দারুণ এক জয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে জিম্বাবুইয়ানদের বাংলাওয়াশ করল তামিম বাহিনী।

প্রকাশিত: ১:৫৩ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০২১

দারুণ এক জয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে জিম্বাবুইয়ানদের বাংলাওয়াশ করল তামিম বাহিনী।

২৯৯ রানের লক্ষ্যমাত্রা, স্বাভাবিকভাবেই প্রথম ইনিংস শেষে ম্যাচটা জিম্বাবুয়ের দিকে হেলে পরে। আগে ব্যাট করতে নেমে ২৯৮ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ তোলে জিম্বাবুয়ে। ইনিংসের তিন বল বাকি থাকতে অলআউট না হলে তিন শ ছাড়াতে পারত জিম্বাবুইয়ানরা।

প্রথমেই উড়ন্ত জবাব শুরু হলো বাংলাদেশের। তামিম ইকবালের লড়াকু শতকের ওপর দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত হিমালয় জয় করল টাইগাররা। জিম্বাবুয়ের ছুড়ে দেওয়া ২৯৯ রানের পাহাড় বাংলাদেশ ডিঙাল দুই ওভার ও পাঁচ উইকেট হাতে রেখেই। দারুণ এই জয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে স্বাগতিকদের বাংলাওয়াশ করলেন তামিম বাহিনী।

জিম্বাবুয়ের ৩৬ রানে উদ্বোধনী জুটি বিচ্ছিন্ন হয়। ধাক্কাটা কোনোরকম সামলে ওঠে জিম্বাবুয়ে। ব্রেন্ডন টেলরকে নিয়ে বিপর্যয় সামাল দেন রেজিস চাকাবা। জুটি ভাঙে টেলর ব্যক্তিগত ২৮ রানে বিদায় নিলে। এরপর জমে ওঠে জিম্বাবুয়ের তৃতীয় উইকেট জুটি।

স্বাগতিকদের ১৪৯ রানে জুটি ভাঙেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ৩৪ রানে বিদায় নেন ডিয়ন মেয়ার্স। স্বাগতিক অধিনায়কও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের শিকার। খানেক বাদেই মাধভেরেকে আউট করেন মুস্তাফিজুর রহমান। এক প্রান্ত আগলে রেখে জিম্বাবুয়েকে বড় সংগ্রহের পথে নিতে থাকেন চাকাবা। আর ‌ব্যক্তিগত শতকের পথে হাঁটতে থাকেন তিনি।

তাসকিন আহমেদ চাকাবাকে শতক বঞ্চিত করেন; উড়িয়ে ফেলেন জিম্বাবুয়ে ওপেনারের স্টাম্প। ৯১ বলে সাত চার ও এক ছক্কায় ৮৪ রানে আউট হন চাকাবা। কিন্তু তাকে বিদায় করেও ঠিক স্বস্তিতে থাকতে পারল না বাংলাদেশ। মিডল অর্ডারের দুই ব্যাটসম্যান সিকান্দার রাজা ও রায়ার্ন বার্ল অনেকটা স্থির হয়ে যান উইকেটে। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে দুজন যোগ করেন ১১২ রান।

তিনটি করে নিয়েছেন সাইফুদ্দিন ও মুস্তাফিজ। মাহমুদউল্লার শিকার দুটি। খালি হাতে ফেরেননি তাসকিন, সাকিবও। তবে জিম্বাবুয়েকে অলআউট করলেও লক্ষ্যমাত্রা নাগালে রাখতে পারেননি বোলাররা। ব্যাটসম্যানদের অগ্নিপরীক্ষা মূল নেতৃত্বে ছিলেন ওপেনার তামিম।‌‌‌ তার দারুণ ব্যাটিংয়ে সহজ জয়ের পথে হাঁটতে থাকে বাংলাদেশ। সেঞ্চুরি তুলে নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ৯৭ বলে ১১২ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলে বিদায় নেন তামিম। আটটি চার ও তিনটি ছক্কায় ইনিংসটি সাজান তিনি। ৮৮ রানে টাইগারদের প্রথম উইকেটের পতন। লিটন ফেরেন ৩৭ বলে ৩২ রান করে। পরে সাকিব আল হাসান ও মোহাম্মদ মিঠুনকে নিয়ে মাঝারি মানের দুটি জুটি গড়েন তামিম। ১৪৭ রানে দলের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে সাজঘরে ফিরে যান নায়ক সাকিব।

আগের ম্যাচ জয়ের নায়ক সাকিব আজ ফিরেছেন ৪২ বলে ৩০ রানে। তার সমান রান করতে ৫৭ বল খরচ করেছেন মিঠুন। ২০৪ রানে দুই উইকেটে থাকা বাংলাদেশ হঠাৎই পরে যায় বিপদে। ৩৫তম ওভারে টিরিপানোর জোড়া ধাক্কা। তাতে লড়াইয়ে ফেরার স্বপ্ন দেখে জিম্বাবুয়ে।

পরপর দুই উইকেট হারানোর অস্বস্তি অবশ্য দূর করেছেন লোয়ার মিডল অর্ডারের দুই ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান ও আফিফ হোসেন। ৩৯ বলে ৪৫ রানে অপরাজিত থাকেন নুরুল। ইনিংসে ছিল ছয়টি চর। ১৭ বলে ২৬ রানে অজেয় থাকেন আফিফ। ইনিংসে তিনটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান তিনি। ষষ্ঠ উইকেটে এ দুজনের অবিচ্ছেদ্য জুটির ওপর দাঁড়িয়ে অনায়েসেই জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।

ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে উঠেছে টাইগার দলপতি তামিমের হাতে, অন্যদিকে সাকিব আল হাসান হয়েছেন সিরিজসেরা।

 


Categories