“জন্মদিন মানেই জীবন থেকে একটি বছর চলে গিয়ে মৃত্যুর কাছাকাছি এগিয়ে যাওয়া”

প্রকাশিত: ৯:৩০ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩০, ২০২০

জন্মদিন মানেই জীবন থেকে একটি বছর চলে গিয়ে মৃত্যুর কাছাকাছি এগিয়ে যাওয়া।

মিডিয়ায় যারা কাজ করেন তাদের জন্য এটাই হয়তো চিরাচরিত নিয়ম।  নতুন মুখ হয়ে আসেন। একের পর এক নিজের ভালো ভালো কাজের মাধ্যমে তিনি দর্শকপ্রিয় হয়ে উঠেন। আবার সময়ের আবর্তনে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজ যেমন কমতে থাকে; ঠিক তেমনি অনেকে দর্শকের কাছ থেকে দিন দিন চলে যেতে থাকেন দূরে।  কিন্তু  ববিতা একেবারেই ব্যতিক্রম। তিনি যেন চিরন্তন এক রূপ এবং গুন নিয়ে যেমন আমাদের মাঝে এসেছেন, ঠিক তেমনি তিনি তার কাজ দিয়ে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গল্পে গল্পে ঠিকই আমাদের মাঝে রয়ে গেছেন। যেই ভালো লাগা আর ভালোবাসা মনে ঠাঁই দিয়ে চলচ্চিত্রে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছিলেন সেই ভালোবাসা থেকেই এখনো কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। যেন কোথাও তার এতটুকুও ক্লান্তি নেই। হয়তো এ কারণেই তিনি ববিতা।

হঠাৎ করেই যেন ববিতা একটু চুপচাপ হয়ে গেছেন। এর অবশ্য কারণও আছে বেশ কয়েকটি। দেশে করোনায় সার্বিক পরিস্থিতি, চলচ্চিত্রাঙ্গনের মন্দাবস্থা এবং সর্বোপরি নিজেকে সিনেমায় অভিনয় থেকে দূরে রাখা। সব মিলিয়েই ববিতা এখন একটু চুপচাপ। আজ তার জন্মদিন। তবে নেই কোনো পরিকল্পনা।

ববিতা বলেন, ‘জন্মদিন এলেই আমার মন খারাপ হতে থাকে। কারণ জন্মদিন আসা মানেই এই নয় যে খুব আনন্দের বিষয়। জন্মদিন মানেই হচ্ছে জীবন থেকে আরো একটি বছর চলে যাওয়া। জন্মদিন আসা মানেই হচ্ছে মৃত্যুর কাছাকাছি এগিয়ে যাওয়া।

তাই জন্মদিন এলেই এসব বিষয় আগে অনুভব হয় আমার। তারপর খুব মনে পড়ে বাবা আর মায়ের কথা। আর এখন খুব মিস করি অনিককে। বিগত বেশ কয়েকটি বছর কানাডায় অনিকের সঙ্গে জন্মদিন উদযাপন করেছি। কিন্তু এই বছর সবমিলিয়ে আর কানাডায় যাওয়া হলো না। করোনার কারণে বিশ্বের সার্বিক পরিস্থিতিই আসলে অনুকূলে নয়। যে কারণে এবারের জন্মদিন আর আমার আদরের অনিকের কাছে যাওয়া হচ্ছে না। তবে অনিকের সঙ্গে সব সময়ই আমার স্কাইপিতে কথা হয়। তাই অনিক যে দেশে নেই, তেমনটা খুব মনে হয় না।’

কততম জন্মদিন—এ প্রসঙ্গে ববিতা বলেন, ‘থাক না অজানা আমার এ বয়সের কথা। সত্যি বলতে কী মেয়েরা কখনোই নিজের বয়সের কথা বলতে চান না। আমিও চাই না আমার বয়সটা কেউ জানুক। তবে বুঝতে পারি দিনে দিনে বয়স বেশ ভালোই বেড়ে গিয়েছে।’

এবারের জন্মদিন নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই ববিতার। এর আগে তো ডিসিআইআইর পক্ষ থেকে সমাজের অসহায় বঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে নিয়ে দিনটি তিনি একটু অন্যভাবে উদযাপন করতেন। কিন্তু এখন করোনার কারণে সেই সুযোগটিও নেই।

উৎস- প্রতিদিনের সংবাদ


Categories