জাতীয়করণ আন্দোলন ও ফেসবুক প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

প্রকাশিত: ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৫, ২০২০

আজকাল ফেসবুক খুললেই শিক্ষকদের দাবী নিয়ে হাজার হাজার পোস্ট দেখা যায়। যথারিতি সবাই লাইক কমেন্ট শেয়ার করে সবার মত আমি ও করি। কারন এটা আমাদের অধিকার ন্যায্য দাবী ফেসবুক টা কে আমরা মিডিয়া হিসাবে ব্যবহার করি।

১। কিন্তু ইদানিং দেখা যায় যে অনেকেই চৌকিদার, দারোয়ান , প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিয়ন, ঝাড়ুদার এদের সাথে বেতন কিংবা চাকুরী তুলনা করে নিজেদের বেতন উল্লেখ করে পোস্ট দিচ্ছেন যা আমাদের পেশাগত দিক বিবেচনা করলে পেশার প্রতি যেমন অবমুল্যায়ন তেমনি নিজেকে চরম ভাবে ছোট করা।

(মানুষ বা চাকুরি কোনটাতেই ঐ সব পেশার লোকদের কে আমি ছোট করে দেখিনা বরং তাদেরকে শ্রদ্ধা করি।)

কারন আমরা যারা শিক্ষক তারা সবাই সর্বচ্চো ডিগ্রীধারী। অর্থ না থাকলেও আছে সামাজিক মর্যাদা যা হয়তো অনেক অর্থ থাকলে ও অনেকের পক্ষে পাওয়া সম্ভব নয়। আমরা যদি ভিখারির মত চাই এবং নিজেদের দৈন্যদশা মানুষ কে জানাই তাতে আমাদের ভাবমুর্তি ক্ষুন্য হওয়া ব্যতিত কোন লাভ হবে না। তাই সবার প্রতি অনুরোধ নিজের আত্মমর্যাদা বিসর্জন হয় এমন পোস্ট থেকে বিরত থাকবেন।

২। আমরা অনেকেই মনে করি ফেসবুক বা অনলাইন আন্দোলনের প্লাটফর্ম তাই আমরা ঘরে বসে আন্দোলনের অনেক কথা বলি ফেসবুকেই দাবী আদায় করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। প্রশ্নহলো এটা কি দাবী আদায়ের যায়গা?
একটা কথা মনে রাখবেন হার্ট কপি ছাড়া যেমন সফট্ কপি মূল্যহীন তেমনি মাঠের আন্দোলন ছাড়া ভার্চুয়াল আন্দোলন ও মূল্যহীন। তবে এটা সত্য এবং অস্বীকার করার উপায় নাই যে ফেসবুক বা অনলাই এখন আমাদের নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ ও দাবী আদায়ে ঐক্যবদ্ধ করতে অপরিসীম ভুমিকা পালন করছে। নিজেদের যোগাযোগ রক্ষা করা এবং মত বিনিময়ের মাধ্যম ও মাঠের আন্দোলন কে বেগবান করতে এটিকে আমরা মিডিয়া হিসাবে ব্যবহার করবো। এখানে মাঠের আন্দোলন কে নস্যাৎ করতে ফেসবুকে যারা বাহবা নেওয়ার জন্য কর্মসূচি দেই তাদের কে চিনে রাখা দরকার।

৩। জাতীয়করণ আমাদের যেমন দাবী তেমনি দাবীটি সময়োপযোগী।
তাই পদ পদবীর লেভে কিংবা নেতা হওয়ার জন্য আমরা যেন আর বিবেদ সৃষ্টি না করি। আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে জাতীয়করণ বাস্তবায়ন সময়ের ব্যাপার।

৪। সিনিয়র নেতাদের প্রতি সন্মান রেখেই বলছি শিক্ষায় দীর্ঘ দিনের বৈষম্য অথচ আপনারা নিরব ছিলেন কেন? কেন আমাদের কে আজ মাঠে নামতে হল?
এখন কথা বলছেন এ কথা গুলো যদি আগে বলতেন এবং কাজ করতেন তাহলে আমরা মাথায় তুলে রাখতাম।
তবুও মুখ খুলে দাবীর কথা, জাতীয়করণের কথা বলায় আপনাদের কে ধন্যবাদ।

৫। এখন দুর্যোগকালীন সময় তাই আমরা যতই দাবির কথা বলি আসলে বাস্তবায়ন করা করা কঠিন তাই এখন দাবির চেয়ে মনুষের পাশে থেকে সরকার কে সহযোগিতা করা শিক্ষক হিসাবে আমাদের দায়িত্ব।
পরে বড় মুখে আমরা সরকারের কাছে দাঁড়াতে পরবো।

৬। আগামীতে কিভাবে নিজেরা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে আমাদের অধিকার নিয়ে আন্দেলন করবো এবং দাবী আদায় করবো সেই পরিকল্পনা করি ও সবার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করি।

৭। প্রেসক্লাবের ১৯ দিনের অনশনের প্রত্যক্ষ চিত্র থেকে বলি যতটা ফেসবুক আপনারা সরব সবাই যদি বিবেদ না করে আন্দোলনে যোগদিতেন তাহলে জাতীয়করণ হতেও পারতো।

আমার লেখায় কেউ ভূল বুঝবেন না। আমি আপনাদের মত জাতীয়করণ আন্দোলনের একজন কর্মী ।
সবাই দাবীর কথা বলুন বীরদর্পে। গর্জে উঠুন। আমরাই পরবো । আল্লাহ এই দুর্যোগ থেকে সবাইকে হেফাজত করুন।

ধন্যবাদান্তে,
জি,এম শাওন