তাহিরপুরে আবারো বন্যা, জনজীবিন বিপর্যস্ত

প্রকাশিত: ৮:৪৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০২০

সোহেল আহমদ সাজু ,তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে তৃতীয় বারের মতো আবারো বন্যা দেখা দিয়েছে। সীমান্তনদী যাদুকাটা সহ নদ নদীর পানি বিপদ সীমার ৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়েু প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যাশ্রয় কেন্দ্রে দেড় শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। উপজেলার নদ-নদী ও হাওরে পানি বৃদ্ধি পেয়ে শতাধিক গ্রামের মানুষ পানি বন্ধি হয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলার বাজার, মসজিদ, মন্দির স্কুল, কলেজ সহ গ্রামের পর গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়ে মানুষ দুর্বিসহ জীবন-যাপন করছেন। মঙ্গলবার সকাল থেকে বসত ঘর ও বাড়িতে পানি প্রবেশ করায় দূর্গম হাওর এলাকার অনেকের ঘরে রান্নার কাজ হচ্ছে না। শুকনো খাবার সংগ্রহ করে তারা কোন রকম জীবন বাঁচাচ্ছেন। গত এক সপ্তাহ ধরে অতি বৃষ্টি আর পাহাড়ী ঢলে আনোয়ারপুর ও সত্তের খলা নামক স্থানে রান্তা ভেঙ্গে তাহিরপুর সদরের সঙ্গে জেলা শহরের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। অপরদিকে গ্রামীন অবকাঠামো, রাস্তাঘাট ও তাহিরপুর সীমান্ত সড়ক পাহাড়ী ঢলে ভেঙ্গে গেছে। উত্তাল ঢেউয়ে হাওর এলাকার বসত বাড়ী ঘর ভেঙ্গে যাচ্ছে
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ১৮ হাজার ২শ ৭০টি পরিবার বন্যায় আক্রান্ত হয়েছেন। প্রায় দেড় শতাধিক পরিবার বন্যাশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। পানিতে ডুবে ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, আনোয়ারপুর বাজার, তাহিরপুর বাজার হতে ঠাকুরহাটি আখঞ্জি বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা, তাহিরপুর থানা সম্মূখ হতে রায়পাড়া রাস্তা, যাদুকাটা নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোর বসত বাড়িগুলো ৩ থেকে ৪ ফুট পানির নীচে, তাহিরপুর লামাবাজার, শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের বালিয়াঘাট নতুন বাজার, শ্রীপুর বাজার, বালিজুড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণকূল, আনোয়ারপুর, পাতারি, তিওর জালাল, লোহাচুরা, বড়খলা, মাহতাবপুর বাদাঘাট ইউনিয়নের ঘাগড়া, ঘাগটিয়া, পাঠানপাড়া, গড়কাটি উত্তর বড়দল ইউনিয়নের রজনীলাইন, রাজাই, শান্তিপুর, চানপুর, দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের পুরান খালাস, সাদেরখলা, চতুর্ভজ, কাউকান্দি, জামলাবাজ তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের জামালগড়, চিকসা, গোবিন্দশ্রী, গাজীপুর, টাকাটুকিয়া দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের মারালা, সুলেমানপুর, নায়ানগর, রাজধরপুর, পৈন্ডপ, নোয়াগাঁও, সন্তোষপুর, ভবানীপুর, ইকরামপুর, পাঠাবুকা, লামাগাঁও, দুমাল, ভবানীপুর, শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের, বাগলী, ইন্দ্রপুর, মন্দিয়াতা সহ শতাধিক গ্রাম।

শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের মন্দিয়াতা গ্রামের সানজু মাষ্টার, তরং গ্রামের দেলোয়ার তালুকদার জানান, অতি বৃষ্টি আর হাওরে উত্তাল ঢেউয়ের গ্রামের অধিকাংশ ঘরবাড়ী, রাস্তাঘাট ভেঙ্গে নিশ্চিন্ন হয়ে গেছে। গ্রামের প্রায় পরিবারেই শনিবার সকাল থেকে রান্নাবান্নার কাজ করতে পারছে না। বাধ্য হয়েই তারা শুকনো খাবার সংগ্রহ করে খাবারের চাহিদা মেটাচ্ছেন।
দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের রামসিংহপুর গ্রামের খোকন মিয়া বলেন, গ্রামের প্রতিটি উঠান ও বসতঘরে পানি উঠার কারণে গোয়াল ঘরের গরু রাতদিন পানির উপর দাঁড়িয়ে আছে। এতে করে গবাদিপশু মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী এমরান হোসেন বলেন, যাদুকাটা নদী উপচে বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী শ্রক্রবার পর্যন্ত ভারি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভবনা আছে।
তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেকের ভারপ্রাপ্ত টি এইচ ডা. ইকবাল হোসেন জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকেই তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ তিন ফুট পানির নীচে পড়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পদ্মাসন সিংহ বলেন, আমরা উপজেলা দুর্যোগ কমিটির জরুরী সভা করেছি। অতি বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছে। মানুষের বাড়িঘরে পানি উঠছে। বন্যার্তদের জন্য শুকনো খাবারের প্যাকেট পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হচ্ছে।


Categories