“জীবন ও জীবিকা” : জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে. পিংকু দাশ

প্রকাশিত: ২:১৩ অপরাহ্ণ, জুন ৩০, ২০২০

মানুষের সাথে মানুষের এমন নিষ্ঠুর  সম্পর্ক আমরা আগে কখনো দেখিনি। করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে যাচ্ছে সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধ। করোনা সন্দেহে মাকে জঙ্গলে ফেলে গেল তার সন্তানরা।করোনা আক্রান্ত পিতার মুখাগ্নি করতে অনীহা দেখায় পুত্র। আপনজন এগিয়ে না আসায় বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে দাফন কাফনের ব্যবস্থা হচ্ছে। কী নির্মম!!

ঘাতক ব্যাধি করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সারাবিশ্বে লকডাউন চলছে। বিপর্যয়ের হাত থেকে দেশের অর্থনীতি রক্ষা করার জন্য অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশে ও সীমিত আকারে লকডাউন তুলে নেয়া হলেও শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনো পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। কারণ ভাইরাসে সংক্রমণ ও মৃত্যুহার এখনো উদ্বেগজনকভাবে ঊর্ধ মুখী। এর ফলে হুমকির মুখে পড়েছে বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা। ছাত্রছাত্রীদের বাসায় রেখে বিকল্প পাঠদানের চিন্তা চলছে। একদিকে মহামারীতে অনেক লোকের মৃত্যু অন্যদিকে খাদ্যসংকট ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়, সবমিলিয়ে করোনা ভাইরাস মূলত শাঁখের করাত। মানুষ বাঁচলে দেশ বাঁচবে, আবার দেশ বিপদে পড়লে মানুষের জীবন ও বিপন্ন হবে।

জীবনও জীবিকা দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু জীবিকার প্রশ্নে জীবন যাতে দুর্বিষহ না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে করোনা ভাইরাস আগামী ছয়মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত থাকতে পারে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) এর মধ্যেই পূর্বাভাস দিয়েছে সারাবিশ্বে কোটি কোটি মানুষ তাদের পূর্ণকালীন চাকরি হারাতে যাচ্ছেন। তাই অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশে ও অনির্দিষ্টকালের জন্য লকডাউন রাখার সুযোগ নেই। আবার লকডাউন তুলে নিলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। সবার আগে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতি দূর করতে হবে। জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

চিকিৎসা সেবা প্রত্যেকটা নাগরিকের মৌলিক অধিকার। কিন্তু বর্তমানে সরকারি বেসরকারি হাসপাতালগুলোর বিপর্যস্ত চিকিৎসা সেবা উদ্বিগ্ন করার মত। অনেককে হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করতে দেখা গেছে।

তাই লকডাউন পরিপূর্ণভাবে তুলে নেয়ার আগে আমাদের এই সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে।আর যাদেরকে বাধ্যতামূলক ঘরের বাইরে যেতে হচ্ছে, তাদেরকে বিশ্ব স্বাস্থ্য পরামর্শ মত সুরক্ষা বিধি মেনে চলতে হবে। মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করা এবং হাত ধোয়া এই তিনটি জিনিস অবশ্যই সবাইকে মেনে চলতে হবে। না মানলে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করতে হবে। কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সরকার এককভাবে এই সমস্যা সমাধান করতে পারবে না।

লেখক ঃ প্রভাষক, অর্থনীতি

বোয়ালখালী হাজী মোঃ নুরুল হক ডিগ্রি কলেজ।