জামানত ছাড়াই দেশে শুরু হচ্ছে ‘ডিজিটাল ঋণ’

প্রকাশিত: ১:১৩ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২২, ২০২০

দেশে প্রথমবারের মতো চালু হতে যাচ্ছে ডিজিটাল ঋণ বিতরণ সেবা। ‘একটি পাইলট’ প্রকল্পের আওতায় বেসরকারি সিটি ব্যাংক এবং মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশ এটি চালু করছে। এর মধ্য দিয়ে কোনো ধরনের জামানত ছাড়াই সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সিটি ব্যাংকের এই ঋণ বিকাশের গ্রাহকরা তাৎক্ষণিকভাবে পেয়ে যাবেন। এক্ষেত্রে ৯ শতাংশ হারে সুদ ধরা হয়েছে।

এ বিষয়ে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন বলেন, সরকারের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির কার্যকর সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এবং ব্যাংক ঋণকে প্রযুক্তির সহায়তায় আরো জনমুখী করতেই এ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এ কাজে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনও রয়েছে।

তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে যেকোনো মানুষের জরুরি অর্থের প্রয়োজন হলে তারা যেন তাৎক্ষণিকভাবে ন্যূনতম অর্থটি পায়। সে জন্যই বিকাশের সহায়তায় এ প্রকল্পটি চালু করা হয়েছে। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের জামানত লাগবে না।

যেকোনো সময় যেকোনো স্থান থেকে মোবাইল ওয়ালেটের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে এই ঋণ পাওয়া যাবে জানিয়ে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, সবার আগে দেশে এই সেবা চালু করতে পেরে গর্বিত। আজ থেকে চার-পাঁচ বছর পর এই ডিজিটাল ঋণ সেবা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে বিশ্বাস করি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের বেঁধে দেয়া ৯ শতাংশ সুদেই এই ঋণ বিতরণ করা হবে। প্রাথমিকভাবে পাইলট প্রকল্পের আওতায় সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত এই ডিজিটাল ঋণ গ্রহণের সুযোগ পাবেন নির্বাচিত বিকাশ অ্যাপ গ্রাহক।

ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে, ঋণ নেয়ার পরবর্তী তিন মাসে সম-পরিমাণ তিন কিস্তিতে নির্ধারিত তারিখে গ্রাহকের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ওই টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিশোধিত হয়ে যাবে। অবশ্য পরিশোধের তারিখের আগে এসএমএস এবং অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকের নম্বরে এ সংক্রান্ত নোটিফিকেশন চলে যাবে।

জানা গেছে, পাইলট প্রকল্পে ঋণ পাওয়ার জন্য নির্বাচিত গ্রাহকদের বিকাশ অ্যাপে ঋণ বা লোন নামে একটি অপশন থাকবে। সেখানে গিয়ে গ্রাহককে তার ই-কেওয়াইসি ফরমে (নো-ইয়োর কাস্টমার ফর্ম) বিকাশে দেয়া তথ্য সিটি ব্যাংককে দেয়ার সম্মতি দিতে হবে। পরে ঋণের পরিমাণ এবং নিজের পিন দিতে হবে। তখন সঙ্গে সঙ্গেই বিকাশ অ্যাকাউন্টে ঋণের টাকা চলে আসবে।

ডিজিটাল ঋণ গ্রহণকারীরা নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করছেন কি না, তা মূল্যায়িত হবে। পরবর্তীতে ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে এই মূল্যায়ন বিবেচিত হবে। আর যদি কোনো গ্রাহক ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে নিয়ম অনুসারে সিটি ব্যাংক তার ঋণ খেলাপির তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাবে।

এই প্রকল্পে গ্রাহকদের এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্রেডিট অ্যাসেসমেন্ট সুবিধা দেবে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আলিবাবা গ্রুপের অ্যাফিলিয়েট ‘অ্যান্ট ফিনান্সিয়াল’। তারা চীন, ভারত, ফিলিপাইনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই সুবিধা দিয়ে থাকে।

প্রকল্পের সফল সমাপ্তি শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদনক্রমে বিকাশ গ্রাহকদের জন্য এই সেবা আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করে দেয়া হবে বলে জানান সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন।


Categories