টাঙ্গাইলে বন্যা পরিস্হিতির অবনতি ; বাড়ছে জনদূর্ভোগ

প্রকাশিত: ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৬, ২০২০
টাঙ্গাইলের যমুনা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় (২৫ জুলাই) ১১ সেমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সিমার ৮৬ সে.মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নতুন করে আবারো বাড়ছে পানি। নতুন নতুন গ্রাম প্লাবিত হয়ে অসহায় হয়ে পড়ছে বানভাসি মানুষ। এসব বানভাসি মানুষের মাঝে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিলেও সরকারি বেসরকারি কোন প্রকার ত্রাণ সহায়তা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের।

টাঙ্গাইল পৌরসভার এনায়েতপুর এলাকার তাসলিমা বেগম দুই সন্তান ও স্বামী নিয়ে বসবাস করতেন তিনি। স্বামী রফিকুল ইসলাম বিভিন্ন স্কুলের সামনে ভ্যানে করে ফুসকা, চটপটি ও আচার বিক্রি করে তার সংসার চালাতেন এবং এই রোজগারের টাকা দিয়েই তাদের দুই সন্তানকে স্কুলে পড়াতেন।

গত প্রায় ৪ মাস যাবত মহামারি করোনা ভাইরাসে স্কুল কলেজ বন্ধ হওয়ায় তাসলিমা বেগমের স্বামী রফিকুল কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। কখনও কখনও দিন মুজুরের কাজ করে সামান্য কিছু রোজগার হলে তা দিয়েই সংসারের বাকী সদস্যদের খাবারের ব্যবস্থা করতেন এক বেলা খেয়ে আরেক বেলা না খেয়ে চলছিলো তাদের সংসার।

এরই মধ্যেই আবার ১ মাস ধরে বন্যার কবলে পরে চরম বিপাকে পরতে হচ্ছে তাদের। ঘরের ভিতরেই কোমর পানি। টিউবওয়েলটিও তলিয়ে বিশুদ্ধ পানির অভাব দেখা দিয়েছে। হাস মুরগি ও ছাগল নিয়ে চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে তাদের। তাসলিমার মতো আশপাশের আরও হাজার হাজার মানুষ পানি বন্ধী হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

জেলার ১০টি উপজেলা বন্যা কবলিত হয়ে  প্রায় ৫ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেকে বাড়ি ঘর ছেড়ে রাস্তার পাশে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিলেও হাস মুরগি গরু ছাগল নিয়ে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে বানভাসী মানুষ। এসব মানুষের মাঝে শুকনো বিশুদ্ধ পানি ও খাবার  তীব্র সংকট দেখা দিলেও  কোন প্রকার ত্রাণ সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ বানভাসি মানুষদের।


Categories