“ছেলে করোনা সন্দেহে বাবাকে ফেলে গেল , উদ্ধার করলো পুলিশ”

প্রকাশিত: ১:১৯ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০২০

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় বাস টার্মিনালের পরিত্যক্ত স্থানে করোনা সন্দেহে সোবাহান আলী (৭০) নামে এক বৃদ্ধকে  রেখে পালিয়ে যায় তার ছেলে। শ্বাসকষ্ট নিয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা বৃদ্ধকে উদ্ধার করে পুলিশ।  হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে ইতোমধ্যে তাকে কিছুটা সুস্থ করে তোলা হয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) রাতের কোনো এক সময় উল্লাপাড়া পৌর বাস টার্মিনালে পরিত্যক্ত একটি স্থানে ফেলে রাখা হয় বৃদ্ধকে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ভোর রাতে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। বৃদ্ধ সোবাহান আলী উপজেলার কয়ড়া ইউনিয়নের গয়হাট্টা মানিকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তার একমাত্র ছেলের নাম নজরুল ইসলাম নবীন।

উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক কুমার দাস মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, বৃদ্ধের শ্বাসকষ্ট ছিল। তিনি কথা বলতে পারছিলেন না। এ অবস্থায় করোনা ভাইরাস সন্দেহ হওয়ায় তার পাষণ্ড ছেলে নজরুল ইসলাম নবীন সবার অগোচরে তাকে বাস টার্মিনালের পরিত্যক্ত স্থানে রেখে পালিয়ে যায়।

পরিত্যক্ত ওই স্থানে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়তে থাকা বৃদ্ধটি পৌর এলাকায় টহল পুলিশের নজরে আসে। টহল পুলিশের উপ-পরিদর্শক নুরে আলম সিদ্দিকী বৃদ্ধকে উদ্ধার করে পিকআপ ভ্যানে তুলে উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান এবং সেখানে চিকিৎসা ও খাবারের বন্দোবস্ত করেন।

তিনি বলেন, সন্তান হয়ে বাবার সঙ্গে এমন আচরণ সত্যিই অমানবিক। বিষয়টি পুলিশ টের না পেলে পরিত্যক্ত ওই স্থানে শেয়াল কুকুরের আহারে পরিণত হতে পারতেন বৃদ্ধ। আমরা বৃদ্ধের ছেলে নজরুল ইসলামের সন্ধান পেয়েছি। তিনি নিজ বাড়ি ছেড়ে নাটোরে তার নানির বাড়ি পালিয়ে গেছেন। আপাতত দেখাশোনার জন্য বৃদ্ধের সৎ ভাইকে হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

উল্লাপাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আনোয়ার হোসেন  বলেন, করোনা সন্দেহে ওই বৃদ্ধকে ফেলে রেখে যায় তার ছেলে। তবে তার শরীরে করোনার কোনো উপসর্গ আমরা পাইনি। তিনি সিজেফ্রোনিয়াসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। পুলিশ তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর পর কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তার নমুনাও পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি অনেকটাই সুস্থ আছেন।


Categories