জনবল কাঠামো স্পষ্টীকরণ ও শিক্ষকদের ভাবনা

প্রকাশিত: ৩:৩৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ৭, ২০২০

১২ জুন , ২০১৮ তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমাল জারী করা হয়। এ নীতিমালার ২৪ এর (গ) তে বলা আছে – “সরকার জনস্বার্থে এ নীতিমালা সংশোধন করতে পারবে।” তাছাড়া কিছু কিছু বিষয় আছে যা স্পষ্ট নয়, তা সরকার সময়ে সময়ে স্পষ্টীকরণ ও ব্যাখ্যা করবে। যেহেতু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত শিক্ষক-কর্মচারীগণ জনগণের স্বার্থে নিয়োজিত এবং শিক্ষক-কর্মচারীগণও জনতার কাতারে পরে তাই এ নীতিমালার কিছু বিষয় পরিবর্তন ও সংশোধন হওয়া বাঞ্চনীয় মনে করেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। এর বাইরেও কিছু বিষয় আছে যা পরিবর্তনের জন্য শিক্ষক-কর্মচারীগণ বিভিন্ন সময় আন্দোলন ও সরকারের নিকট দাবী জানিয়ে আসছে। তারা মনে করছেন এসব দাবী যৌক্তিক এবং ন্যায্য পাওনা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালার স্পষ্টীকরণ বা সংশোধন নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকগণের আলোচনাকে সামনে রেখে শিক্ষক-কর্মচারীগণের এসব যৌক্তিক দাবী আরও জোড়ালো হচ্ছে। সবচেয়ে বেশী আলোচিত কয়েকটি দাবী নিম্নে উল্লেখ করা হল :

১। পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা : শিক্ষক-কর্মচারীগণ আংশিক ঈদ বোনাস বা উৎসব ভাতা পেয়ে আসছেন যা সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের সাথে একটা বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে। করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে সকল প্রতিষ্ঠানের আয় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এমতাবস্থায় শিক্ষক-কর্মচারীগণ পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা প্রাপ্তির আশা করছে।

২। উচ্চতর গ্রেড : নীতিমালার ১১.৫ এ বলা আছে ”শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীগণ তাদের এমপিও ভুক্তির তারিখ হতে ১০ বছর পূর্ণ হলে পরবর্তী উচ্চতর বেতন গ্রেড প্রাপ্য হবেন এবং পরবর্তী ৬ বছর পর পরবর্তী বেতন গ্রেড প্রাপ্য হবেন।” এখানে দাবী হল : এ নিয়ম সহকারী প্রধান ও প্রধান শিক্ষক এবং উপাধ্যক্ষ ও অধ্যক্ষগণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পদে এমপিও ভুক্তির পর থেকে যেন একই নিয়মে কার্যকর থাকে।

৩। ৫:২ প্রথা বাতিল : নীতিমালার ১১.৪ উপধারাটি প্রভাষকদের ভাগ্যের উপর ন্যস্ত করেছে। কেউ আট বছর পর সহ: অধ্যাপক আবার কেউ সারা চাকুরী জীবনে প্রভাষক হিসেবেই থাকবেন। তাই প্রভাষকগণ দীর্ঘদিন যাবৎ এই ৫:২ প্রথার বাতিলের জন্য দাবী জানিয়ে আসছেন।

৪। ৮ম গ্রেডের স্কেল পুণঃনির্ধারণ : একজন সহকারী শিক্ষক ২২০০০ টাকা বেতনে চাকুরী করে একটি ইনক্রিমেন্ট পেলে বেতন হয় ২৩১০০ টাকা। ঐ শিক্ষকই যদি সহ: প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন তখন ২৩০০০ টাকা বেতন পান যা সহ: শিক্ষককের তুলনায় কম। এ সমস্যা নিরসনে শিক্ষকগণ ৮ম গ্রেডের বেতন স্কেল যৌক্তিক হারে বৃদ্ধি করে পুণঃনির্ধারণের দাবী জানিয়ে আসছেন। প্রভাষকদের ক্ষেত্রেও একই কথা। ১০ বছর চাকুরী করার পর উচ্চতর স্কেল পেয়ে বেতন বৃদ্ধি ১০০০ টাকা। অথচ ইনক্রিমেন্ট পেয়ে ১০ বছর পর বেতন বৃদ্ধি পাবে প্রায় ১৪০০০ টাকা। এ ধরণের জটিলতা নিরসনের উপায় হচ্ছে পূর্বে প্রাপ্ত ইনক্রিমেন্ট পরবর্তী বেতন স্কেলের সাথে যোগ করে বেতন নির্ধারণ করা।

৫। যৌক্তিক হারে বাড়ী ভাড়া প্রদান : ১০০০ টাকা বড়িী ভাড়া ও ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা মোটেই যুক্তি সঙ্গত নয় । শিক্ষক-কর্মচারীগণের দীর্ঘদিনের দাবী সরকারি শিক্ষকগণের ন্যায় যৌক্তিক হারে বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা প্রদান করা।

এছাড়াও বদলি নীতিমালা প্রনয়ণ ও কার্যকর , প্রতিষ্ঠানের সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা কমপক্ষে স্নাতক পাস, এসএমসি মেম্বারদেরও একটি শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণসহ সরকারী – বেসরকারী সকল বৈষম্য দূর করার দাবী জানিয়ে আসছেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছেন- “ শিক্ষা ক্ষেত্রে বিনিয়োগের চেয়ে উত্তম বিনিয়োগ আর নাই।” তাই তিনি যুদ্ধ পরবর্তী বিধ্বস্ত দেশের সকল প্রাথমিক শিক্ষা একযোগে জাতীয়করণ করেছিলেন। শিক্ষক-কর্মচারীদের দাবী সমূহ যৌক্তিক এবং তা কার্যকর করা দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে অসম্ভব নয়। এসব বৈষম্য দূর করে শিক্ষক-কর্মচারীদের যৌক্তিক দাবী সমূহ মেনে নিলে শিক্ষার ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী।


Categories