নিষ্পত্তি করে দেওয়া হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনা সালিসে নিষ্পত্তি করে দেওয়া যায় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন আমরা গ্রামের মানুষ আইন বিষয়ে এতকিছু জানিনা।

এব্যাপারে মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিনুর রহমান বলেন, প্রথমে এ ধরণের কোনো ঘটনা আমার জানা ছিলো না বা এ বিষয়ে কেউ অভিযোগও করেননি। সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানার পর খোঁজ নিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় সুকৌশলে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার সকালে জেল হাজতে পাঠানো হবে।


Categories