“তাহিরপুরে করোনাকালেও বিষাক্ত মাদকের ছড়াছড়ি”

প্রকাশিত: ১০:৫৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২০

সোহেল আহমদ সাজু , তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ-

তাহিরপুরে করোনাকালেও বিষাক্ত মাদকের ছড়াছড়ি।

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে করোনা কালেও বিষাক্ত মাদকের ছড়াছড়ি। উপজেলাসহ সীমান্তবর্তী এলাকার যুবসমাজ মাদকের বিষাক্ত ছোবলে বিপথগামী হয়ে উঠছেন। এখানকার মাদক ব্যবসায়ীদের উপর আইন-সৃংখলাবাহিনী মামলা দিয়েও ঠেকাতে পারছেনা এমন অশুভ প্রবণতা। কিছুদিন পরপর পুলিশ বিজিবি মাদক আটক করলেও মাদকের প্রবনতা কমছেনা, বরং করোনা কালেও মাদক বিক্রেতা ও মাদকসেবী দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত কিছুদিন আগে তাহিরপুর সীমান্তবর্তী কলাগাও বাজারে বিশাল ইয়াবা বিক্রির একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে এলাকার সচেতন মহল উদ্ধিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

সূত্রে জানা গেছে, তাহিরপুর উপজেলাটি সীমান্তবর্তী হওয়ায় নিত্য নতুন মাদকের থাবায় যুক্ত হচ্ছে স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বয়সের শ্রেণী পেশার মানুষজন। ইতোমধ্যে সীমান্তবর্তীসহ উপজেলার যেসব এলাকার মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মাদক মামলা দেয়া হয়েছে তারা জামিনে জেল থেকে বের হয়ে আবার বেপরোয়া হয়ে মাদক ব্যাবসায় জড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে করোনাকালে ¯’ানীয় পুলিশ ও বিজিবি ব্যস্ত থাকায় মাদক ব্যবসায়ীরা এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। মাঝে মধ্যে পরিত্যাক্ত অবস্থায় মাদক আটক হলেও ধরা ছোয়ার বাইরে থাকছে এর সঙ্গে জড়িতরা। অপরদিকে বছরে একবারও জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মাদক নিয়ন্ত্রনে জোড়াল কোন  ব্যবস্থা নিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

উপজেলার সচেতেন মানুষ মনে করেন, এখনেই শক্ত হাতে মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ধ্বংস হয়ে যাবে উপজেলার যুবসমাজ। তারা মনে করেন, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বিভিন্ন স্থানে সভা-সেমিনার করে এবং প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের খুঁজে বের করে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করলে মাদকদ্রব্য কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

তাহিরপুর সীমান্তবর্তীসহ উপজেলার বাদাঘাট, তাহিরপুর সদর, শ্রীপুর, কাউকান্দি, চাঁনপুর, চারাগাও, বড়ছড়া, লাকমা, লালঘাট. কলাগাও, বাগলী, আনোয়ারপুর, লাউড়েরগড়, ছিলা বাজার, বারেকটিলা, বালিয়াঘাট, একতা, জনতা বাজার সহ বিভিন্ন গ্রামেও মাদকের এখন ছড়াছড়ি। এসব স্পটে হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে মদ, গাজা, ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক দ্রব্য।

স্থানীয়রা জানান, সীমান্তবর্তী এলাকার কিছু গোপন স্থান আছে, যেখানে মাদকের বিরাট চালান এনে মজুদ রাখে মাদক ব্যবসায়ীরা। পরে সুযোগ বুঝে এসব মাদকদ্রব্য ছড়িয়ে দেয়া হয় জেলা শহরসহ গ্রামের আনাচে কানাচে। এখানকার মাদক ব্যবসায়ীরা বেশ সক্রিয়। পুলিশ বা বিজিবির হাতে মাদক ধরা পড়লেও নিয়ন্ত্রণকারীরা থাকে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। বর্তমানে যুবসমাজের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে মরণ নেশা ইয়াবা। মোবাইল ফোনে কল করলেই ইয়াবা মাদকসেবীদের হাতে তুলে দিচ্ছে মাদক বিক্রেতারা। এ ব্যবসায় এখন এক শ্রেনীর মহিলারাও জড়িয়ে পড়ছে।

তাহিরপুর থানার ওসি মো. আতিকুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের কোন ছাড় নেই। পুলিশ যখনেই মাদকের কোন সন্ধান পাচ্ছে, তখনেই এসব আটক করছে এবং থানায় নিয়মিত মামলা দিচ্ছে। পুলিশের পাশাপাশি এলাকার তরুন, যুবকদের মাদক নির্মলে এগিয়ে আসার আহব্বান জানান তিনি।

সুনামগঞ্জ বিজিবি ২৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মাকদুদুল আলম বলেন, সীমান্ত এলাকায় এখন বিজিবি কড়া নজরধারীতে আছে। যেহেতু দুইদেশেই এখন করোনার প্রাদুর্ভাব তাই এখানে কোন ছাড় নয়। বিজিবি প্রত্যেকদিনেই সীমান্ত এলাকায় মাদক আটক করছে এবং মামলা দিচ্ছে। তিনি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রনে বিজিবির পাশাপাশি এলাকার সচেতন মহলকেও এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

 


Categories