জোয়ারের পানিতে ডুবছে চট্টগ্রামের “মা ও শিশু হাসপাতাল”

প্রকাশিত: ১২:০২ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০২০
এম. ইউছুফ | চট্টগ্রাম
এদিক ওদিক কোন দিকই খালি নেই, সবদিকে শুধু পানি আর পানি। ভেতরে-বাইরে, উত্তর -দক্ষিণ কিংবা পূর্ব -পশ্চিম বাদ নেই কোন দিক। চারিদিকেই তো থৈ থৈ পানি। দেখে যেন মনে হয় নদীতে ভাসমান জাহাজ দাঁড়িয়ে আছে।
সমস্যা শুধু এবছর নয়, প্রতি বছরই তা ঘটে বর্ষা মৌসুম এলে। এমনটাই চিত্র মেলে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে।
বন্দরনগরী চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে রোগীদের সেবা দিতে শুরু হয়েছিল মা ও শিশু হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম। যা সাড়ে তিন যুগ আগের কথা। কিন্তু বর্তমান সময়ে এসে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে একটু বৃষ্টি আর জোয়ার একসাথে হলেই ব্যাহত হয়  চিকিৎসা সেবা।
এপথ চলায় ধারাবাহিকভাবে সেবার মান বাড়িয়ে যাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। একের পর এক খোলা হয়েছে নতুন নতুন বিভাগ। বাড়েছে সেবার পরিধি। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। বর্ষা এলে যুগ যুগ ধরে এই অত্যাধুনিক সেবা বিছিন্ন হয়ে পড়ছে। কারণ জোয়ার আর বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় প্রায় বন্ধ থাকছে মা ও শিশু হাসপাতালের নিচতলার সেবা কার্যক্রম। দুর্ভোগ পোহাতে হয় সেবা নিতে আসা জনসাধারণকে।
অনুসন্ধানে জানাযায়, ২০১১ সালের পর থেকেই শুরু এ জলাবদ্ধতা। কালের পরিক্রমায় দিনের পর দিন এর পরিধি আরো বাড়তে থাকে।বর্ষার মৌসুমে প্রায়ই এ সমস্যায় পড়তে হয় রোগী ও তাদের স্বজনদের। সামান্য বৃষ্টিতেই নিচতলার জরুরি বিভাগ, অভ্যর্থনা বিভাগ, টিকিট কাউন্টার, লিফট রুম, বর্হিবিভাগ, প্রশাসনিক বিভাগ ও এবাদত খানা ডুবে থাকে পানিতে। বছরের পর বছর ঘূর্ণিঝড়ের সময় টানা জলবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সুত্রে জানা যায়, সমস্যা সমাধানে নিচের ফ্লোর আড়াই ফুট উঁচু করা হয়েছে। এই ফ্লোর আর উঁচু করার জায়গা নাই। তাছাড়া সবদিকে দেয়াল উঁচু করা হয়েছে তবুও জোয়ারের পানি আসছে। এই সমস্যা সমাধানে প্র‍য়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা।’ এই বিড়ম্বনার হাত থেকে বাঁচতে নতুন ভবনে রোগী হস্তান্তরের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু  করোনার কারণে তা হয়ে উঠেনি।