জনদুর্ভোগ ও লুকোচুরিতে শেষ হলো উত্তর কাট্টলীর লকডাউন

প্রকাশিত: ৭:০২ অপরাহ্ণ, জুলাই ৭, ২০২০
জামাল হোছাইন,
জেলা প্রতিনিধিঃ
জুলাই ৭, ২০২০
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উত্তর কাট্টলী ১০নং ওয়ার্ড লকডাউনের শেষ দিন আজ (মঙ্গলবার)। গত ১৬ জুন দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে ২০ দিন ধরে চলে লকডাউনে থাকা এলাকাবাসীর দুর্ভোগ ও প্রশাসনের সাথে লুকোচুরি। এরপরেও আক্রান্তের সংখ্যা বিবেচনায় লকডাউনটি কার্যকর ও সফল হয়েছে দাবি সংশ্লিষ্টদের। কেননা লকডাউন চলাকালীন সময়ে এ ওয়ার্ডটি ইয়েলো (হলুদ) জোনে পরিণত হয়েছে। তবে প্রশাসন জনগণের ভোগান্তির কথা ভেবে পাড়াভিত্তিক লকডাউনের জন্য মন্ত্রণালয়ের সম্মতির অপেক্ষা করছেন। লকডাউন দেয়ার আগে এ উত্তর কাট্টলী ১০নং ওয়ার্ডসহ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আরো ৯টি ওয়ার্ডকে রেড (লাল) জোন ঘোষণা করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গত ১৬ জুন দিবাগত রাত ১২টা থেকে উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডটি লকডাউন করা হয়। লকডাউনের শুরুতে প্রশাসনের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল রেড জোন এলাকার কল-কারখানা ও দোকানপাট। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে আবার ওয়ার্ডটি স্বাভাবিক হয়ে আসে। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাধারণ ছুটি নিশ্চিত করতে না পারায় প্রশাসনকে বেগ পেতে হয়েছে মানুষকে ঘরে রাখতে। তবে দূর্ভোগে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষেরা। সাধারণ ছুটি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কর্মকর্তা শিমুল সূত্রধর বলেন, ‘সরকার উত্তর কাট্টলীর এলাকা রেড জোন করে লকডাউন করেছে। অথচ সরকারি অফিসে লকডাউন এলাকার মানুষের জন্য সাধারণ ছুটি নিশ্চিত করেনি। ফলে আমাকে অফিস করতে হয়েছে। আর আমি যদি অফিস না করতাম, তাহলে আমার কাজগুলো আমার জন্যই জমা পড়ে থাকতো।’ নিম্নআয়ের মানুষের দুর্ভোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে লাভলু নামের এক দোকানদার বলেন, ‘লকডাউন দেয়ার পরে সপ্তাহ-দশদিন আমরা দোকান খুলতে পারিনি। আমরা তো ছোট দোকানে অল্প বেচা-বিক্রি করেই চলি। আমাদের ইনকাম (উপার্জন) যদি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে আমরা আমাদের পরিবার নিয়ে কিভাবে বাঁচবো।’ লকডাউন শেষ হওয়ার আগে দোকান খোলার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘লকডাউন দিয়ে সব বন্ধ করে দিয়েছে, পেটের ক্ষুধা তো বন্ধ করতে পারেনি। আমরা পরিস্থিতি বুঝে দশদিন পরে দোকান খুলেছি। কিন্তু আমার দোকান রিকশা গ্যারেজের পাশে। এখানকার অনেক রিকশাওয়ালা বাড়ি চলে গেছে। তাই আমার বেচা-বিক্রিও অনেক কমে গেছে।’ প্রথম সপ্তাহের পর দৃশ্যত বাঁশ দিয়ে প্রবেশপথগুলো বন্ধ থাকলেও শেষের দিকে লকডাউনের কোনো বালাই ছিল না। মানুষের যাতায়াত ছিল অবাধ। লকডাউনের ১৪ দিন পর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডের ৬টি কারখানা খুলে দেওয়া মানুষের অবাধ যাতায়াত বাড়তে থাকে এবং কমতে থাকে পুলিশের টহল। উত্তর কাট্টলীর বর্তমান অবস্থা জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বী বলেন, ‘আমরা উত্তর কাট্টলীতে লকডাউন ঘোষণা করে কার্যকরী সুফল পেয়েছি। লকডাউন চলাকালীন সময়ে মাত্র ১৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এলাকাটি এখন হলুদ জোনে পরিণত হয়েছে। তবে আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) লকডাউন শেষ হওয়ার পরই আমরা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবো।’ প্রসঙ্গত, উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডে গত ১৬ জুন দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে ২১ দিনের লকডাউন শুরু হয়। লকডাউন দেয়ার আগে ১৪ দিনে উত্তর কাট্টলীতে করোনা সংক্রমিত ছিলেন ১০১ জন, যা প্রতি লাখ জনসংখ্যার হিসাবে ১৪৫ দশমিক ৫ শতাংশ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাইড লাইন অনুযায়ী, প্রতি এক লাখ জনসংখ্যায় ১৪ দিনে ৬০ বা এর অধিক লোক সংক্রমিত হলে তাকে লাল জোনে এবং ৩ থেকে ৫৯ জনের মধ্যে সংক্রমিত হলে হলুদ জোন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ওয়ার্ডটির মোট জনসংখ্যা ৮০ হাজার ২৯০ জন। প্রতিলাখে ৬০ জন আক্রান্ত হলে লাল জোনে, সে হিসেবে উত্তর কাট্টলীর জনসংখ্যার বিপরীতে ১৪ দিনে ৪৮ জন সংক্রমিত হলে লাল জোন হিসেবে বিবেচিত হতো। কিন্তু ১৯ দিন পর এই এলাকায় সংক্রমিত মাত্র ১৬ জন। তাই গাইড লাইন অনুযায়ী তা হলুদ জোনে। লকডাউন শুরুর পর সার্বক্ষনিক মনিটরিং ও স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয়তায় এবং ২৪ ঘন্টার মধ্যে নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ায় সহজ হয়েছে।

 


Categories