জাতীয়করণ দাবিতে মহাসমাবেশ ও ১৯দিনের অনশন পালনকারী বাবেশিকফোর ৩য় বর্ষপূর্তি

প্রকাশিত: ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৯, ২০২০

২৮/৭/২০২০ মঙ্গলবার পালন করা হলো শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের একদফা দাবী নিয়ে শিক্ষক কর্মচারীদের কল্যাণে পাশে থাকা একমাত্র শিক্ষক সংগঠন বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারি ফোরামের  তৃতীয় বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান। বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে  ২৮/০৭/২০২০ তারিখ সন্ধ্যা ৭:৩০ ঘটিকায় কেন্দ্রীয় নেতুবৃন্দের  এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের সভাপত্বি করেন সংগঠনের সভাপতি সাইদুল হাসান সেলিম।  আলোচনায় নেতৃবৃন্ধ ফোরামের অতীতের বিভিন্ন সাফল্য তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।

“সকল নাগরিকের শিক্ষার সমান অধিকার নিশ্চিত করন, একমাত্র সমাধান শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ ” এই শ্লোগান নিয়ে বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী তথা শিক্ষার বৈষম্য দুর করতে ও ৪% অতিরিক্ত কর্তন বন্ধের প্রতিবাদে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষক কর্মচারীদের সাথে ফেসবুকের মাধ্যমে যোগাযোগ করে ১৪ জুলাই ২০১৭ তারিখে ঢাকায় একটি মিটিং অনুষ্ঠিত হয় এবং সেই মিটিংএর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১৭ সালের ২৮ জুলাই ঢাকার সুনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কুর্মিটোলা স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে এক বিশাল সমাবেশের মাধ্যমে একঝাঁক তরুন শিক্ষকদের সমন্বয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ দেলোয়ার হোসেন মিয়া নেতৃত্বে বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে।
একদফা দাবী শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ এর লক্ষ্য নিয়ে বাবেশিকফো সকল সংগঠনের মধ্যে ঐক্য গড়ার লক্ষ্যে সকল সংগঠন কে পত্র ও ফোনে ঐক্যের আহবান জানান। কিন্তু সংগঠন গুলোর কোন সাড়া পাওয়া যায় নি তাই বাবেশিকফো নিরব না থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সরকার কে আলটিমেটাম দেওয়া হয় এবং আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষনা করা হয়।
তারই ধারাবাহিকতায় স্মারকলিপি প্রদান, মানব বন্ধন , বিক্ষোভ সমাবেশ সহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সাথে যোগাযোগ, এবং বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে সংগঠন। জাতিয়করণের একদফা দবী নিয়ে ২০১৭ সালের ১৯ অক্টোবর সকল বাধা অতিক্রম করে বাবেশিকফো ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় তথ্য উপদেষ্টা জনাব ইকবাল সোবাহান চৌধুরী কে প্রধান অতিথি করে এবং জাসদ সেক্রেটারি জনাব শিরিন আক্তার (এম.পি)কে বিশেষ অতিথি করে প্রায় লক্ষাধিক শিক্ষক কর্মচারীদের উপস্থিতিতে এক বিশাল মহাসমাবেশ করে বাবেশিকফো।
সেই সমাবেশে অতিথিবৃন্দ আশ্বাস দেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে তারা জাতীয়করনের দাবির বিষয়ে কথা বলে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করবেন। সরকার কে ৩১ডিসেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত সময় দিয়ে আলটিমেটাম দেওয়া হয় এর মধ্য জাতীয়করণ না করলে ফোরাম কঠোর কর্মসূচি গ্রহন করবে। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ অতিক্রম হলে ফোরাম কোঠোর কর্মসূচী গ্রহণ করে। এবং জাতীয়করণের দাবিতে ঐক্য প্রক্রিয়ায় ৬ টি সংগঠনের জোট গঠন করা হয়। জোটের নাম করনকরা হয় এমপিও ভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ লিয়াঁজো ফোরাম। সেই কর্মসূচি অনুযায়ী ১০ জানুয়ারী ২০১৮ সালে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে জাতীর জনকের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে শহিদ মিনারে অবস্থান করতে চাইলে পুলিশি বাধার মুখে অবস্হান করতে হয় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে।
প্রথমে অবস্হান কর্মসূচি পরে অনশন এবং আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করা হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধর্মঘট ঘোষনা করা ।
কিন্তু দুঃখের বিষয় সেসময় শিক্ষক সংগঠন গুলো এ শিক্ষকদের পাশে না দাড়িয়ে এ আন্দোলন কে নস্যাৎ করতে প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে এবং অন্য একটি সংগঠন মানববন্ধন করে। এছাড়া ও ছিল না শিক্ষকদের অধিকার রক্ষার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ।
এর মাঝে জোটের অংশিদার এমপিও ভুক্ত মাধ্যমিক শিক্ষা লিয়াঁজো কমিটির ছিল না কোন অংশগ্রহন। জোটের শরিক শিক্ষক সমিতি (নজরুর) ও দৈনিক শিক্ষা আন্দোলন কে নস্যাৎ করতে চক্রান্ত শুরু করে।

