“দুর্ভোগ তীব্র আকার ধারণ করায় বন্যার্তরা ত্রাণের নৌকা দেখলেই ছুটে আসছেন”

প্রকাশিত: ১১:১৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০২০

সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি সামান্য কিছু কমলেও বিপদসীমার ৬৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রভাহিত হওয়ায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। এতে করে হাহাকার বেড়েছে বন্যার্তদের মাঝে। হাজার হাজার মানুষ বন্যার কবলে পড়লেও ত্রাণের দেখা তেমন একটা মিলছে না। যা দেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগণ্য। 

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, শাহজাদপুর, চৌহালী, বেলকুচি, সদর ও কাজিপুর উপজেলার চরাঞ্চল ও গ্রামগুলোর ঘরবাড়িতে ২ সপ্তাহ ধরে পানি বিরাজমান থাকায় দুর্ভোগ আরও তীব্র আকার ধারণ করছে।

বিশেষ করে যমুনা তীরবর্তী বেলকুচি পৌর এলাকার অধিকাংশ মানুষ পানিবন্দী। ফলে কাজ না থাকায় উপার্জন হীনতায় দেখা দিয়েছে খাদ্যের অভাব। ঘরবাড়িগুলো তলিয়ে আছে ১ থেকে ৩ ফুট পানির নিচে। খাদ্যাভাবের পাশাপাশি নলকূপ ডুবে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকটন সাথে আছে পানিবাহিত রোগ।

ফলে, বেলকুচি পৌর এলাকার চরাঞ্চলের মানুষ নৌকা দেখলেই ছুটে আসছে ত্রাণের জন্য। গতকাল বিকেলে বন্যায় বিপর্যস্ত বেলকুচি পৌর এলাকার যমুনা তীরবর্তী দেলুয়া, রতনকান্দি, বাংগুয়া, সোহাগপুর, ক্ষিদ্রমাটিয়া এলাকা পরিদর্শন করে সরকারি বরাদ্দের ৫০ বস্তা বিভিন্ন শুকনো খাবার বিতরণ করেন পৌর মেয়র বেগম আশানুর বিশ্বাস।

এ সময় তাকে ঘিরে সাহায্যের আকুতি জানায় বানভাসি অসংখ্য মানুষ। বন্যায় সংকটে পড়া ছমিরন বেগম, আরদশ আলী ও ছালাম হোসেন জানান, ‘বন্যার পানিতে জমির সব ফসল তলিয়ে গেছে। খেয়ে না খেয়ে চলছে সংসার। এই অবস্থায় কোন সহযোগিতা আমরা পাইনি। এখানে আমরা হাজার-হাজার পরিবার বন্যা কবলিত। অথচ খাদ্য আনা হয়েছে মাত্র ৫০ প্যাকেট। তা দিয়ে কি হবে?’

তাদের এমন হাহাকার শুনে শান্তনা দেন মেয়র। উপজেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জনাব খোরশেদ আলমসহ অন্যান্য কাউন্সিলররাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে বেলকুচি পৌরসভার মেয়র বেগম আশানুর বিশ্বাস জানান, ‘পৌরসভার অধিকাংশ এলাকা যমুনা তীরবর্তী চরাঞ্চল। ১০ সহস্রাধিক পরিবারের জন্য মাত্র ৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার সরকারিভাবে বরাদ্দ মিলেছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় খুব সামান্য হওয়ায় আমরা মেয়র, কাউন্সিলররা বিরম্বনায় পড়েছি। সরকার ও আমরা মিলে করোনাকালে যথাসাধ্য খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছি। এখন সেই ভাবে বিত্তশালীরাও এগিয়ে আসছে না। তাই সব মিলিয়ে সবাই দুরাবস্থায় আছে।’

আর সরকারও কতইবা দেবে , সরকারেরও সীমাবদ্ধতা আছে। তাই তিনি সবাইকে যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী বন্যার্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে অনুরুধ জানান।