সরকার হতে বার বার চাপ আসে উঠে যাওয়ার জন্য। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো প্রতিনিধির মাধ্যমে জাতীয়করনের বিষয়ে আলোচনার আশ্বাস পেয়ে। এবং ৫% প্রবৃদ্ধি ও বৈশাখি ভাতা জুলাই ২০১৮ হতে কার্য্যকর করার প্রতিশ্রুতি পেলে অনশন কর্মসূচি স্হগিত করা হয়। এর পর অতিরিক্ত ৪% কর্তনের চিঠি দিলে আবারো বিভিন্ন কর্মসুচি পালন করা হয়। চাপের মুখে চিঠি প্রত্যাহার করা হলেও অবসর ও কল্যানের সচিবদের প্রচাষ্টায় অবৈধ কর্তন করা হচ্ছে।
কিন্তু থেমে নেই ফোরাম নেতাদের দিয়ে আদালতে রিট করা হয় কর্তন বন্ধ করতে।
বর্তমান সময়ে করোনার মহামারীর কারনে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এ মামলা টি পেন্ডিং অবস্হায় আছে । ফোরাম বিশ্বাস করে রায়ে এ অবৈধ কর্তন বন্ধ হবে। মুজিববর্ষে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের জন্য ফোরাম সংবাদসম্মেলন করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সাথে কুটনৈতিক তৎপরতা চালায়। কিন্তু বিশ্বব্যাপী করোনার মহামারীর জন্য সকল পরকল্পনা ও কার্যক্রম স্হবির হয়ে যায়।ফোরামের নেতৃবৃন্দ প্রত্যাশা করছে খুব তারাতারি এসংকট দুর হবে এ বেশিকদের তথা ছাত্রছাত্রীদের সকল বৈষম্য দুর করবে সরকার। করোনার এই সময় ছাত্রছাত্রীদের কথা ভেবে ফোরাম অনলাইন স্কুল চালু করেছে। ফোরাম নির্যাতিত শিক্ষক কর্মচারীের পাশে দাড়িয়ে প্রতিবাদ ও বিচার নিশ্চিত করতে সহযোগীতা করছে।
৫ লক্ষ শিক্ষাক কর্মচারীর মনের কথা দুঃখ ব্যাথা তুলে ধরতে ও শিক্ষার মান উন্নয়নে ভুমিকা রাখতে ইতঃমধ্যে ফোরাম ” দৈনিক আমাদের ফোরাম” নামে একটি জাতীয় অনলাইন পত্রিকা চালু করেছে।
যা দেশ ব্যাপি শিক্ষকসমাজ সহ সবার মাঝে সাড়া জাগিয়েছে।কলেজ শিক্ষকদের অনুপাত প্রথা বিলুপ্তিকরন ও ১০ বছর পর ৭ তম গ্রেডের দাবি সহ ১২ দফা জানিয়ে সংশোধন কমিটির কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে।
করেনার। এই ক্রান্তিকালে বড় কোন কর্মসুচি পালন করার সুযোগ না থাকায়। ফোরাম ভার্চুয়াল মিটিং করে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহন করছে।
ফোরাম একটি গণতান্ত্রিক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী পেশাজীবী সংগঠন। তাই ফোরাম শিক্ষক কর্মচারীদের সকল সময় পাশে থাকতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।


Categories